তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, তুরস্ক ইরানে যেকোনো বিদেশী হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে।
বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে ফোনে কথা বলতে গিয়ে এরদোগান বলেন, তুরস্ক কখনোই ইরানে বিদেশী হস্তক্ষেপকে সমর্থন করেনি। বরং প্রতিবেশী দেশগুলোর শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় আঙ্কারা।
তুরস্কের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এক বিবৃতিতে এক্সে (সাবেক টুইটার)- এ তথ্য জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ফোনালাপে এরদোগান ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি আরো বলেন, উত্তেজনা না বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান হওয়াই তুরস্কের স্বার্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ইরান বর্তমানে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখোমুখি। এসব বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়েছে। গত ১৭ জানুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি জানান, এই দমন-পীড়নে “কয়েক হাজার” মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এটি ছিল ইরানি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো নিহতের সংখ্যার প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি। খামেনি এই মৃত্যুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন।
অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে রূপ নেয়। গত ৮ জানুয়ারি থেকে টানা কয়েক দিন ধরে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াশিংটনকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নতুন করে হামলার শিকার হলে ইসলামী প্রজাতন্ত্র “যা কিছু আছে, সবকিছু দিয়ে পাল্টা আঘাত হানবে।”
সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রথমবারের মতো নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করে ইরানের ফাউন্ডেশন ফর ভেটেরান্স অ্যান্ড মার্টার্স। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে বুধবার জানানো হয়, বিক্ষোভ চলাকালে মোট ৩,১১৭ জন নিহত হয়েছে। তবে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার দাবি, নিহতের সংখ্যা ২০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে।
বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত এবং বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা ও দমন-পীড়ন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।