ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামালের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বারিবাড়ি গিয়ে ভোটারদের ২০০ টাকা দিয়ে চাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে । অনেক ভোটার টাকা নিতে আপত্তি জানালেও তাদের হাতের মুঠোয় টাকা গুজে দেন জামালের কর্মীরা। টাকা দিতে যেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে বাকবিতন্ডার খবর পাওয়া যায় ।
সরেজমিনে দেখা যায়, জামালের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে এলাকা ভিজিট করেন। ভোটারদের লিস্ট ধরে ধরে কাঠালিয়া সদর, পতিখালঘাটা, আমুয়া, সেন্টারের হাট, আওরাবুনিয়া, দোগোনা বাজার, ছয়ঘর, পশ্চিম শৌলজালিয়া, বীণাপাণি বাজার, কচুয়ায় মঙ্গলবার রাতে এবং বুধবার দিনে ভোটারদের জনপ্রতি ২০০ টাকা দিতে দেখা যায়। বিশেষ করে, গ্রামের সহজ সরল ভোটারদের টাকার মাধ্যমে প্রভাবিত করেন।
এদিকে রাজাপুর উপজলার সাতুরিয়া, মঠবাড়ি, রাজাপুর সদর, গালুয়ায়, বরইয়া ইউনিয়নে ভোটারদের প্রতি ভোট ২০০ টাকার বিনিময় ধানের শীষে ভোট দেয়র প্রতিশ্রুতি নেন। অনেক ভোটাররা এসময় আপত্তি জানালে তাদেরকে বলেন, এ টাকা দিয়ে চা-পান খাবেন ।
দোগোনা বাজার থেকে ছয়ঘর, এতিমখানা, নবলক্ষী এলাকায় টাকা বিতরণ করেন পল্লী চিকিৎসক মোশাররফ খান, তার ভাতিজা ফোরকান খান, রিফাত খানসহ, সোহেলসহ আরও একাধিক ব্যক্তি । সেন্টারেরহাট ভোটারদের বাড়ি টাকা দেন ইউনুসসহ একাধিক ব্যক্তি । দোগনা বাজার থেকে পশ্চিম শৌলজালিয়া টাকা বিতরণ করেন অলিউল্লাহ হাওয়ালাদার, ফেরদৌস, রুবেলসহ আরো একাধিক কর্মীর বিরুদ্ধে ।
কাঠালিয়া সদরে টাকা বিতরণ করেন জুয়েল, ইমরানসহ অনেকেই । ভোটারদের একইভাবে রাজাপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নে ভোটারদের গত রাতের আঁধারে টাকা দেন জামালের নেতাকর্মীরা । স্থানীয় একজন ভোটার বলেন, আজকে যারা আমাদের বাড়িতে এসেছে আমি তাদের নাম জানি না । আমার হাতে টাকা দিয়ে বলে জামাল ভাইর ধানের শীষে ভোট দিয়েন । তাহমিনা নামে এক নারী ভোটার বলেন, আমি কোনো ভাবে টাকা নেয় ভোট দিব না। তাদের বলছি আপনারা অন্যায় কাজ করছেন।
নির্বাচন কমিশনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোটারদের নগদ টাকা বিতরণের বিষয়ে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হক জানান, জামায়াতের দাড়িপাল্লায় গণজোয়ার দেখে বিএনপির প্রার্থী পাগল হয়ে গেছেন । এ কারণে তিনি রাতের আঁধারে শুধু নয় বুধবার দিনেও বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মী দিয়ে ২০০ টাকা করে বিতরণ করে ভোট কিনেন । আমরা ইতিমধ্যে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর দায়িত্বরত অফিসারদের জানিয়েছি ।
ফয়জুল হক আরও বলেন, আমার প্রতিপক্ষ দলের প্রার্থীর নেতাকর্মীরা বরইয়ার পালটে ১ জন জামায়াত এবং ১ জন ইসলামী আন্দোলনেরর কর্মীর উপর হামালা করেন। আমি বিশ্বাস করি আমার এলাকার জনগন কোনো টাকার বিনিময় ভোট দিবেন না। তারা ন্যায় ও ইনসাফের ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিবেন। কোনো ধরনের অপচেষ্টা সফল হবে না।
বিএনপির রফিকুল ইসলাম জামালকে ফোনে পাওয়া না গেলেও ফেসবুকে তাকে বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার আপডেট দিতে দেখা গেছে । এসময় তিনি বিএনপির বিদ্রোহী অংশের টাকা বিতরনের কথা বলেন। তিনি দাঁড়িপাল্লার ফয়জুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।