Image description

জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য থেকে গড়ে ওঠা নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ভোটের মাঠে নেমে তাদের ইশতেহার ঘোষণা করেছে। সেখানে আওয়ামী লীগের (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) শাসনামলে সংঘটিত সব মানবতাবিরোধী অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি ‘পোস্ট-নাজি জার্মানি ও পোস্ট-অ্যাপার্থাইড দক্ষিণ আফ্রিকার মডেলে’ ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ কমিশন প্রতিষ্ঠার কথা রয়েছে।

দলটি বলেছে, এই কমিশনের মাধ্যমে প্রশাসন, বাহিনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আওয়ামী লীগ-সমর্থক এবং দলটির সহযোগীদের মধ্যে যাঁরা ফৌজদারি অপরাধে যুক্ত নন, তাঁদের অপরাধ ও সম্পৃক্ততা স্বীকার এবং ক্ষমাপ্রার্থনা সাপেক্ষে ‘সোশ্যাল জাস্টিসের’ মাধ্যমে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা হবে।

ট্রুথ কমিশনের বিষয়টি বাংলাদেশে নতুন নয়। ২০০৭ সালে এক-এগারোর পর গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারও এমন একটি কমিশন গঠন করেছিল, যার নাম ছিল ‘সত্য ও জবাবদিহিতা কমিশন’। দুর্নীতিবাজদের অপরাধ স্বীকার করে দায়মুক্তির সেই সুযোগ খুব একটা কাজে আসেনি। ওই কমিশন গঠনও পরে অবৈধ ঘোষিত হয়েছিল হাইকোর্টের রায়ে।

প্রতিষ্ঠার পর এনসিপি গত বছরের ৩ আগস্ট ‘দ্বিতীয় রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠায় নতুন সংবিধান প্রণয়নসহ ২৪ দফার দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করেছিল। সেই দফাগুলোর আলোকে দলটির ৩৬ দফার নির্বাচনী ইশতেহার সাজানো হয়েছে, তার সঙ্গে ট্রুথ কমিশনের মতো কিছু বিষয়ও যুক্ত হয়েছে।

এরপর ক্ষমতায় যাওয়া আওয়ামী লীগের টানা দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে। এই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণেরাই ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গড়ে তোলেন এনসিপি। তাঁরা জামায়াতে ইসলামীসহ ১০টি দলের সঙ্গে জোট গড়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, যার ভোট গ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ, দলটির নেতাদের বিচার এবং রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি বিদ্যমান সংবিধানকে ফ্যাসিবাদী আখ্যায়িত করে তা বাতিলের দাবিতে শুরু থেকে সরব এনসিপি। আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারও এগোচ্ছে, সংবিধান সংস্কারে গণভোটও হচ্ছে সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে।

প্রতিষ্ঠার পর এনসিপি গত বছরের ৩ আগস্ট ‘দ্বিতীয় রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠায় নতুন সংবিধান প্রণয়নসহ ২৪ দফার দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করেছিল। সেই দফাগুলোর আলোকে দলটির নির্বাচনী ইশতেহার সাজানো হয়েছে, তার সঙ্গে ট্রুথ কমিশনের মতো কিছু বিষয়ও যুক্ত হয়েছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। গত ৩০ জানুয়ারি রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। গত ৩০ জানুয়ারি রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলেফাইল ছবি: প্রথম আলো

এনসিপির কোনো কোনো নেতা ও দলটির ঘনিষ্ঠ কেউ কেউ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠনের কথা বললেও এটি কখনোই তাঁদের রাজনীতির মূল আলোচ্য ছিল না। তাঁদের ৩৬ দফার নির্বাচনী ইশতেহারের দ্বিতীয় দফায় বলা হয়েছে, জুলাইয়ে সংঘটিত গণহত্যা, শাপলা গণহত্যা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময়ে সংঘটিত সব মানবতাবিরোধী অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং একটি ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন করা হবে।

এ ছাড়া ভোটাধিকারের বয়স ১৮ বছরের পরিবর্তে ১৬ বছর করতে চায় এনসিপি। এ ক্ষেত্রে ইশতেহারে তারা যুক্তি দিয়েছে, তরুণেরা যত দ্রুত নাগরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হবে, তত বেশি গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতা তৈরি হবে।

জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১০০ টাকা করা, চাঁদাবাজি সম্পূর্ণ বন্ধে ৯৯৯-এর মতো হটলাইন চালু ও জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, সব প্রতিষ্ঠানে পূর্ণ বেতনে ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ও এক মাস পিতৃত্বকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করা, আসিয়ানে (অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনসে) বাংলাদেশকে যুক্ত করার মতো প্রতিশ্রুতিও আছে এনসিপির ইশতেহারে।

গত ৩০ জানুয়ারি রাজধানীর গুলশানে এক অনুষ্ঠানে ‘তারুণ্য ও মর্যাদার’ ইশতেহার ঘোষণা করে এনসিপি। কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় গেলে কী করবে, তা তাদের ইশতেহারে প্রকাশ করা হয়। তবে এনসিপি এককভাবে নয়, জোটগতভাবে ৫০টির কম আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বলে জোট ক্ষমতায় গেলেও তাদের ইশতেহার পুরোপুরি বাস্তবায়নের সুযোগ কম।

প্রতিরক্ষা বাহিনীতে রিজার্ভ ফোর্স

এনসিপির দলীয় ইশতেহারের সর্বশেষ দফায় বলা হয়েছিল, তারা অত্যাধুনিক সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেমের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় এবং সেনাবাহিনীতে একটি ইউএভি (আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল) ব্রিগেড গঠন করতে চায়।

তার আলোকে নির্বাচনী ইশতেহারে দলটি বলেছে, তারা ক্ষমতায় গেলে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য রেগুলার ফোর্সের দ্বিগুণ আকারের রিজার্ভ ফোর্স তৈরি করা হবে। পাঁচ বছরে সেনাবাহিনীতে একটি ইউএভি (ড্রোন) ব্রিগেড গঠন ও মাঝারি পাল্লার অন্তত আটটি সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যাটারি অধিগ্রহণ করা হবে।

রিজার্ভ ফোর্স তৈরির জন্য এককালীন ৫০০ কোটি টাকা ও প্রতিবছর ৪০০ কোটি টাকা খরচ হবে বলে এনসিপির ইশতেহারে ধারণা দেওয়া হয়েছে। এর জন্য প্রতিবছর ৩০ হাজার তরুণকে অস্ত্র ও সামরিক কৌশল প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে তিন বাহিনীর জন্য কমব্যাট-রেডি ও দুর্যোগ পরিস্থিতির জন্য তৈরি করা হবে। ইশতেহারে বলা হয়েছে, এই প্রশিক্ষণ হবে ১০ সপ্তাহ মেয়াদি এবং রিজার্ভিস্টদের বছরে দুই সপ্তাহ করে রিফ্রেশার ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে হবে।

সেনাবাহিনীতে ইউএভি ব্রিগেড গঠনে পাঁচ বছরে আড়াই হাজার কোটি টাকা আর সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যাটারি অধিগ্রহণে একই সময়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে এনসিপির ইশতেহারে।

র‍্যাব বিলুপ্তি, ডিজিএফআই পুনর্গঠন

এনসিপি ক্ষমতায় গেলে পুলিশ বাহিনীর বিশেষায়িত ইউনিট র‍্যাব বিলুপ্ত করা হবে। এ ছাড়া পুনর্গঠন করা হবে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর বা ডিজিএফআই।

ইশতেহারে বলা হয়েছে, র‍্যাবের বিকল্প হিসেবে পুলিশের মধ্যেই একটি আধুনিক ও দক্ষ এলিট বাহিনী গঠন করা হবে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে রক্ষা করতে একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রমে নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা রাখা হবে।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেফাইল ছবি: প্রথম আলো

‘রিভার্স ব্রেন ড্রেইন’

ক্ষমতায় গেলে প্রবাসী গবেষকদের জ্যেষ্ঠতা ও গবেষণাগারের জন্য এককালীন তহবিল দিয়ে ‘রিভার্স ব্রেন ড্রেইন’ করা হবে বলে ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এনসিপি। এর অংশ হিসেবে পাঁচ বছরে ১০০ জন উচ্চমানের দেশি, প্রবাসী ও বিদেশি গবেষককে ন্যাশনাল রিসার্চ গ্র্যান্টের আওতায় আনা হবে।

এনসিপি বলেছে, প্রতিটি প্রকল্পের (৫-৭ বছর) আওতায় একাধিক পূর্ণকালীন পিএইচডি ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী থাকতে হবে। প্রকল্পপ্রতি এককালীন গড়ে ৫ কোটি টাকা, মাসিক বেতন ২ লাখ টাকা এবং পিএইচডি গবেষকদের মাসিক বেতন ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এই প্রোগ্রামের জন্য মোট বাজেট হবে বছরে ১২০ কোটি টাকা।

১ কোটি কর্মসংস্থান

এনসিপি ক্ষমতায় গেলে আগামী পাঁচ বছরে দেশে অন্তত এক কোটি সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টির ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে ২৫ লাখ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, নির্মাণসামগ্রী, প্লাস্টিক, প্যাকেজিং, আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক পণ্যে স্থানীয় কারখানা ও ওয়ার্কশপ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৩০ লাখ, ডিজিটাল অর্থনীতিতে ১৫ লাখ এবং নির্মাণ, আবাসন ও অবকাঠামো খাতে ১৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

এ ছাড়া নাগরিক সেবা সহজলভ্য করতে বেসরকারি খাতের সঙ্গে পার্টনারশিপের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী দুই হাজারটি নাগরিক কর্নার স্থাপন করার কথাও ইশতেহারে বলেছে এনসিপি। সেখানেও বহু তরুণের কর্মসংস্থান হবে বলে তারা উল্লেখ করেছে।

‘হিসাব দাও’ পোর্টাল, এনআইডিতেই সব সেবা

মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ সব জনপ্রতিনিধি ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বার্ষিক আয় ও সম্পদের হিসাব, সরকারি ব্যয় ও বরাদ্দের বিস্তারিত ‘হিসাব দাও’ পোর্টালে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ ও হালনাগাদের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এনসিপি। প্রকাশিত এসব তথ্য জনগণ যেকোনো সময় দেখতে পারবে। প্রতিটি প্রকল্প এলাকায় বড় বিলবোর্ডে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট খরচের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ রাখা হবে।

এ ছাড়া বিভিন্ন কার্ডের ঝামেলা ও জটিলতা দূর করতে এনআইডি কার্ডেই (জাতীয় পরিচয়পত্র) সব সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার কথাও ইশতেহারে বলেছে এনসিপি।

আমলাতন্ত্রে ‘ল্যাটেরাল এন্ট্রি’

অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আমলাতন্ত্রের মাঝামাঝি বা জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া (ল্যাটেরাল এন্ট্রি) বাড়ানোর কথা ইশতেহারে বলেছে এনসিপি। তারা বলেছে, প্রশাসনে দক্ষতা ও বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা আনতে এই ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে সম্প্রসারিত করা হবে। বিশেষ করে অর্থনীতি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, অবকাঠামো ও নীতি-বিশ্লেষণ খাতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক বিবেচনা বা স্বজনপ্রীতির সম্ভাবনা রোধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে দলটি।

২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানমঞ্চে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে
২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানমঞ্চে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়েফাইল ছবি: প্রথম আলো

বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা জোন

হৃদ্‌রোগ, ক্যানসার, ট্রমা, বন্ধ্যত্ব, জটিল অস্ত্রোপচারসহ জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসার জন্য দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা জোন (এসএইচজেড) গড়ে তোলার মাধ্যমে বিদেশে মেডিকেল ট্যুরিজমের বিকল্প তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এনসিপি। এই ব্যবস্থায় সরকারি হাসপাতাল থেকে রেফার্ড হয়ে এসএইচজেডে আসা রোগীদের চিকিৎসার একটি অংশ সরকারি সাবসিডি হিসেবে দেওয়া হবে।

প্রতিটি এসএইচজেডের অবকাঠামো তৈরিতে ব্যয় হবে দুই হাজার কোটি টাকা। বার্ষিক পরিচালন ব্যয়সহ আরও এক হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে এসএইচজেডের পেছনে।

প্রবাসীদের পেনশন-সুবিধা

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণের বিপরীতে বিনিয়োগ ও পেনশন-সুবিধা এবং বিমানে রেমিটমাইলস নামে ট্রাভেল মাইলস দেওয়া হবে বলে নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করেছে এনসিপি। প্রতিবছর ন্যূনতম ১৫ লাখ নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রবাসী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে তারা।

এ ছাড়া প্রবাসীদের জন্য একটি ‘ডায়াস্পোরা ডিজিটাল পোর্টাল’ (ওয়ান স্টপ সার্ভিস) গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে এনসিপি, যেখানে পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, কনস্যুলার সেবা, বিনিয়োগ ইত্যাদি সবকিছু অনলাইনে করা যাবে। বিমানবন্দর ও দূতাবাসে হয়রানি-দুর্ব্যবহারের বিরুদ্ধেও কঠোর নজরদারি চালু করতে চায় দলটি।

সামাজিক আবাসন

সুনির্দিষ্ট বাড়িভাড়া কাঠামো তৈরি ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা ওয়াক্‌ফ সুকুক ভিত্তিতে সামাজিক আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হবে বলেও ইশতেহারে অঙ্গীকার করেছে এনসিপি। তারা বলেছে, ঢাকার হেমায়েতপুরে প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-৫ এবং সাভারের বিশাল শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে এবং কেরানীগঞ্জে পদ্মা সেতু সংযোগ সড়ক ও বুড়িগঙ্গার তীরের অব্যবহৃত সরকারি জমি কাজে লাগিয়ে এই এলাকাগুলোতে গণপরিবহনকেন্দ্রিক আবাসন গড়ে তোলা হবে। ঢাকার মূল কেন্দ্র থেকে এর দূরত্ব হবে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট।