একদিন আগে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদের আয়োজনে শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থীদের নিয়ে ‘নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে’ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসনে ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত জামায়াতে ইসলামীর শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিমের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
মাতৃহীন রেজাউলের বৃদ্ধ বাবা মাওলানা আব্দুল আজিজ নির্বাক দৃষ্টিতে বাড়ির আঙিনায় ছেলের কবর খোঁড়ার দিকে তাকিয়ে আছেন। ছেলের শোকে তার চোখের জলও যেন শুকিয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার গড় জরিপা ইউনিয়নের গোপালখিলা গ্রামের বাসিন্দা নিহত রেজাউলের বাড়িতে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। ৪২ বছর বয়সী রেজাউল ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিষয়ক প্রভাষক ছিলেন।
বাড়ির ভেতর থেকে মহিলাদের কান্নার করুণ আওয়াজ ভেসে আসছিল। আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা বাড়িতে এসে রেজাউলের পরিবারের খোঁজ খবর নিচ্ছেন।
কয়েকজন গোর খোদককে কবর খোঁড়ায় ব্যস্ত দেখা যায়। তবে রেজাউলের মৃতদেহ বিকাল ৪টা পর্যন্ত বাড়িতে পৌঁছায়নি।
এদিন বেলা ১১টায় রেজাউলের বাড়িতে তার পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে যান শেরপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান।
হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “যেহেতু এ হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ আছে। তাই আমরা ভিডিও দেখে হত্যা মামলা করব। প্রাথমিকভাবে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় নেতাদের পরামর্শ নিয়ে করণীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে জানান জেলা জামায়াতের এ নেতা।
রেজাউলের শ্বশুর কাকিলাকুড়ার বাসিন্দা হাফেজ মো. আবু বকর বলেন, “আমি হত্যাকারীদের দ্রুত ফাঁসি চাই। তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে এখন কে দেখবে?”
রেজাউল হত্যায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন ছোট ভাইয়ের স্ত্রী।
রেজাউলের স্ত্রী ও তার দুই সন্তানের ভরণ পোষণের দায়িত্ব সরকারকে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
এদিন বিকাল ৫টায় শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে রেজাউলের প্রথম জানাজার নামাজ এবং রাত সাড়ে ৮টায় গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে লাশ দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের জেলা আমির।
এর আগে বুধবার বেলা ৩টার দিকে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত ‘নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে’ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাকবিতণ্ডায় জড়ান; এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অনুষ্ঠানটি ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।