জুলাই আন্দোলনের শেষদিন বিকালের ঘটনা। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন ভারতে। কিন্তু জনগণের টাকায় পোষা তার পুলিশবাহিনী তখনো জুলাই আন্দোলনকারীদের হত্যানেশায় মত্ত। তারা শুধু হত্যা করেই থামেনি। হত্যার পর ৬ জন জুলাই যোদ্ধার মৃতদেহ পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এর মধ্যে একজনের প্রাণ ছিল তখনো। পোড়ানোর আগে তার দেহ নড়াচড়া করছিল। তাকেও পুড়িয়ে হত্যা নিশ্চিত করে ঘাতকরা। ৫ আগস্ট বিকাল ৫টার দিকে সাভারের আশুলিয়ায় এমন নিষ্ঠুর ঘটনাটি ছিল আন্দোলনের শেষদিনের সবচেয়ে মর্মান্তিক। সেদিন ৬ জন জুলাই যোদ্ধার লাশ পোড়ানোসহ ৭ জনকে হত্যার ঘটনায় ঢাকা-১৯ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় তৎকালীন সংসদ-সদস্য (এমপি) সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদসহ ৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বৃহস্পতিবার জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় দেন আদালত। রায়ে ৭ আসামিকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ২ জনকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। রাজসাক্ষী হওয়ায় একজনকে ক্ষমা করা হয়। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের আদালত এ রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৬ আসামির মধ্যে বাকি ৪ আসামি হলেন-আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও যুবলীগ ক্যাডার রনি ভূঁইয়া। তাদের মধ্যে পলাতক আছেন সাবেক সংসদ-সদস্য সাইফুল ইসলাম, সাবেক ওসি এএফএম সায়েদ, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও যুবলীগের ক্যাডার রনি ভূঁইয়া। কারাগারে আছেন সাবেক এসআই আবদুল মালেক ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৭ আসামি হলেন-ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান রিপন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, সাবেক পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস ও ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি উত্তর) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন। আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আরাফাত উদ্দীন ও কামরুল হাসানকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) ছিলেন আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ আবজালুল হক। রায়ে তাকে ক্ষমা করা হয়েছে।
মামলার রায় পর্যবেক্ষণে লাশ পোড়ানোর ঘটনাকে উল্লেখ করে বলা হয়, ‘হিটলারের গ্যাস চেম্বারের পর এই ধরনের ব্রুটালিটি খুব কম হয়েছে। একজন সংসদ-সদস্যের নেতৃত্বে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, তারপর তাদের লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত এসআই আবদুল মালেক। ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়া থেকে বের হওয়ার সময় উচ্চৈঃস্বরে তিনি বলেন, ‘এএসআই মনির আগুন দিয়েছে। রাজসাক্ষী (এসআই শেখ আবজালুল হক) জড়িত ছিল। কেন আমাকে সাজা দিল? যারা জড়িত, তাদের আনা হয়নি। গরিবের কেউ নেই। আল্লাহ বিচার করবে।’
এ মামলার মোট আসামি ১৬ জন। তাদের মধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন ৮ জন। তারা হলেন-আবদুল্লাহিল কাফী (যাবজ্জীবন), শহিদুল ইসলাম (যাবজ্জীবন), আরাফাত হোসেন (যাবজ্জীবন), আবদুল মালেক (মৃত্যুদণ্ড), আরাফাত উদ্দীন (৭ বছরের কারাদণ্ড), কামরুল হাসান (৭ বছরের কারাদণ্ড), শেখ আবজালুল হক (ক্ষমা) ও মুকুল চোকদার (মৃত্যুদণ্ড)। পলাতক ৮ আসামি হলেন-সাইফুল ইসলাম (মৃত্যুদণ্ড), সৈয়দ নুরুল ইসলাম (যাবজ্জীবন), আসাদুজ্জামান রিপন (যাবজ্জীবন), এএফএম সায়েদ (মৃত্যুদণ্ড), মাসুদুর রহমান (যাবজ্জীবন), নির্মল কুমার দাস (যাবজ্জীবন), বিশ্বজিৎ সাহা (মৃত্যুদণ্ড) ও যুবলীগ ক্যাডার রনি ভূঁইয়া (মৃত্যুদণ্ড)।
রায় উপলক্ষ্যে কারাগারে থাকা আব্দুল্লাহিল কাফী, শহিদুল ইসলাম, আরাফাত হোসেন, মালেক, আরাফাত উদ্দিন, কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক ও মুকুল চোকদারকে এদিন আদালতে হাজির করা হয়। আর সাইফুল ইসলাম, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান রিপন, এএফএম সায়েদ, মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, নির্মল কুমার দাস, বিশ্বজিৎ সাহা ও রনি ভূঁইয়াকে পলাতক দেখিয়ে এ মামলার বিচার সম্পন্ন হয়।
এদিন দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে ৮ আসামিকেই ট্রাইব্যুনাল-২-এর এজলাস কক্ষের কাঠগড়ায় তোলা হয়। কাঠগড়ায় ওঠার পর থেকেই এসআই শেখ আবজালুল হককে নীরবে তসবিহ জপতে দেখা যায়। তিনি এ মামলায় রাজসাক্ষী হিসাবে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন। রায় ঘোষণার আগমুহূর্ত পর্যন্ত কখনো চোখ বন্ধ করে, আবার কখনো মাথা নিচু রেখে প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি দেখানো হয় রায়ের কার্যক্রম। দুপুর পৌনে ১টার দিকে ৩ সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় ঘোষণা শুরু করেন। প্রথমে সংক্ষিপ্ত রায় পড়েন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এরপর বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের অংশটুকু পড়েন। সব শেষে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী রায় ঘোষণা করেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক আইনজীবী, দেশি-বিদেশি সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ভিকটিম পরিবারের সদস্য ও আসামিদের আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন।
রায়ের পর প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, রায়ে সাবেক সংসদ-সদস্য সাইফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি তার যাবতীয় সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সেসব সম্পদ বিক্রি করে ভিকটিমদের (নিহত জুলাই যোদ্ধা) পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে। দণ্ডিত বাকি আসামির কয়েকজনকে এক লাখ, কয়েকজনকে ৫০ হাজার এবং দুজনকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মিজানুল ইসলাম আদালতের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে সাংবাদিকদের বলেন, হিটলারের গ্যাস চেম্বারের পর এই ধরনের ব্রুটালিটি খুব কম হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং একজন সংসদ-সদস্যের নেতৃত্বে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং তারপর তাদের লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লাশগুলা বিকৃত হয়েছে, স্বজনরা তাদের লাশ চিনতে পারেনি, দাফন করতে পারেনি যথাসময়ে। একজন জীবিত ছিল, তাকেও পোড়ানো হয়। অর্থাৎ আসামিরা তাদের এই হত্যাকাণ্ড, নৃশংসতাকে গোপন করার জন্য এই ধরনের অপকর্ম করেছিলেন। যেটা বেশ কিছুদিন গোপন রাখতেও তারা সমর্থ হয়েছিলেন।
মিজানুল ইসলাম বলেন, কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি এবং স্থানীয় সাংবাদিক সোচ্চার থাকায় বিষয়টি জনসম্মুখে আসে। ওই এলাকায় আরও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যেটার তদন্ত অব্যাহত আছে।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, আমাদের এই (আন্তর্জাতিক অপরাধ) আইনে সেকশন ৫(২)তে যারা সাব-অর্ডিনেট আছে, তাদের শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে মিটিগেট করা, অর্থাৎ শাস্তি কম দেওয়ার সুযোগ আছে। তবে আশুলিয়ায় যে নৃশংস ঘটনা ঘটেছে এবং যাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তারা এই মিটিগেটিং ফ্যাক্টর পাওয়ার যোগ্য নয়। তারা এই মিটিগেটিং ফ্যাক্টরের সুবিধা পাবেন না।
জ্যেষ্ঠ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, আমরা জাজমেন্টের কপি সংগ্রহ করব, অবজারভেশন সম্পূর্ণ দেখব, তারপর ব্যবস্থা নেব। তবে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, এই মামলায় যাদের যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে, তারা হয়তো ঘটনাস্থলে ছিলেন না।
মিজানুল ইসলাম বলেন, কিন্তু আমরা তাদের সংশ্লিষ্টতা যথার্থভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। এ বিষয়ে তারা (বিচারক) প্রমাণের সঙ্গে একমত হয়েছেন। আমরা যে সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছি দোষী-এটার সঙ্গে একমত হয়েছেন। কিন্তু দণ্ডাদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে এই লাশ পোড়ানোর সময় তারা উপস্থিত ছিলেন কি না, বিষয়টি হয়তো বিবেচনায় নিয়েছেন। তারপরও আমরা জাজমেন্ট দেখার পর সিদ্ধান্ত নেব।
রাজসাক্ষী শেখ আবজালুল হকের রায়ের বিষয়ে এই প্রসিকিউটর বলেন, ‘ট্রু অ্যান্ড ফুল ডিসক্লোজার’ করে অনারেবল ট্রাইব্যুনাল তাকে যে শর্ত দিয়েছিলেন যে, তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্য প্রকাশ করবেন; সেটা প্রকাশ করায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
আগুন দিয়েছে এএসআই মনির, রাজসাক্ষীও জড়িত ছিল : বৃহস্পতিবার দুপুরে রায় ঘোষণার পর সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের একে একে হাজতখানায় নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় আদালত কক্ষের বাইরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসআই আবদুল মালেকসহ অন্যরা নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাতে থাকেন। একপর্যায়ে চিৎকার-চ্যাঁচামেচি করতে থাকেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ধাস্তাধস্তির একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের জন্য জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মালেক। এ সময় তাকে ধরাধরি করে হাজতখানায় নিয়ে যান দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। পরে হাজতখানার জানালা দিয়ে চিৎকার করে তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলমের বিরুদ্ধে ঘুস গ্রহণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আমি বেলা ৩টায় থানা থেকে চলে গেছি। বিকাল ৫টায় ঘটনা ঘটেছে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের ৫ অভিযোগ : এ মামলায় গুলি করে হত্যা, হত্যার পর লাশ পোড়ানো, হত্যার নির্দেশনা এবং উসকানি ও প্ররোচনাসহ আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে দুটি অভিযোগকে কয়েকটি কাউন্টে (অপরাধমূলক ঘটনা) ভাগ করা হয়। এসব কাউন্টে আসামিদের সাজার পাশাপাশি অর্থদণ্ডও দিয়েছেন আদালত।
মামলার অভিযোগ : ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সাভারের আশুলিয়া থানার সামনে পুলিশ আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে নিহত হন সাজ্জাদ হোসেন (সজল), আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম। অভিযোগে বলা হয়েছে, গুলি করে হত্যার পর লাশগুলো একটি ভ্যানে স্তূপ করা হয়। এ সময় গুরুতর আহত এক ব্যক্তিকেও ওই লাশের স্তূপের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর ভ্যানটিতে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ২২ কার্যদিবসে তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানসহ মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে এটি প্রথম রায়। অন্যদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দুটি মামলার রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এর মধ্যে একটি মামলায় গত ১৭ নভেম্বর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলার অন্য আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল- মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি দোষ স্বীকার করে ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হিসাবে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। এছাড়া ২৬ জানুয়ারি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল-১।