Image description

দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এবারের জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে প্রথমবারের মতো গণভোটও আয়োজন করা হয়।

নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল নির্বাচনে অংশ নেয়। তবে ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ৪২টির কোনো প্রার্থীই বিজয়ী হতে পারেননি। কেবল ৯টি দলের প্রার্থীরা সংসদে আসন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছেন।

৪২ দলের ভরাডুবি
নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫১ দলের মধ্যে ৪২ দল কোনো আসনেই জয়লাভ করতে পারেনি। অনেক দলই শতাধিক আসনে প্রার্থী দিলেও শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় দলকেন্দ্রিক মেরুকরণ, জোটভিত্তিক নির্বাচন এবং কৌশলগত ভোটিংয়ের কারণে ছোট ও নতুন দলগুলো কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি।

ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব পাচ্ছে মাত্র ৯টি রাজনৈতিক দল ও কিছু স্বতন্ত্র সদস্য। বাকি ৪২ দলের জন্য এবারের নির্বাচন হয়ে থাকলো হতাশার অধ্যায়।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি- এলডিপি, জাতীয় পার্টি-জেপি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি, গণতন্ত্রী পার্টি, জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, জাকের পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, গণফোরাম, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, বাংলাদেশ জাতীয় পাটি ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ। 

এছাড়াও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ, ইসলামী ফ্রন্ট, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ,বিএমএল, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম, বাংলাদেশ কংগ্রেস, ইনসানিয়াত বিপ্লব, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পাটি (বিএসপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পাটি), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি), বাংলাদেশ লেবার পাটি, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), জনতার দল, আমজনতার দল, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি) ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পাটি কোনো আসন পায়নি। 

বিএনপি জোটের নিরঙ্কুশ জয়
২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ২১২টি। এর মধ্যে এককভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পেয়েছে ২০৭ আসন। জোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) পেয়েছে একটি, গণঅধিকার পরিষদ একটি এবং গণ সংহতি আন্দোলন একটি আসন লাভ করেছে। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসনে প্রার্থী দেয় বিএনপি। দলটি ২৯৩ আসনে প্রার্থী দেয় এবং বাকি ৭ আসন জোটের শরিকদের জন্য ছেড়ে দেয়।

জামায়াত জোটের অবস্থান
নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৭ আসন। এর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এককভাবে পেয়েছে ৬৯ আসন। এছাড়া এনসিপি পেয়েছে ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) ২টি এবং খেলাফত মজলিস (ঘড়ি) পেয়েছে একটি আসন। জামায়াত এবারের নির্বাচনে ২২৪ আসনে প্রার্থী দেয় এবং বাকি আসন জোটের জন্য ছাড়ে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রাপ্তি
এবারের ভোটে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ৬টি আসন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) পেয়েছে একটি আসন। একটি আসনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবারের নির্বাচনে ২৬৮ আসনে প্রার্থী দেয়, যা বিএনপির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।