Image description
 

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে রাজনৈতিক সমীকরণ ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১ দলীয় জোটভুক্ত দুই দলের প্রার্থী। জামায়াতে ইসলামী থেকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট মোবারক হোসেন এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি থেকে দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার জুবায়ের আহমেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছের। এমন পরিস্থিতিতে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপিদলীয় প্রার্থী।

 

সরেজমিন দেখা গেছে, দুই দলের প্রার্থীই নিয়মিত নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। মানুষের কাছে গিয়ে নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে জামায়াত ও এবি পার্টির প্রার্থী প্রচারে থাকায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে । এ অবস্থায় বিএনপির প্রার্থী হাজী জসীম উদ্দীন (ধানের শীষ) নির্বাচনে বাড়তি সুবিধা পাবেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।জামায়াত ও এবি পার্টির একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারা দেশে মাত্র দুটি আসন কুমিল্লা-৫ ও সুনামগঞ্জ-৩-এ জামায়াত ও এবি পার্টি থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের সমঝোতার অংশ।

 

বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে জানা যায়, মাঠে গুঞ্জন রয়েছে—এবি পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার জুবায়ের আহমেদ বিএনপির প্রার্থী জসীম উদ্দীনের ইশারায় নির্বাচনি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন জুবায়ের আহমেদ। তিনি বলেন, দলীয় ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তেই আমি নির্বাচনে আছি। আমাকে কেউ দাঁড় করিয়ে রাখেনি। জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।

 

গত ১৫ জানুয়ারি রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের আসন বণ্টনের ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি জানান, এ জোটের অধীন জামায়াতে ইসলামী ১৭৯টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, এলডিপি সাতটি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি তিনটি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি দুটি এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম দুটি আসনে নির্বাচন করবে।

১১ দলীয় জোটে রয়েছে—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টি। এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোবারক হোসেন বলেন, আমাদের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানিয়েছেন, কুমিল্লা-৫ আসনে এবি পার্টির বিষয়ে এক-দুদিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত আসবে। আশা করছি তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবে। আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী হাজী জসীম উদ্দীন বলেন, জামায়াত ও এবি পার্টি জোটবদ্ধভাবেই নির্বাচন করছে। আমাকে ঘিরে যেসব কথা বলা হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিমূলক। আমি চাই কুমিল্লা-৫ আসনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। প্রতিহিংসার রাজনীতিতে আমি বিশ্বাস করি না।

এবি পার্টির কুমিল্লা জেলা সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ তৌফিক আমার দেশকে বলেন, ১১ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারা দেশের দুটি আসন জামায়াত ও এবি পার্টির জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এসব আসনে উভয় দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।