ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জুয়েল তালুকদার নামে একজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কাঁঠালিয়া উপজেলার ১নং চেঁচরীরাপুর ইউনিয়নের বানাই বাজার এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বানাই বাজারের একটি দোকানে বিএনপির এক নেতার বিড়ি চাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তা বিএনপির স্থানীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় রূপ নেয়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বিএনপি কার্যালয়ের আসবাবপত্র লণ্ডভণ্ড অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এছাড়া দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়েছে। এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। বানাই বাজারের এক ইলেকট্রনিক্স দোকানদার দাবি করেন, ভাণ্ডারিয়া থেকে বহিরাগত লোক এনে একটি ‘আওয়ামী চক্র’ পরিকল্পিতভাবে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে।
হামলায় আহত জুয়েল তালুকদার অভিযোগ করেন, ফয়সাল তালুকদার এই হামলার পেছনে ইন্ধন দিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত ফয়সাল তালুকদারের বাবা ফারুক তালুকদার পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, 'জুয়েল তালুকদার আগে আওয়ামী লীগ করতো। এখন বিএনপি সেজে মূল ধারার বিএনপিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে। আমার ভাই বাদশা তালুকদার আজীবন বিএনপি করে আসছে। আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।'
এ বিষয়ে বাদশা তালুকদার মুঠোফোনে জানান, ঘটনার দিন তিনি রংপুরে ছিলেন এবং বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, 'আমি এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বের করলে আমার জন্যই ভালো হবে।'
উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন নিজাম মীরবহার বলেন, 'ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। দলীয় কার্যালয় ও চেয়ারপারসনের ছবি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।'
কাঁঠালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু নাছের রায়হান বলেন, 'ঘটনাটি তদন্ত করছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'