Image description

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহীম খলিলের বক্তব্যকে ফ্যাসিস্ট আচরণের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদল। এছাড়া, উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে জবি ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মোজাম্মেল মামুন ডেনির স্বাক্ষরে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আওয়ামী কর্তৃক শাসন-নির্যাতনের স্মৃতির অনুরূপ আচরণ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের এক দায়িত্বশীল নেতা আগামী ২২ জানুয়ারি সিলেটে বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের সমাবেশ বন্ধের উদ্দেশ্যে রেলপথ, সড়কপথ ও জলপথ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করে তিনি যে শিষ্টাচারবহির্ভূত রাজনীতির পরিচয় দিয়েছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল তার এমন বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।

এতে আরও বলা হয়, বিরোধী মত দমনে সড়কপথ, রেলপথ ও নৌপথ বন্ধ করা ছিল ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। শিবিরের দায়িত্বশীল নেতার এমন বক্তব্য ফ্যাসিস্ট হাসিনার আচরণকেও হার মানায়। গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি এমন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে পরিকল্পিতভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের স্থিতিশীল পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা ও সহাবস্থানের জন্য হুমকিস্বরূপ। দায়িত্বশীল পদে থেকে অসহিষ্ণু ও ফ্যাসিস্ট মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ চরম লজ্জাজনক বলেও উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া বলা হয়, বিগত ফ্যাসিবাদের শাসনামলে একটি গোষ্ঠী সব ক্যাম্পাসে গোষ্ঠী রাজনীতির মাধ্যমে সমমনা সংগঠন ছাত্রলীগের পক্ষ নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলসহ বিরোধী মতের কর্মীদের ওপর যেভাবে হামলা করেছে, সেই অসহিষ্ণু ও উগ্র রাজনীতিতে অভ্যস্ত হয়ে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ও সহাবস্থানের পরিবেশকে নস্যাৎ করার পাঁয়তারা করছে প্রতিক্রিয়াশীল সংগঠনটি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী ভাষা ও হুমকির রাজনীতি চর্চা করা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশকে বারবার মর্যাদা ও উসকানিতে ফেরাতে শিবিরের এহেন প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল অবিলম্বে শিবিরের ওই উসকানিমূলক বক্তব্য প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানায়। পাশাপাশি, দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে এমন উগ্র আচরণ শিক্ষার্থী সমাজ প্রতিহত করবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া ক্যাম্পাসের সুস্থ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। অন্যথায় উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ দায় প্রশাসনকেই বহন করতে হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।