বিজেপি সরকারের চাকরি করা সাবেক রাষ্ট্রদূত হর্ষ বর্ধন শ্রীংলা বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে স্বাভাবিকভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। কারণ, জামায়াতের ভোট নাকি মাত্র ৭%। জামায়াত নিয়ে ভারতের অস্বস্তি ও দাদাগিরি হারানোর আশঙ্কায় একরাশ হতাশাই যেন তাঁর বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে। আসুন দেখি, শ্রীংলার দল বিজেপির ভোটের ইতিহাস কী বলে।
১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভারতের বর্তমান সরকারি দল বিজেপি ৫৪১টি আসনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২২৯টিতে। বিজেপি আসন পায় ২টি।। দলের প্রধান অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সেবার তারা মোট ভোট পায় ৭.৭৪%।
পরেরবার, তথা ১৯৮৯ সালে, ২২৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসন পেয়েছিল ৮৫টি। আর ভোটের পরিমাণ ছিল ১১.৩৬%।
১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিজেপি ভোট পায় ২০.২৯% এবং আসন লাভ করে ১৬১টি। সেবার তারা প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করে। তার ধারাবাহিকতায় সেই বিজেপি বর্তমানে টানা ৩ বার বিজয়ী হয়ে সরকারে আছে। সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্তির পরিমাণ ৩৭.৪৬% (২০১৯ সালে)।
এখন কথা হলো—১৯৮৪ সালে ২টি আসন লাভ করা বিজেপি যদি মাত্র ১২ বছরের ব্যবধানে (১৯৯৬ সালে) সরকার গঠন করতে পারে, তাহলে ১৯৯১ সালেই ১৮ আসন লাভ করা জামায়াত ৩৫ বছর পর এসেও বাংলাদেশে সরকার গঠন করতে পারবে না কেন?
বিভিন্ন জরিপে তো দেখাই যাচ্ছে, জামায়াতের বর্তমান ভোট ৩০–৩৫%-এর মতো। সমাবেশগুলোতে নিজেদের টাকা খরচ করে লাখে লাখে মানুষ উপস্থিত হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ভারতের তৈরি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ফাঁসির মঞ্চে গিয়েও নির্ভীকচিত্তে আধিপত্যবাদ-বিরোধী লড়াইয়ের স্বর্ণালি ইতিহাস। রয়েছে ৩৬ জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে অভূতপূর্ব ও জাতির চাহিদা অনুযায়ী সময়োপযোগী গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা।
একদিকে একজন এমবিবিএস ডাক্তার ও শত শত ডাক্তার তৈরির কারিগর, আর অন্যদিকে একজন ইন্টার পাস নেতা। আপাদমস্তক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিতে নিমজ্জিত এবং নিজ দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নিয়ন্ত্রণহীন একটি দল বনাম সততা ও নৈতিকতায় পরীক্ষিত এবং সুসংগঠিত একটি দল। দেশের ১২ কোটি ভোটার সব জানে এবং দেখছে। সে অনুযায়ী এবার তারা তাদের আমানত হস্তান্তর করবে, ইনশা আল্লাহ।
দাদারা, জ্বালা কোথায় আমরা বুঝি। গোলামির নয়, এখন আজাদির দিন। দাদাগিরি বাদ দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ১৮ কোটি মানুষের ইচ্ছা ও পছন্দের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য প্রস্তুত হও।
তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া
লিখেছেন: আবু সালেহ ইয়াহিয়া