Image description

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নাম। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক উত্থান-পতন, মামলা, বিদেশে অবস্থান এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে তিনি আবারও আলোচনায় রয়েছেন। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলীয় নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে তার ভূমিকা নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

তারেক রহমান বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র।

তিনি নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হন। শুরু থেকেই বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। পরবর্তী সময়ে দল পুনর্গঠন, সাংগঠনিক বিস্তার এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি নির্ধারণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

 

বর্তমানে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে দলীয় কর্মসূচি ও রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে তিনি সক্রিয় রয়েছেন। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের ভূমিকা এবং বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

 

১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বেগম খালেদা জিয়া যে পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, সেগুলোর সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্বে ছিলেন তারেক রহমান। ওই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তিনি দলীয় রাজনীতির ভেতরে কার্যকরভাবে সক্রিয় হন।

 
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তারেক রহমান বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আরও দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করেন।

 

২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ২০০২ সালের ২২ জুন দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারেক রহমানকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই নিয়োগের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে অন্তর্ভুক্ত হন। এরপর থেকে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তার প্রভাব ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

২০০০ সালের মাঝামাঝি তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা মূলত ক্ষমতাকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে।

মাঠপর্যায়ের রাজনীতির তুলনায় দলীয় কার্যালয় ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় তার সম্পৃক্ততা বেশি আলোচিত ছিল। ওই সময় বিএনপির রাজনীতি ছিল সংঘাতমুখী ও নেতৃত্বকেন্দ্রিক। হাওয়া ভবনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির অভিযোগসহ নানা বিতর্ক তারেক রহমানকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করে তোলে এবং জনপরিসরে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

 

তবে সময়ের সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাও পরিবর্তিত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা, দেশের বাইরে অবস্থান, একাধিক মামলা এবং রাজনৈতিক চাপ তারেক রহমানকে কৌশলগতভাবে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে। প্রায় ১৮ বছর পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন।

নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে আয়োজিত গণসম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া তার বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করে। ওই বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিচালনার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। তিনি দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন এবং যেকোনো উসকানির মুখে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিএনপি দেশে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ চায় এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে চায়।

বর্তমানে তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন বিভাগে জনসভা ও সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন। এসব কর্মসূচিতে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন, তাদের দৈনন্দিন সমস্যা, প্রত্যাশা ও অভিযোগ তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করছেন এবং ক্ষমতায় এলে সেগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিচ্ছেন।

দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করাও বর্তমানে তারেক রহমানের প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি। বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা দূর করে দলকে মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে আরও সক্রিয় করতে তিনি উদ্যোগ নিচ্ছেন। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং দলীয় কার্যক্রম গতিশীল করার ওপর তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে তারেক রহমান কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন। সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিষয়ে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছেন এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের প্রশ্রয় না দেওয়ার বার্তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জোর দেওয়া হচ্ছে।

২০ বছর আগের ও বর্তমান সময়ের তারেক রহমানকে মানুষ কীভাবে দেখছে, তা জানতে বাংলানিউজ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেছে। বেশিরভাগই মনে করেন, দুই সময়ের তারেক রহমানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

কদমতলী থানার নবদিগন্ত সমবায় সমিতির সেক্রেটারি সুমন (৫৬) বলেন, ২০০৪–০৫ সালে তারেক রহমান ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এবং হাওয়া ভবনকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও বিতর্কের কারণে তার রাজনৈতিক ইমেজ ছিল নেতিবাচক। বর্তমানে তিনি আগের তুলনায় বেশি পরিণত, সংযত এবং নেতৃত্বগুণসম্পন্ন রাজনীতিক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করছেন।

বেসরকারি চাকরিজীবী আয়নাল হক (৪৭) বলেন, অতীতে তারেক রহমানের রাজনৈতিক ইমেজ ভালো ছিল না। তবে বর্তমান সময়ে তাকে জিয়া পরিবারের একজন কার্যকর উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যিনি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা রাখেন বলে ধারণা তৈরি হয়েছে।

বাহার উদ্দীন কলেজের শিক্ষক নাসির উদ্দিন (৫২) বলেন, দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করেও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা বিরল। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণ ও রাজনৈতিক কৌশলে তারেক রহমানকে আগের চেয়ে বেশি সংযত ও কৌশলী হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

মুরাদপুর এলাকার বিএনপির সমর্থক তারেক (৪৯) বলেন, তার বক্তব্য ও আচরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন, দিনমজুর ও রিকশাচালকদের সঙ্গে কথা বলছেন, যা একজন রাজনৈতিক নেতার মাঠপর্যায়ের নেতৃত্বের ইঙ্গিত দেয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুবায়ের মনসুর (৩২) বলেন, অতীতে তারেক রহমানকে ঘিরে ভয় ও বিতর্কের বিষয়টি প্রবল ছিল। বর্তমানে তাকে তুলনামূলকভাবে বেশি পরিণত মনে হলেও পুরোনো অভিযোগগুলো পুরোপুরি মুছে যায়নি বলে অনেকেই মনে করেন।

জুরাইনের খালেক ফার্মেসির কর্ণধার ও সাবেক ব্যাংকার আবুল কালাম আজাদ (৫৬) বলেন, দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা তারেক রহমানের চিন্তাধারাকে পরিণত করেছে। সাম্প্রতিক বক্তব্যে দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়ে পরিকল্পনাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হচ্ছে।

বিক্রমপুর থেকে আসা ঢাকার রিকশাচালক কাশেম মাঝি (৪৫) বলেন, বিদেশে থাকার কারণে তারেক রহমানের রাজনৈতিক চিন্তায় পরিবর্তন এসেছে বলে মনে হয়। তিনি বলেন, যদি দেশের মানুষ ও দেশের স্বার্থে কাজ করতে পারেন, তাহলে তিনি জনসমর্থন পাবেন, অন্যথায় আগের সরকারগুলোর মতোই পরিণতি হবে।

পুরান ঢাকার ইসলামপুরের কাপড় ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন (৪৭) বলেন, আগে তারেক রহমান মানেই ক্ষমতা ও বিতর্ক ছিল আলোচনার কেন্দ্র। বর্তমানে তার বক্তব্য ও নির্দেশনায় সংযত ভাষা লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং সেখানে দেশ ও সাধারণ মানুষের বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

রাজনৈতিক আচরণেও তারেক রহমানের মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বক্তব্য ও রাজনৈতিক ভাষায় সংযম, প্রকাশ্যে আচরণে শালীনতা এবং রাজনৈতিক বক্তব্যে নিয়ন্ত্রিত অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রাজনীতি বিশ্লেষক মোবাশ্বের হোসেন টুটুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের সার্বিক দায়িত্ব এককভাবে তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত হওয়ায় বিএনপির নেতৃত্বে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি থেকে সরে এসে মাঠপর্যায়ের জরিপ ও বাস্তব তথ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নমিনেশন বাণিজ্যের অভিযোগ অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং দলীয় বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা গেছে, যদিও কিছু আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তৃতানির্ভর রাজনীতির পরিবর্তে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি ও ইন্টারঅ্যাকটিভ যোগাযোগ নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘We Have a Plan’ স্লোগানের মাধ্যমে দলের মিশন ও ভিশনে পরিকল্পনাভিত্তিক ও আধুনিক রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রচারণায় সংযত, পরিমিত ও শালীন আচরণ রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে তিনি মনে করেন।

টুটুল আরও বলেন, মধ্যরাত পর্যন্ত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ তারেক রহমানের পরিশ্রমী নেতৃত্বধারা এবং সময় ব্যবস্থাপনার সক্ষমতাকে তুলে ধরে। একই সঙ্গে বিরোধী পক্ষের শক্তিশালী ধর্মীয় বয়ানকে সরাসরি মোকাবিলা করা এবং তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে নতুন কৌশল তার নেতৃত্বকে আলাদা করে চিহ্নিত করছে। Gen-Z’র সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তার মেয়ে জাইমা রহমানের উপস্থিতি এই প্রচেষ্টাকে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তার মতে, অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের সঙ্গে পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করে একটি সমন্বিত টিম গঠনের উদ্যোগ তারেক রহমানের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। পাশাপাশি দলীয় ইশতেহার ঘোষণার মাধ্যমে ‘We Have a Plan’ স্লোগান বাস্তবায়নে তিনি প্রস্তুত আছেন বলেও প্রতীয়মান হয়েছে। সব মিলিয়ে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমান কেবল রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নয়, নিজস্ব রাজনৈতিক সক্ষমতা ও কৌশলের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আরেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক খালিদ হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, গত দুই দশকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা যে গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে, তার প্রতিফলন তারেক রহমানের রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। এক সময় তিনি ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির দৃশ্যমান উত্তরাধিকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বর্তমানে তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকট, একাধিক মামলা এবং নির্বাসনের অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা একজন কৌশলী নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

খালিদ হোসেন বলেন, এখন তারেক রহমানের রাজনৈতিক বক্তব্যে ব্যক্তিকেন্দ্রিক আক্রমণের চেয়ে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যকারিতা এবং রাজনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধারের বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এই পরিবর্তনকে কেবল ব্যক্তিগত রূপান্তর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, জনআকাঙ্ক্ষা এবং সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার একটি রাজনৈতিক পরিণতির ইঙ্গিত বহন করে।

সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানের তারেক রহমানকে আগের ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির প্রতিনিধি হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। তিনি এখন বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে কথা বলছেন। এই পরিবর্তন আদর্শগত নাকি পরিস্থিতিগত এটি নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট: বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে তারেক রহমান নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছেন। ক্ষমতায় ফেরার সুযোগ এলে আজকের তারেক রহমান কি এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতার ধারায় কাজ করবেন, নাকি পুরোনো রাজনীতির উপাদান নতুনভাবে ফিরে আসবে, এর সিদ্ধান্ত সময় ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নির্ধারণ করবে।