Image description
 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহবুব আলম বলেছেন, জনগণ অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। ১১ দলীয় জোট বিকল্প শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই জোটে কোনো ঋণখেলাপী নেই, চাঁদাবাজ নেই, সন্ত্রাসী রাজনীতির চর্চা নেই। আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই মানুষ নতুন বাংলাদেশ গড়তে, সংস্কার বাস্তবায়ন করে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সুন্দর একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণে এই জোটকে ভোট দিবে। আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সাথে আলাপ কালে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ বারবার গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা রেখে ভোট দিয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে গত ৫৪ বছর আমাদের জনগণ ভোট দিয়ে প্রতারিত হয়েছে। ক্ষমতায় গিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। দুর্নীতি, দখলদারিত্ব, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।২০০১ সালেও মানুষ পরিবর্তনের আশায় ভোট দিয়েছিল। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে যে শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিল, তা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিস্তার মানুষকে হতাশ করেছিল।

এনসিপির এই নেতা বলেন, আমি মনে করি, এই দীর্ঘ প্রতারণার চক্র ভাঙার সময় এসেছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশ একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে। জুলাই-আগস্টে তরুণদের নেতৃত্বে যে গণআন্দোলন হয়েছিল, তা শুধু একটি সরকারের পতন নয়, এটি ছিল অন্যায়, স্বৈরাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান। এর প্রেক্ষিতে আমরা চাই এমন একটি সংসদ, যেখানে নীতিনিষ্ঠ ও দক্ষ প্রতিনিধিরা থাকবেন; যারা ব্যক্তিস্বার্থ নয়, রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেবেন।

তিনি আরও বলেন, দেশবাসীর প্রতি প্রত্যাশা থাকবে, আপনারা যেন আর কোনো চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ বা দায়িত্বহীন নেতৃত্বের হাতে দেশ তুলে দিয়েননা। যারা সংকটের সময় দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যায়, জনগণের কষ্টের সময়ে পাশে থাকে না, তাদের বিরুদ্ধে জনগণের জবাব দেওয়ার সময় এখনই। দেশটা আমাদের সবার। সবারই দায়িত্ব নিতে হবে। সুন্দর বাংলাদেশ গঠনে আসুন আমরা তরুণদের পক্ষে ভোট দেই। সংস্কারের পক্ষে ভোট দেই। বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দেই। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিপক্ষে ভোট দেই। যারা আপনাদেরকে ছেড়ে লন্ডনে চলে গেছে তাঁদেরকে লাল কার্ড দেখানোর এখনই সময়।