‘বিএনপিকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে আসলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। খেলা যে চলছে কোন লেভেলে। ইনশাআল্লাহ, ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত।’-এমন দাবিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ধরনের কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে ভিডিওটি পুরনো।
আলোচিত ভিডিওটিতে মিয়া গোলাম পরওয়ারকে বলতে দেখা যায়, ‘ধানের শীষের বিজয় নিয়ে ইনশাআল্লাহ আপনারা ঘরে ফিরে আসবেন। দোয়ার আবেদন রাখছি, ধানের শীষের জন্য ভোটের আবেদন রাখছি, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, ধানের শীষের জয় হোক, আস্সালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহি ও বারাকাতুহু।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিএনপি সংশ্লিষ্ট একাধিক ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ১১ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। সর্বশেষ এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, ভিডিওটি উল্লিখিত প্রোফাইল থেকে অন্তত ২৮ হাজার বার ভিউ হতে দেখা গেছে। এছাড়াও হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ২ শতাধিক বার শেয়ার করা হয়েছে ভিডিওটি।
প্রচারিত ভিডিওটি ইনভিডে কী-ফ্রেম বিশ্লেষণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইউটিউবে ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বরের একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটি দেখুন এখানে।
বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে আসার দাবিতে প্রচারিত ভিডিও এবং পুরনো ভিডিওটি উভয়ের ক্ষেত্রেই মিয়া গোলাম পরওয়ারের পেছনে একই রঙের পর্দা থাকতে দেখা যায়। অন্যান্য বাহ্যিক অবয়বেও দুটি ভিডিওতে হুবহু মিল পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, ২০১৮ সালের ২৮ নবেম্বর তারিখে ‘বিএনপি জোটের মনোনয়ন পেলেন জামায়াতের যে নেতারা’ শিরোনামে প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে জানানো হয়, ‘২০১৩ সালের ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। গত (২০১৮ সালের) ২৮ অক্টোবর জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাই দল হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ নেই জামায়াতের। তবে জামায়াত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কিংবা নিবন্ধিত অন্য কোনো দলের প্রার্থী হয়ে সেই দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবেন।’
সম্পর্কিত কী-ওয়ার্ড সার্চ করে, দাবিটির পক্ষে যায় এমন কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপিকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে আসার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি ২০১৮ সালের। প্রচারিত দাবিটিও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষপটে অপ্রাসঙ্গিক।