নানান শঙ্কা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে অবশেষে সম্পন্ন হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটারদের উৎসবমুখর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
পাশাপাশি দিনভর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অনিয়ম ও জাল ভোটের অভিযোগে কিছু কেন্দ্রের ভোট স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করেন বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ নেতারা। তবে সবাই ভোটের পরিবেশ নিয়ে মোটামুটি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। নিজেদের জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জুলাই আন্দোলনের পরে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হওয়ার দাবি ছিল। নির্বাচনে বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংসতার কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অনেক জায়গায় অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ ছিল। কালো টাকার বিপুল ছড়াছড়ি হয়েছে। ঋণখেলাপিদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়নি। তারপরও একটি ভোট হয়েছে। এটি মোটামুটি সুষ্ঠু বলা যায়। তবে চূড়ান্তভাবে কারা জয়ী হয়, বা কারা সরকার গঠন করে সেটি দেখার বিষয়।
রেকর্ড ভোটার ও নারীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো
সর্বশেষ ক্ষমতাসীন আওয়ামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও এবারের নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক। বেশিরভাগ কেন্দ্রেই ছিল নারী ও তরুণ ভোটারদের দীর্ঘ সারি। শহর-গ্রাম সর্বত্রই একই ছিত্র। অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বিকালে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার হোসেন সংবাদ সম্মেলনে জানান, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৯ কেন্দ্রে ৩২ দশমিক ৮৮ শতাংশ ভোট পড়েছে।
পুরুষ ভোটারদের লাইন, ছবি: তানভীর হাসান দিনভর বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির যত অভিযোগ
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ না আনলেও সারা দেশে কেন্দ্র দখল, জালভোট ও এজেন্ট বের করে দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন এবং নির্বাচন কমিশনে নালিশ নিয়ে যান ১১ দলীয় জোটের দুই আলোচিত দল। আর বিএনপিও সংবাদ সম্মেলন করে নানা অভিযোগ আনে।
দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন অভিযোগ করেন, একটি চিহ্নিত রাজনৈতিক দল ভোটের আগের রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ভোটারদের মনে ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। সেই সঙ্গে কালোটাকার মহোৎসব, জালিয়াতি এবং বিভিন্ন স্থানে আগে থেকেই সিল মারা ব্যালট পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এসবের পরও নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় পেতে চলেছে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।
বিকালে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, কুমিল্লা-৯ আসনের লাকসাম ও কুমিল্লার বরুড়া এলাকার কয়েকটি ভোটকেন্দ্র থেকে জামায়াতের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিজের আসন ঢাকা-১৫-এর মনিপুর গার্লস স্কুলকেন্দ্রে বিপক্ষের সমর্থকরা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছিল। তবে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি অনিয়মের অভিযোগে কুমিল্লা-৮, শরীয়তপুর-২ ও পটুয়াখালী-১ এই তিনটি আসনের ভোট স্থগিতের দাবি জানান।
অপরদিকে তাদের মিত্র জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নানা অভিযোগ নিয়ে কয়েক দফা সংবাদ সম্মেলন করে। দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে ভোট রিগিং বা ভোট জালিয়াতি এবং ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন প্রধান উপদেষ্টা, ছবি: নাসিরুল ইসলাম বিচ্ছিন্ন ঘটনায় উত্তাপ
নির্বাচনে সারা দেশে বেশ কয়েকটি আসনে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও কুমিল্লায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও তাতে ভোট বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।
এর বাইরে অসুস্থতাজনিত কারণে কয়েকটি জেলায় এক পোলিং কর্মকর্তাসহ অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ঢাকার আলোচিত আসনগুলোর একটি ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা অভিযোগ করেন, তার পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ফরিদপুরে টাকা দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে একজন পোলিং এজেন্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির বিচারক।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আগানগর ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে একজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে এক পোলিং কর্মকর্তা ও খুলনায় ভোটকেন্দ্রের বাইরে জামায়াত কর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির মধ্যে একজন বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া মানিকগঞ্জ-১ আসনের মহাদেবপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে ভোট দিতে গিয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রামের কাজীর দেউরি বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও ভোট দিতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক ভোটারের মৃত্যু হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বরিশাল, ভোলা ও নরসিংদীতে তাদের লোকজন হামলার শিকার হয়েছেন।
এদিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে বেলা ১২টার দিকে একের পর এক ককটেলের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে ভোটাররা ছোটাছুটি শুরু করে। তবে পরে বিজিবি ও সেনা সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
কুমিল্লা-১০ আসনের লালমাই উপজেলার চৌদ্দদোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে ধানের শীষের মার্কায় সিল মারার চেষ্টা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। তবে সিল মারা কোনও ব্যালট বাক্সে ঢোকাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. আমজাদ হোসেন।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম বেলা তিনটার দিকে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। তিনি তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং জালভোট দেওয়ার অভিযোগ করেন।
ময়মনসিংহ-১১ আসনের একটি ভোটকেন্দ্রে প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার ঘটনায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও দুই পোলিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার। যশোর সদর আসনের পৌর এলাকার একটি কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার সিল চুরি ও দীর্ঘক্ষণ ব্যালট না থাকার ঘটনায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
হাসনাত আবদুল্লাহর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর ভোট বর্জন
কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি সমর্থিত ও গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিন। বিকালে ভোটগ্রহণের শেষ সময়ে এই বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি।
আসনটিতে ঋণখেলাপির অভিযোগে বিএনপির মনোনীত মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। সর্বশেষ ৪ ফেব্রুয়ারি গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিনকে সমর্থন দেয় বিএনপি।
ভোটগ্রহণের শেষ সময় বিকাল সাড়ে ৪টায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি। এতে জসিম উদ্দিন বলেন, আজকে আপনারা দেখেছেন, আমাদের বড়শালঘর, রসুলপুর, ইউসুফপুর, সুবিল, মাশিকারা, ফতেহপুর ইউনিয়নগুলোতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ব্যালট বাক্স ছিনতাই করা হয়েছে। আমাদের এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মী যারা কেন্দ্রে গিয়েছিল, তাদের আহত করা হয়েছে। আমাদের কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে, সারা দিন টাকা দিয়ে ভোট কিনেছে। এখন শেষ মুহূর্তে এসে তারা নিজেরা নিজের ভোট কাটছে। আমি দেবীদ্বারের জনগণের সার্বিক বিষয়ে বিবেচনা করে বিএনপি সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে এই নির্বাচনকে বর্জন করলাম।
ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছেন জেন জি ভোটাররা, ছবি: আহাদুল করিম খান
যে কথা স্বীকার করলেন ইসি সচিব
নির্বাচনে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করেছেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, মূলত কেন্দ্রের বাইরে এগুলো হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে ইন্টারসেপ্ট করার কারণে কোনও ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত বা বন্ধ করা হয়নি। আশঙ্কাজনক কোনও পরিস্থিতি নেই।
তিনি জানান, কুমিল্লা-১১ আসনের একটি কেন্দ্রে নারীদের একজনের ভোট আরেকজনকে দেওয়ার অভিযোগ, আরেক জায়গায় ১০ জন একসঙ্গে ভোট দিচ্ছেন—এরকম ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাকে জানান, আমি এখনই ব্যবস্থা নেবো। এটা যদি হয়ে থাকে নিন্দনীয়। ভোট পড়ার হার নিয়ে নির্বাচন কমিশন সন্তুষ্ট কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর তো জবাব আপনারা (গণমাধ্যম) দেবেন। আমরা তো চাইবোই যে টার্নআউট বেশি হোক। আপনারাই বলেন যে এটাতে আমাদের সন্তুষ্ট হওয়া উচিত কিনা বা আপনারা সন্তুষ্ট কিনা?
তিনি আরও বলেন, যেখানেই অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেখানেই পদক্ষেপ নিয়েছে ইসি।
ভোটারদের ধন্যবাদ জানালেন প্রধান উপদেষ্টা
সকালে ঢাকা-১৭ আসনে ভোট দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়—তিনি বলেছেন, এই নির্বাচন আমাদের জন্য মহা আনন্দের ও উৎসবের।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
এতে তিনি উল্লেখ করেন, এর মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের এক অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু হলো। এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ছিল। এই ধারা ধরে রাখা সম্ভব হলে আমাদের গণতন্ত্র উৎকর্ষের শিখরে যাবে।
তিন শীর্ষ নেতার আশাবাদ ও কেন্দ্র পাহারার নির্দেশ
ভোটগ্রহণ শেষে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি তিনটি দলের শীর্ষ নেতাই জয়ের ব্যাপারে নিজেদের আত্মবিশ্বাসের কথা জানান। পাশাপাশি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভোটকেন্দ্র ছেড়ে না যাওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সকালে গুলশান মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি জয়লাভের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ তাদের অধিকার ফেরত পেয়েছে। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলে জনগণের রায় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে। তিনি নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্রে থাকার আহ্বান জানান।
অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকার মিরপুরের মনিপুরে তার কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছেন। তিনিও নেতাকর্মীদের কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানান।
আর নিজের আসনে ভোট দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, তারা জয়ী হওয়ার জন্যই ১১ দলীয় জোট গঠন হয়েছে। তারা সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে। তিনিও নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।