দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর সিরাজগঞ্জের মাটিতে ফিরে এসে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান শনিবার বিকেলে পাইকপাড়ার বিসিক শিল্প পার্কে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশাল সমুদ্রে ভাষণ দেন। তিনি দেশের মানুষের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, গত ১৬ বছর ধরে স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে কাজ করা একটি ‘গুপ্ত’ চক্র এখনও ভিন্ন আড়ালে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অর্জিত জনগণের বিজয়কে নস্যাৎ করতে এরা সক্রিয় রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, যারা গত বছরগুলোতে রাজপথে দেখা যায়নি, তারা এখন বড় বড় কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। মূলত এরা স্বৈরাচারের পালিয়ে যাওয়া প্রেতাত্মা। তিনি দেশের মানুষকে এই ‘গুপ্ত’ চক্রের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান এবং ভোটের মাধ্যমে তাদের জবাব দেওয়ার তাগিদ দেন। বক্তৃতার শুরুতেই তিনি ভোট ডাকাতির প্রতিবাদে দৃষ্টিশক্তি হারানো মেরি এবং গুম-খুনের শিকার পরিবারগুলোর ত্যাগের কথা স্মরণ করে আবেগপ্রবণ হন।
জনসংযোগ অনুষ্ঠানে তিনি বিএনপির ক্ষমতায় গেলে নেওয়া হবে এমন কিছু কর্মপরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন। গৃহিণীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সব ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য মাসিক ভাতা, এবং সিরাজগঞ্জ ও পাবনা অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প পার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি এবং ২০২৪ সালে সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছি; এখন সময় এসেছে সেই স্বাধীনতাকে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার।
ঐতিহাসিক এই জনসভায় সিরাজগঞ্জ ও পাবনার বিভিন্ন এলাকা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ অংশ নেন। সর্বশেষ ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জে ভাষণ দিয়েছিলেন তারেক রহমান। ১৯ বছর পর প্রিয় নেতাকে সামনে পেয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।