Image description

বেলা তখন এগারোটা। সিলেটের এয়ারপোর্ট এলাকার হোটেল থেকে বের হলেন তারেক রহমান। উদ্দেশ্য আলীয়া মাদ্রাসা মাঠের সমাবেশ। সময় বেশি লাগার কথা নয়। বেশি হলে ১৫ মিনিট। কিন্তু তাকে সমাবেশস্থলে পৌঁছতে সময় লেগেছে এক ঘণ্টা। কেন লাগলো এত সময়।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’-স্লোগান খচিত বাসটি হচ্ছে তারেক রহমানের বাহন। সেটি সবার কাছে ইতিমধ্যে পরিচিত হয়ে গেছে। বাস দেখলেই দাঁড়িয়ে যান সবাই। হাত নাড়েন, অভিবাদন জানান। এই বাসটিতেই এখন চোখ সবার। বলতে হয় না কোন গাড়িতে আসছেন তারেক রহমান। হোটেল থেকে বের হতেই জনতার ভিড়। গাড়ির সামনে পর্যন্ত ভিড় চলে যায়। গাড়ি আটকে যায়। তারেক রহমান গাড়ির ভেতরের গ্লাসের সামনে এসে যখন হাত নাড়েন তখন সবাই উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেন। এরপর তারেক রহমান যখন হাত নেড়ে সরে যাওয়ার জানান দেন তখন জনগণ সরে যায়। রাস্তা করে  দেয়। কাউকে এগিয়ে আসতে হয় না। ভিড় সামাল দেন তারেক রহমান নিজেই। এ যেন এক জাদুর কারিগর। এয়ারপোর্ট থেকে মাদ্রাসা মাঠে আসার সময় চা-শ্রমিকদের একটি বড় অংশ সড়কের দু’ধারে দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানায়। বলে- ‘আমাদের বেটা আসছে।  সে-ই আমাদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করবে। আমরা তার পক্ষে আছি।’ চৌকিদেখি থেকে ভিড় আর ভিড়। 

রাস্তার দু’ধারে হাজার হাজার মানুষ। ওরা আর কেউ নয়। পাড়া-মহল্লার গৃহিণীরা। বাচ্চাদের নিয়ে এসেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছে। তারেক রহমানকে দেখবে। তাদের চোখে-মুখে আবেগে ভরা। এক নজর দেখলেই হবে। পথে পথে আছে স্কুলের শিক্ষার্থীরাও। মোড়ে মোড়ে রাজনৈতিক নেতারা। এত ভিড় সামাল দিয়ে আম্বরখানা আসতেই তারেক রহমানের গাড়ি বহরের লেগে যায় ৪৫ মিনিট। আম্বরখানায় দাঁড়িয়ে বৃদ্ধা নুরজাহান। যাবেন কোম্পানীগঞ্জে। গাড়ি তো আছে। যান না কেন?

জানালেন- ‘তারেক রহমান ওপথ দিয়ে আসবে। তাকে এক নজর দেখবো। দাঁড়িয়ে আছি। চোখের দেখা দেখেই চলে যাবো। সে তো আমাদের সন্তান। তার জন্য প্রাণভরে দোয়া করছি। একমাত্র সে-ই পারে আমাদের ভাগ্য ফেরাতে। আল্লাহ তাকে  যেন হায়াত দেন।’ খাসদবিরের ভিড় ঠেলে যখন তারেক রহমান গাড়ি নিয়ে আম্বরখানা এলেন তখন নুরজাহানের চোখে-মুখে আনন্দ উচ্ছ্বাস। তারেক রহমানকে দেখে হাত নাড়লেন। দোয়া করলেন। তারেক রহমানের চোখও পড়লো তার উপরে। সিলেটে সমাবেশ শেষ হলো বেলা দেড়টার দিকে। তারেক রহমানের যাত্রা এবার মৌলভীবাজারের আইনপুরের সমাবেশে। মাঠ থেকে বের হতে হতে সময় লাগে আধা ঘণ্টা। ভিড় আর ভিড়। গাড়ি দেখলেই লোকজন এসে দাঁড়ায় সামনে। জানে সামনেই বসে থাকেন তারেক রহমান। অনেকটা খোলামেলা। সিলেট নগরের চণ্ডিপুল পর্যন্ত তারেক রহমানের গাড়ি ভিড় ঠেলে ঠেলেই যেতে হলো। সিলেট থেকে মৌলভীবাজারের শেরপুর। পথিমধ্যে দাঁড়িয়ে আছে হাজার হাজার মানুষ। সবার চোখে-মুখে উচ্ছ্বাস।

লালাবাজার, গোয়ালাবাজার, শেরপুর সহ সবখানেই মানুষের ভিড়। সহাস্য তারেক রহমান। সবাইকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। মুরুব্বিদের দেখে কখনো কখনো হাত তুলে দোয়া করার কথা বলেন। পথে দাঁড়িয়ে থাকে সব বয়সী মানুষ। তারেক রহমানের চোখে-মুখে কখনো বিরক্তি নেই। বরং সেই চেনা হাসি। যেন আপনজনদের সঙ্গে দেখা। সিলেটে তাকে ঘিরে ছিল অন্য আবেগ, অন্য উচ্ছ্বাস। সিলেটি জামাই। 

বিকালে মৌলভীবাজারের সমাবেশ শেষ করে তারেক রহমান যখন হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন তখনো হাতে সময় ছিল। এক ঘণ্টায় যাওয়া যেতো। কিন্তু পথে পথে সেই মানুষের ভিড়। সবখানেই দাঁড়িয়ে মানুষ। কোথাও এলাকার মহিলারা, আবার কোথাও নেতাকর্মী। গাড়ি দেখলেই দলবেঁধে গিয়ে দাঁড়ান সামনে। স্লোগান দেন। ঠিক মাগরিবের নামাজের আগে তারেক রহমান গিয়ে পৌঁছেন হবিগঞ্জে। সেই আবার ভিড় ঠেলে ঠেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী এবং সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জের সমাবেশে। পথিমধ্যে একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। মধ্যরাত, রাত দুইটা, তিনটা। সময় যেন থমকে আছে তারেক রহমানের জন্য। শীত উপেক্ষা করে উচ্ছ্বাস আর ভালোবাসায় অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকে হাজার হাজার মানুষ। এমন দৃশ্য খুব কমই চোখে পড়ে। কিন্তু এবার তারেক রহমানের সিলেট থেকে ঢাকা সফরে চোখ আটকে ছিল সবার। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে; গভীর রাতে সড়কে দাঁড়িয়ে আছে হাজার হাজার নারী-পুরুষ। কোনো বিরক্তি নেই তাদের। 

তারেক রহমান আসবেন সেই প্রতীক্ষা তাদের। এরমধ্যে এক কিশোর একটু সামনে। তারেক রহমানের গাড়ি দেখেই সামনে এগিয়ে গেল। সালাম দিলো তারেক রহমানকে। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলো। শীতের গভীর রাতের কিশোরের উচ্ছ্বাস সবাইকে চমকে দেয়। তিনিও হাত নেড়ে সালামের উত্তর দিলেন। ভিডিওটিতে আবেগভরা। তারেক রহমানকে সামনে পেয়ে সেই আবেগই দেখালো এক কিশোর। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ভোররাত ৪টার দিকে। তখনো অর্ধলাখ মানুষ সমাবেশে। শীত উপেক্ষা করে সমাবেশভর্তি মানুষ অপেক্ষায় ছিলেন তারেক রহমানের। সে দৃশ্য নাড়াও দেয় তারেক রহমানকে। মঞ্চে বক্তৃতায় উঠে বলেন- ‘একটু পর ফজরের আজান পড়বে। আপনারা বসে আছেন। সেই সিলেট থেকে যাত্রা শুরু করলাম। পথে পথে মানুষের ভিড়। সবার সঙ্গে দেখা করে আপনাদের কাছে আসলাম।’ তারেক রহমানের এ কথায় সবাই সন্তুষ্ট। ভোররাতে প্রিয় নেতাকে পেয়ে তারা খুশি হলেন। তারেক রহমান সিলেট সফর শেষ করে যখন গুলশানে ফিরলেন তখন রাত পৌনে ৫টা। অথচ তার ফেরার কথা ছিল রাত ৯টার মধ্যে। সিলেট থেকে ঢাকা- পথে পথে মানুষের ভালোবাসায়ই সিক্ত হলেন তারেক রহমান।