বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তাদের লোকজন মানুষের কাছে গিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মা বোনদের বিভিন্ন অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো আসলে বায়বীয় প্রতিশ্রুতি। আমরা জনগনকে এমন প্রতিশ্রুতি দিতে চাই, যেগুলো মানুষের দ্বারা বাস্তাবায়ন করা সম্ভব। আমরা ভোটারদের এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না, যা মানুষের সাধ্যের বাইরে। যা মানুষের আওতার ভেতর নয়। সোমবার ধানমন্ডির কলাবাগান মাঠে নির্বাচনি পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তারেক রহমান আরোও বলেন, একটি দলের নেতাকর্মীরা নকল ব্যালটের সিলসহ হাতেনাতে ধরা পড়েছে। কাজেই জনগণকে এসব নকল সিল বানানো লোকদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। একটি দল গ্রামে গ্রামে গিয়ে মা বোনদের বিভ্রান্ত করছে। তাদের বিকাশ নম্বর, এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করছে। এসব গুপ্ত ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আপনাদের সজাগ থাকতে হবে। তা নাহলে শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি, তা আবার হারিয়ে যাবে। দেশ আবার ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে আটকে যাবে। কাজেই আমরা যদি সতর্ক থাকি তাহলে বাংলাদেশকে কেউ আর আটকে রাখতে পারবে না। আমরা যদি সতর্ক থাকি, বাংলাদেশের গতি কেউ রোধ করতে পারবে না।
তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখে আমরা এমন দলকে নির্বাচিত করবো যাদের দেশ পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। খেয়াল করে দেখবেন বিএনপি ছাড়া আর কোনো দলের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই। এই নির্বাচন শুধুমাত্র গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নির্বাচন নয়, এটা দেশ গঠনের নির্বাচন। বিগত ১৬ বছর আমরা দেখেছি, বহু মেগা প্রজেক্ট হয়েছে। তখন মেগা প্রজেক্ট মানেই ছিলো মেগা দুর্নীতি। এতে মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমাদের গ্রাম-গঞ্জের হাসপাতালগুলোতে গেলে ওষুধ পাওয়া যায় না। স্কুল কলেজ, ভেঙে চুরে পড়ে যাচ্ছে। রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আসুন, আমাদের এখন এগুলো পরিবর্তন করতে হবে। বহু দেশ ছিলো, যে দেশগুলোর অবস্থা বাংলাদেশ থেকে খারাপ ছিলো। তারা পরিশ্রমের মাধ্যমে তাদের দেশের অবস্থা ও মানুষের ভাগ্যের অবস্থার পরিবর্তন করেছেন। তারা যদি পারে আমরা কেন পারবো না। আমরাও পারবো। বাংলাদেশের মানুষও পারবে দেশকে পূর্নগঠন করতে। এই নির্বাচন সম্পর্কে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে যতগুলো রাজনৈতিক দল আছে, তার মধ্যে বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল যাদের পরিকল্পনা আছে এই দেশের তরুণ ও যুবকদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানুষে পরিণত করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়। বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। সুতরাং কৃষিকে সমৃদ্ধ করতে বিএনপির পরিকল্পনা রয়েছে। এই বাংলাদেশ হচ্ছে আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। বেগম খালেদা জিয়া শত অত্যাচার, অবিচার, জুলুমের মধ্যে থেকেও তিনি দেশের মানুষকে রেখে চলে যাননি। সন্তান হিসেবে আমি জানি, তাকে বিভিন্ন সময় প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেলে জেল জুলুমের শিকার হতে হবে না। কিন্তু তিনি তবুও এদেশের জনগণকে ছেড়ে যাননি। তিনি বলেছিলেন এই দেশ আমার প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। এবং এই দেশের জনগণই আমার পরিবার। আমি এই পরিবার ছেড়ে বিদেশ যাবো না।
ঢাকা-১০ আসনে সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, ধানমন্ডির দিকে আমার বিশেষ নজর থাকবে। রবিউল ইসলাম রবির সঙ্গে আমিও ধানমন্ডির উন্নয়নে কাজ করবো। কারণ ঢাকা-১০ আসনের সঙ্গে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। ধানমন্ডি কিন্তু আমার আত্মীয় স্বজনদের এলাকা। এখানে আমিও কাজ করবো। রবির দেয়া প্রতিশ্রুতি আমিও বাস্তবায়নে সহায়তা করবো।