Image description

শাহবাগ মোড় এলাকায় পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী মহিউদ্দিন রনির শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন সহকর্মীরা। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জুলাইযোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনার একপর্যায়ে রনিকে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য লাঠিপেটা করেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনকারীদের রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে ৮ থেকে ১০ জন পুলিশ সদস্য তাকে ঘিরে বেধড়ক লাঠিচার্জ করেন। রাস্তায় লুটিয়ে পড়ার পরও তাকে মারধর করা হয়। পরে একজন পুলিশ সদস্য হস্তক্ষেপ করে তাকে রক্ষা করেন। এরপর ফুটপাতেই ফেলা যাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক এই ছাত্রকে।

এদিকে ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় মহিউদ্দিন রনিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জানানো হয়েছে, ‌‘মহিউদ্দিন রনি ভাইকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসা চলমান রয়েছে।’ এর আগে রাতে তরুণ এই নেতার অবস্থা জানিয়ে লেখা হয়, ‘মহিউদ্দিন রনি ভাই বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে আছেন। তিনি এখনো পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন। ডাক্তারগণ চেষ্টা করছেন। সবাই মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন, যেন আমাদের ভাইকে তিনি সুস্থাবস্থায় আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন।’

যদিও এরমধ্যেও থেমে নেই রনির ফেসবুক পেজের প্রতিবাদ। অন্য আরেক স্ট্যাটাসে লেখা হয়, ‘রাজপথে ইনসাফের দাবি উঠলেই ঘাতকের তলোয়ার শানিত হয়।’ আরেক পোস্টে লেখা হয়, ‘লড়াই থামলেই জীবন স্তব্ধ; যতক্ষণ প্রাণ, ততক্ষণই সংগ্রাম।’

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এদিকে রনি ও ইনকিলাব মঞ্চের অন্যান্য নেতাকর্মীর ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মঞ্চ নেতারা।