আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় বিএনপিপন্থি এক সরকারি কর্মচারীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. এরফান আলী ঢাকা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কর্মচারী ও ভোলাহাট উপজেলার বীরেশ্বরপুর গ্রামের বাসিন্দা।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বীরেশ্বরপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করেন ভোলাহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামীম হোসেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, মো. এরফান আলী তার নিজ বাসভবনে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও সম্ভাব্য সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারদের নিয়ে একটি গোপন বৈঠকের আয়োজন করেন। বৈঠকটি শিক্ষক সমিতির সভা হিসেবে আয়োজন করা হলেও সেখানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলামকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। যদিও তিনি ওই সভায় উপস্থিত হননি।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে নির্বাচনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকে অংশ নেওয়া ও নির্বাচনি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার প্রমাণ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় মো. এরফান আলীকে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫ লঙ্ঘনের দায়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি তাৎক্ষণিক জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামীম হোসেন বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন বা কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্ত (ইউএনও) মো. শাহীন মাহমুদ বলেন, সরকারি বেশ কয়েজনকে বাসায় ডেকে বৈঠক করছেন। এমনকি তাদের দাওয়াত খাইয়েছেন। এটি আচরণবিধির লঙ্ঘন। এজন্য তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ভোলাহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইয়াজদানী আলিম আল রাজি জজ বলেন, ঘটনা আমি জানি না খোঁজ নেব।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রাথী আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি নির্বচনি জনসভায় আছি। রাতে কথা বলবো।