বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত সময়ে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়েছে। এই অর্থ ফিরিয়ে আনা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো আত্মীয়তা বা প্রভাব বিবেচনায় নেয়া হবে না। শুধু অর্থ নয়, অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনা হবে। দেশের টাকা চুরি করে বিদেশে গিয়ে রাজার হালতে বসবাস করতে দেব না। আমরা তাদের ঘুম হারাম করে দেব।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজ মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘এবারের নির্বাচন সাধারণ কোনো নির্বাচন নয়। এটি দেশ গড়ার নির্বাচন। জনগণের প্রবল চাপেই পরিবর্তনের ঢেউ উঠেছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন ও আন্দোলনে জুলাই যোদ্ধারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট করেছে।’
বেকারত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বেকাররা ভাতা নয়, কাজ চায়। তাদের কর্মমুখী করে গড়ে তোলা হবে। রাষ্ট্র কাজের সুযোগ তৈরি করবে, ভিক্ষানির্ভর ব্যবস্থা নয়।’ কৃষিখাতে অতীতের দমননীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যারা ন্যায্য সারের দাবিতে গুলি চালিয়েছে, তারাই এখন ফার্মার্স কার্ডের কথা বলছে।’ চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদাবাজি ভিক্ষাবৃত্তির চেয়েও নিকৃষ্ট।’
শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েই রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জাতি গড়তে হলে আমাদের ভালো শিক্ষা লাগবে। সেই শিক্ষাকে পঙ্গু বানিয়ে রাখা হয়েছে। প্রথমত, বাজেটে শিক্ষাকে অবহেলা করা হয়। দ্বিতীয়ত, দলীয় আনুগত্য দেখিয়ে অসৎ লোকদের হাতে যা বাজেট আছে তা তুলে দেয়া হয়। এক দিকে বাজেট অপর্যাপ্ত, অন্য দিকে যা বাজেট থাকে সেটাও তারা খেয়ে ফেলে। সারা বাংলাদেশের একই চেহারা।’
তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর কৃষিতে বিপ্লব হয়ে চেহারা পাল্টে যাওয়ার কথা। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য যে পরিমাণ বাজেট ও পর্যাপ্ত জনবল সরবরাহ করা দরকার তা করা হয় না। তারপরও এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশকে অনেক কিছু দিয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার ক্ষেত্রে কাছাকাছিও কিছু দিতে পারেনি। ১১ দল ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের মধ্যে একটি শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হবে। এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গোটা ময়মনসিংহে কৃষি বিপ্লব ঘটবে। কৃষিকে ওই পুরোনো ধাঁচে আর আমরা দেখতে চাই না। কৃষি এবং কৃষক, এই দুটোকে শিল্প এবং শিল্পীতে পরিণত করব ইনশাআল্লাহ।’
জনগণ পুরোনো পচা রাজনীতি আর চায় না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ পরিবার ও ব্যক্তিগোষ্ঠীতান্ত্রিক রাজনীতি চায় না। তারা দলীয় সরকার দেখতে চায় না। জনগণ জনগণের সরকার দেখতে চায়। অনেকেই এখন আস্তে আস্তে বলতে শুরু করেছে আমরাও হ্যাঁ। ঠ্যালার নাম বাবাজি। জনগণের ঠ্যালা এটি ভীষণ শক্তিশালী ঠ্যালা। এটা সাগরের উত্তাল ঢেউকে থামিয়ে দেয়।’
বক্তব্য শেষে ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার ১১ দলীয় প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।
ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির ও সদর-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি ও মুক্তাগাছা-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ময়মনসিংহ সহকারী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মঞ্জরুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং ময়মনসিংহ জেলা আমির আব্দুল করিম।