আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের মানুষের জীবনমানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন,আমরা এমন সমাজ গঠন করবো যেখানে চা বাগান থেকেও প্রধানমন্ত্রী হবে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার একটি পাঁচ তারকা মানের হোটেলে চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ শ্লোগানে নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশের ইশতেহার শিরোনাম দিয়ে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এ ইশতেহার ৮ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এছাড়া ২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা এমন সমাজ গঠন করবো যেখানে চা বাগান থেকেও দেশের প্রধানমন্ত্রী হবে ইনশাআল্লাহ। এ দেশের পাহাড় এবং সমতলের ব্যবধান ঘুচিয়ে এক করবো। সবাই আস্থার সঙ্গে মনে রাখবে এ দেশ আমার। পাহাড়ে অশান্তি আর দেখতে চাই না। এই পাহাড় রক্ষা করতে গিয়ে সেনাবাহিনীর ১০ হাজার সদস্য শহিদ হয়েছেন। এর সমাধান করতে হবে যৌক্তিকভাবে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি সাম্য ও ন্যায়ের বাংলাদেশ। তারা স্বপ্ন দেখেছিলেন এ দেশের শিশুরা অন্য আরো উন্নত দশটি দেশের মত সুযোগ সুবিধা ও জীবন পাবে। রাষ্ট্র তাকে সহযোগিতা করবে। সমাজ তাকে অভিবাদন জানাবে। কৃষকের স্বপ্ন ছিল সে দেশের জন্য খাদ্য জোগাবে এবং বিনিময়ে সে সম্মান পাবে। শ্রমিক কলকারাখানায় কাজ করবে। এই শ্রমের বিনিময়ে সে সম্মান এবং সম্মানী পাবে। শিক্ষক তার সন্তানতুল্য ছাত্রদের তার মেধা উজার করে দিবেন। তেমনইভাবে তার শিক্ষার্থীরা সেই শিক্ষার সম্মান দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়ে শিক্ষককে সম্মান করবে।
তিনি আরো বলেন, কুটির শিল্পীরা অল্প পুঁজি দিয়ে দেশ গড়ার কাজে হাত বাড়িয়ে সম্মান চায়। একজন নারীর মা এবং নারী হিসেবে কাজের ক্ষেত্র ভিন্ন। সন্তান জন্ম দেওয়া, বুকের দুধ খাওয়ানো, সন্তানকে তিলে তিলে গড়ে তোলা। বিনিময়ে সে চায় সম্মান এবং নিরাপত্তা। এছাড়া আমাদের দেশের সাধারণ নাগরিকের আবেদন হলো, তার সঙ্গে অন্যায় হলে সে ন্যায় বিচার আদালতে পাবে।
জামায়াত আমির বলেন, আমাদের দেশের মানুষের চাওয়া আকাশ সমান নয়। সীমিত চাওয়া। এই চাওয়াটাও রাষ্ট্র পূরণ করতে পারেনি। বেকারত্বের যন্ত্রণায় হাহাকার করছে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী। আমাদের কীসের অভাব? সম্পদের অভাব হলে তো ১৫ বছরে সাড়ে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হতো না। আমাদের অভাব দেশপ্রেমের। আমাদের অভাব সততার।
দলটির প্রধান আরো বলেন, ১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪ একই সুতোয় বাঁধা। ৪৭ না হলে ৭১ হতো না। ৭১ না হলে মানচিত্র পেতাম না। মানচিত্র না পেলে ২০২৪ সালের দেশকে গড়ার সুযোগ পেতাম না। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের কাছে ইশতেহার হচ্ছে প্রমাণ। কীভাবে আগামীর দেশকে সাজাতে চায় তা একটি জীবন্ত দলিল হলো ইশতেহার। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা ও অঙ্গীকার হলো ইশতেহার। আমরা এমন একটা বাংলাদেশ গড়তে চাই যা সাধারণ মানুষ চায়। ৫ আগস্টের পরে কেউ কেউ তার অতীত ভুলে গেছে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, আমি আহত সৈনিক। চতুর্দিক থেকে মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে। যারা অন্যায়ভাবে আমার চরিত্রহনন করেছেন তাদের সবাইকে মাফ করে দিলাম। আমার সাথে প্রতিহিংসা যায় না। আমি বিশ্বাস করি আমাদের যুব সমাজ পটেনশিয়াল। তারা ইনোভেটিভ এবং প্র্যাগম্যাটিক। তারা পারবে। তাই যুব সমাজের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে ইশতেহার তৈরি করেছি। এতে আছে মা ও শিশুর জন্য আইডিয়া। কৃষকদের জীবনে আমরা বিপ্লব আনতে চাই। প্রাইভেট ভেঞ্চারকে আমরা উৎসাহিত করবো। দেশি এবং বিদেশি উভয়কে। শিল্প মালিকদের আইডল হিসেবে রাখবো সামনে। শিশুর মত করে শিল্পকে নার্চার করবো। তবেই তারা দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলবো। এতে করে মালিক ও শ্রমিককে মুখোমুখি না করে সমন্বয় করবো।
এছাড়া প্রফেশনাল শিক্ষার ব্যবস্থা করবো যা বেকার তৈরি করবে না। যোগ্য করে তৈরি করবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা সরকার গঠন করতে পারলে সম্মান পাবে রেমিট্যান্স যোদ্ধা। সে যখন মারা যায় তার লাশ কে আনবে সেইটা নিয়ে দুশ্চিন্তা শুরু হয়। আমরা সরকার গঠন করলে তাদের লাশ রাষ্ট্র আনবে। যুবক তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবো আমরা। এদিকে আমাদের সমাজের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা মানবেতর জীবনযাপনই করে না, তারা ন্যূনতম সম্মানও পায় না। চা বাগানের কর্মীদের জীবনযাপন দেখলে আপনাদের চোখে পানি চলে আসবে। আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে তাদের জীবনমানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবো। আমরা এমন সমাজ গঠন করবো যেখানে চা বাগান থেকেও দেশের প্রধানমন্ত্রী হবে ইনশাআল্লাহ। এ দেশের পাহাড় এবং সমতলের ব্যবধান ঘুচিয়ে এক করবো। সবাই আস্থার সঙ্গে মনে রাখবে এ দেশ আমার। পাহাড়ে অশান্তি আর দেখতে চাই না। এই পাহাড় রক্ষা করতে গিয়ে সেনাবাহিনীর ১০ হাজার সদস্য শহিদ হয়েছেন। এর সমাধান করতে হবে যৌক্তিকভাবে।
তিনি বলেন, এই ইশতেহার সামনে এগিয়ে যাওয়ার।