
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচার শুরু করেছেন ঢাকা–৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা। হেঁটে হেঁটে মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, ভোট চাইছেন।
তিন নারী শিক্ষার্থীকে উচ্ছ্বসিত হয়ে তাসনিম জারার দিকে এগিয়ে যেতে দেখা গেল। তাঁরা তাসনিম জারার সঙ্গে কোলাকুলি করলেন। বললেন, ‘আপু আমরা আপনার ভক্ত। আপনাকে নিয়ে বান্ধবীদের সঙ্গে আলাপ করি। আপনি ভোটে দাঁড়াইসেন, জিতবেন ইনশা আল্লাহ।’
তারপর তিন বান্ধবী মিলে তাসনিম জারার সঙ্গে ছবি তুললেন। তাসনিম জারা তাঁদের কাছে দোয়া চাইলেন। এমন সময় ওই তিন বান্ধবীর একজন বললেন, ‘আপু আমি আলাদা একা আপনার সঙ্গে একটা ছবি তুলব।’

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন দক্ষিণ গোড়ানের বাগানবাড়ি বাজার এলাকায় এমন দৃশ্য দেখা যায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীক পেয়েছেন।
তাসনিম জারা বাজারের ব্যবসায়ী, বাজারে আসা ক্রেতা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে দোয়া আর ভোট চাইছেন। এ সময় তিনি নিজের পরিচয় দিয়ে বলছেন, ‘আমি তাসনিম জারা। এই আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছি। আমার মার্কা ফুটবল।’

এ সময় অনেকেই তাসনিম জারাকে দেখে বলেন, ‘আপনাকে চিনি, আপনার ভিডিও দেখি। আপনার জন্য দোয়া রইল।’
কাউকে কাউকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনার কথা অন্যদের বলি।’
তাসনিম জারাকে নিয়ে বেশি আগ্রহ দেখা যায় তরুণ-তরুণীদের মধ্যে। অনেকেই কাছে এসে ভিড় করছিলেন। অনেকে ছবি তুলতে চেয়েও দ্বিধা করছিলেন। তখন তিনিও তাঁদের কাছে ডেকে নিয়ে কথা বলছেন, ছবি তুলছেন।
রাস্তায় বসে খাবার বিক্রি করছিলেন এক বয়স্ক বিক্রেতা। তাসনিম জারা ওই ব্যক্তির কাছে যেতেই, তিনি তাসনিম জারাকে একটি লাড্ডু খেতে দেন। আর বলেন, ‘আপনার জন্য দোয়া রইল।’
তাসনিম জারা কাগজের প্রচারপত্র বিলি করছেন। তাতে লেখা, জুলাই গণভোটে দেশ পরিবর্তনে ‘হ্যাঁ’ বলুন। আর নিচে লেখা, ডা. তাসনিম জারা, স্বতন্ত্র প্রার্থী, ঢাকা-৯। তাসনিম জারার সঙ্গে যাঁরা ছিলেন তাঁরা জানান, বিকেলে প্রতীকসহ লিফলেট হাতে পাবেন।
ঢাকা-৯ আসন জেলার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড তথা সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা ও মান্ডা থানা নিয়ে গঠিত।

তাসনিম জারা এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ছিলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী জোট গঠন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে দলটি ছাড়েন তিনি। এরপর ঢাকা–৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

পেশা হিসেবে চিকিৎসকের পাশাপাশি শিক্ষকতা ও উদ্যোক্তার কথা উল্লেখ করেছেন তাসনিম জারা। ৩১ বছর বয়সী তাসনিম জারা আয়ের মূল উৎস হিসেবে চাকরির কথা উল্লেখ করেছেন। হলফনামায় তিনি বলেছেন, দেশের ভেতরে চাকরি করে বছরে ৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা আয় করেন। দেশের বাইরে থেকে তাঁর আয় হয় ৩ হাজার ২০০ ব্রিটিশ পাউন্ড।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে ভিন্ন ব্যালটে।