রাজনীতিতে গদি উল্টায়, ক্ষমতা বদলায়; কিন্তু কিছু মানুষের প্রতি মানুষের টান কোনো হিসাব মানে না; তা আরও একবার প্রমাণিত হলো ঠাকুরগাঁওয়ের চন্ডিপুর এলাকায়।
বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় ১৪ হাত কালিতলা এলাকায় নির্বাচনি প্রচারে গিয়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর সেখানেই তৈরি হলো এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। প্রিয় নেতাকে সামনে পেয়ে স্থানীয় নারীরা তার গলায় পরিয়ে দিলেন টাকার মালা। স্রেফ রাজনৈতিক সৌজন্য নয়, এ যেন এক মা-বোনদের হৃদয়ের অর্ঘ্য।
আবেগের সেই স্রোতে নিজেকে সামলাতে পারেননি পোড়খাওয়া এই রাজনীতিক। জনসভায় দাঁড়িয়েই তার স্মৃতি চলে যায় দুই দশক আগে।
ধরা গলায় মির্জা ফখরুল বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের সময় এই এলাকার মা-বোনেরা মুরগির ডিম আর মুরগি বিক্রি করা টাকা আমাকে দিয়েছিলেন। আমার কাছে টাকা নেই জেনে তারা সেদিন পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
নতুনের জৌলুস নেই, আছে সততার সম্বল
একজন জাতীয় স্তরের নেতা এবং সাবেক শিক্ষাবিদ হয়েও তার অনাড়ম্বর জীবনযাপন বারবার চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানের ‘ঝকঝকে’ রাজনীতির যুগেও তিনি ব্যতিক্রম। সভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি অকপটে স্বীকার করেন নিজের সীমাবদ্ধতার কথা। তিনি জানান, ২০০৬ সালে কেনা একটি গাড়ি তিনি আজও ব্যবহার করছেন। অর্থাভাবে তা বদলানোর কথা ভাবেননি। এবারের নির্বাচনেও তিনি অন্যের দেওয়া গাড়িতে চড়ে প্রচার চালাচ্ছেন।
সিক্ত নয়নে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি সাধারণ মানুষের লোক। মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ’।
মির্জা ফখরুলের গলায় টাকার মালা পরানো ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন কোনো দৃশ্য নয়। ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর শিবগঞ্জ সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা মাঠের জনসভাতেও একই দৃশ্যের অবতারণা হয়েছিল। এমনকি ২০০১ সালেও ভোটাররা এভাবেই তাকে বরণ করেছিলেন।
মুহূর্তের মধ্যেই এই ভিডিও এবং ছবিগুলো নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে একজন প্রভাবশালী নেতার এমন ‘দরিদ্র’ ও মানবিক ইমেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়চ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই টাকার মালা আসলে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাহায্যের প্রতীক।