বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বড় দুটি ভূত সওয়ার হয়েছে। একটি ভূতের নাম ‘সন্ত্রাস আর গুন্ডামিতন্ত্র’, আরেকটি ‘দুর্নীতি আর লুটপাটতন্ত্র’। নির্বাচনের আগে সন্ত্রাস আর গুন্ডামির মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট ছিনতাই করে ক্ষমতায় যায়, আর ক্ষমতায় গিয়ে দেদার দুর্নীতি আর লুটপাট চালায়। এই হলো বাংলাদেশের রাজনীতি।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নরসিংদীর শিবপুরের ইটাখোলার গোলচত্বর–সংলগ্ন বালুর মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন মামুনুল হক। ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য–সমর্থিত রিকশা প্রতীকের প্রার্থী রাকীবুল ইসলামের সমর্থনে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমিরের ভাষ্য, ‘বাংলাদেশের মানুষকে “উন্নয়নের গণতন্ত্র” নামের নতুন এক গণতান্ত্রিক ফিলোসফি শোনানো হয়েছে। তোমার কোনো মতামত লাগবে না, আমি রাস্তাঘাট বানাব, ব্রিজ-কালভার্ট করব, চুরি যা করার আমি করব, যতটুকু দেওয়ার আমিই দেব—এটার নামই গণতন্ত্র। এভাবে গণতন্ত্রের নতুন ডেফিনেশন সাব্যস্ত করে ১৭ বছর দেশের মানুষকে ব্যালটের অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।’
দেশের মানুষ দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর দেশের মানুষ যদি নিজেদের পাওনা আর প্রাপ্তির সঙ্গে স্বপ্ন আর বাস্তবতার হিসাব মেলায়; তাহলে দেখা যায়, শাসকের রূপ, জাত, চামড়ার রং, জাতীয় পরিচয়ের পরিবর্তন হয়েছে; কিন্তু শোষণের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগে যারা শাসক ছিল, তারা চুরি ও লুটপাট করে নিজেদের দেশে সম্পদ নিয়ে যেত। আর স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের শাসকেরা চুরি করে বিদেশে টাকা পাঠায়। কী দুর্ভাগ্য আমাদের! ৫৪ বছরেও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় নাই।’
নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নরসিংদী-২ আসনের শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোস্তাফিজুর রহমান কাওসার। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শিবপুর উপজেলার সভাপতি আবদুল বাসেদ কাসেমী।
‘আবার ফ্যাসিবাদ সৃষ্টির পূর্বাভাস’
এর আগে গতকাল রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ১১–দলীয় প্রার্থীর আরেকটি নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন মামুনুল হক। সেখানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এই নেতা বলেন, চার কোটি ছাত্র–জনতা হাতে হাত রেখে বৈষম্য, স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সফলতম গণ–আন্দোলন (জুলাই গণ–অভ্যুত্থান) গড়ে তুলল। দেড় হাজার মানুষ শাহাদাত বরণ করল। ৩০ হাজারের বেশি জুলাইযোদ্ধা আহত হলো। এত কিছুর পর বাংলার মানুষ স্বপ্ন দেখেছিল, এবার অন্তত কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণ হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আবার বাংলাদেশের ভাগ্যাকাশে নতুন করে কালো মেঘের ঘনঘটা তৈরি হয়েছে; ঈশান কোণে আবার কালবৈশাখী ঝড়ের পূর্বাভাস দেখা যাচ্ছে; আবার দেখা যাচ্ছে, নতুন করে ফ্যাসিবাদ সৃষ্টির পূর্বাভাস।
নির্বাচনী সভাটি পৌর শহরের ভৈরবপুরে অবস্থিত এমপি পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামী ভৈরব শাখার আমির কবির আহমেদ। বেলা ৩টা থেকে পথসভাটি শুরু হলেও মামুনুল হক সেখানে আসেন রাত সোয়া ৮টার দিকে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও হ্যাঁ ভোট প্রচারণা ইস্যুতে বিএনপির নীরবতার সমালোচনা করে মামুনুল হক বলেন, ‘কল্পনা করতে পারেন জুলাই–পরবর্তী বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় বেনিফিশেয়ারি যারা, তারা গণভোটে “না”–এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করতে পারে? জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে এর চেয়ে বড় গাদ্দারি আর কী হতে পারে?’
১১–দলীয় জোট গঠনের প্রাসঙ্গিকতা বোঝাতে গিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এই নেতা বলেন, ‘ইতিহাসের এ রকম ক্রান্তিকালে এসে ১১টি দল হাতে হাত রেখে বললাম, ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনীতি করতে হবে।’