শরিক দলের প্রার্থীদের সঙ্গে সিলেট জামায়াতের হিসাব ভিন্ন। বাধ্য হয়ে জামায়াত জেলার ৬টি আসনের মধ্যে তিনটি আসনই জোটের শরিকদের ছাড় দিয়েছে। জামায়াতের নেতারা তিনটি আসন নিয়েই সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত। জামায়াত নেতারা মনে করছেন; সিলেট-৬ আসনে তাদের হিসাব প্রায় চূড়ান্ত।
সিলেট-৪ আসনে জেলার সেক্রেটারি জয়নাল মাঠে একাই একশ’। তাদের নজর এখন সিলেট-১ আসনে। এ আসনে প্রথা ভাঙতে চান দলটির নেতারা। এ কারণে গেল কয়েকদিনে মর্যাদার এ আসনে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে জামায়াত। এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শক্তিশালী প্রার্থী। ভোটও তার দিকে। বিএনপি’র নেতারা এ আসনেও ভোট ব্যাংক অক্ষত রাখতে পাহারায় নেমেছেন।
সিলেট-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী জেলার আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান। তিনি মূলত সিলেট-৬ আসনের প্রার্থী ছিলেন। ব্যবসাপাতি সিলেট থাকলেও নির্বাচনে তিনি কখনোই সিলেটমুখী হননি। বরং নিজ এলাকা গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
এবার ঢাকা উত্তর সভাপতি সেলিম উদ্দিনের কারণে সিলেট-১ আসনে প্রার্থী হতে হয়েছে হাবিবুর রহমানকে। দলের সিদ্ধান্তে তিনি প্রার্থী হয়েছেন। এখন মাঠে পুরোদমে প্রচারণায় ব্যস্ত। সিলেট সদর আসনে নতুন প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান। পরিশ্রম করছেন প্রার্থী নিজেই।
সূত্র বলছে; সিলেট-১ আসনে মাওলানা হাবিবুর রহমান এখনো ভোটের মাঠে হাবুডুবু খাচ্ছেন। ভার্চ্যুয়াল দুনিয়া ও মাঠে প্রচারণায় তারা জোয়ার তুলতে চাইছেন। কিন্তু কতোখানি উঠছে- সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। হাবিবুর রহমান ব্যবসায়ী। এতদিন ব্যবসার সূত্র ধরে সিলেটে তার পরিচিতি। এখন মাঠের রাজনীতিতে তাকে পড়তে হয়েছে কঠিন পরীক্ষায়। ভোট এগিয়ে নেয়াই এখন তার মুখ্য কাজ। এ কারণে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত হাঁটছেন তিনি। এই অবস্থায় তাকে সঙ্গ দিচ্ছে জেলার অন্যান্য আসনের জামায়াত নেতারা। সিলেট-২, সিলেট-৩ ও সিলেট-৫ আসনের প্রার্থী নেই। এই তিনটি আসনের নেতাদের এনে নামানো হয়েছে সিলেট-১ আসনে। প্রচারণা তুঙ্গে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। দলের সিনিয়র বলয়ের নেতা যাতে সম্মান পান সেজন্য তারা এ আসনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন। সিলেট-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী জেলার সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান।
জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন- সিলেট-৪ আসন একটু ক্রিটিক্যাল। এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। ভোটের ম্যাজিকম্যান। নগর ছেড়ে গ্রামে গিয়েও তিনি দাপট দেখাচ্ছেন। আরিফ মাঠে নামায় অসহায় হয়ে পড়েছেন জয়নালও। আগের মতো মাঠে সুর নেই। প্রচারণায়ও তিনি অনেক পিছিয়ে। নিজ ইউনিয়নের বাসিন্দা নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মুজিবুর রহমান ডালিম। ইউনিয়নেই হবে ভোট ভাগাভাগি। জৈন্তার ভোটে জয়নাল এগিয়ে ছিলেন। আরিফ নামায় দরবস্ত ইউপি চেয়ারম্যান বাহারুল ইসলাম বাহার, চারিকাটার সাবেক চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন জয়নাল আবেদীন নিজেই। এক সময় এ দু’জন তার ডানে-বামে ছিলেন। জমিয়তের ভোট ব্যাংক হরিপুর তার জন্য থ্রেটও। এ আসনে জয়ের ব্যাপারে জয়নাল আশাবাদী হলেও জামায়াত নেতারা তেমন ইতিবাচক হতে পারছেন না। জটিল হিসাব এ আসনে। অনেক এগিয়ে আরিফ। কাছাকাছিও কেউ নেই। তবে জয়নালের পলিসি ভিন্ন। প্রচারণায় কম। ঘরে ঘরে যাচ্ছেন তার কর্মী, সমর্থকরা। সেই থিওরি জৈন্তাপুরে কাজ হচ্ছে। গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জের অনেক জায়গায় তিনি এখনো অচেনা।
আলোচনায় থাকতে তিনি বিএনপি প্রার্থীকে বারবার কথার ছলে অ্যাটাক করছেন। কিন্তু আরিফের তাতে কান নেই। বলা হচ্ছে শেষ মুহূর্তে সিলেটের একটি আসন যদি জামায়াত চায় সেটি হচ্ছে সিলেট-৬। এ আসনে তাদের প্রার্থী সেলিম উদ্দিন। ঢাকা উত্তরের সভাপতি। বিয়ানীবাজারেই বাড়ি। এ আসনে শুরু থেকেই আলোচনায় সেলিম। তার পক্ষে জামায়াত নেতারা অনেক আগে থেকেই মাঠে। প্রার্থী নিয়ে বিএনপিতে ছিল নানা নাটকীয়তা। টিকলেন জেলার সেক্রেটারি এমরান আহমদ চৌধুরী। জামায়াত নেতারা মনে করছেন এ আসনে তারা জয়ের দিকেই এগোচ্ছেন। এমরানও কম নয়। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিয়েছেন। জমিয়ত বিদ্রোহী ফখরুল ইসলাম কিছু ভোট টানবেন। সেখানেই স্বপ্ন দেখছে জামায়াত। গোলাপগঞ্জে উপজেলার চেয়ারম্যান ছিলেন জামায়াতের। দুটি উপজেলায় কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানও জামায়াত ঘরানার। ফলে জয় ছাড়া এ আসনে জামায়াত বিকল্প ভাবছে না। সিলেট নগর জামায়াতের নায়েবে আমীর নুরুল ইসলাম বাবুল জানিয়েছেন- সিলেট-৬ আসনে তাদের প্রার্থী জয়ের পথেই আছেন। চ্যালেঞ্জ আছে সিলেট-১ ও সিলেট-৪ আসনে। এ দুটি আসনে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।