Image description

দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে জনগণ তাঁকেই দেখতে চায়, যিনি জনগণের ইচ্ছে আকাঙ্ক্ষার সঠিক মূল্যায়ন করতে জানেন। দেশের মাটি ও মানুষের কল্যাণে যার প্রতিটি পদক্ষেপ, পরিকল্পনা ও ভাবনা। তারেক রহমান শুধু বিএনপি কিংবা ধানের শীষের প্রতিনিধিত্ব করেন না, বরং তিনি দেশের সকল শ্রেণি পেশার নাগরিকদের প্রতিনিধি। তাঁর নেতৃত্বে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। ১৭ জানুয়ারি (শনিবার) ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলাধীন ঐতিহ্যবাহী কংশেরকূল দরবারের উদ্যোগে আয়োজিত বড়দোয়া অনুষ্ঠানে সমবেত লক্ষ লক্ষ মুরিদান, মুহিব্বীনগণের উদ্দেশ্য জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক আলহাজ্ব এ এম এম বাহাউদ্দীন এসব কথা বলেন।

 

বড়দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জমিয়াত সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ গড়েছেন আলেম ওলামা, পীর মশায়েখ, সূফী দরবেশরা। যাদের নিকট দরগাহ-দরবার, মাজার-খানকাহ অনিরাপদ তাঁদের হাতে ক্ষমতা গেলে কবের বাসীরাও নিরাপদ নয়। ইতিমধ্যে মাজার থেকে লাশ উঠিয়ে পৈশাচিক কর্মকাণ্ডের সাক্ষী হয়েছি আমরা। এধরণের আক্বীদা পোষণকারীদের থেকে দূরে থাকতে হবে। যারা ধর্মকে ব্যবহার করে ইসলামী শরীয়াহ্ প্রতিষ্ঠার শ্লোগানের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেছে অথচ নেপথ্যে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য আবার ভিন্ন মত উপস্থাপন করে তাঁদের দ্বারা আর যাই হোক, জনগণের কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য সফল হবে না। বিভ্রান্তকারীদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে।

  

তিনি বলেন, এদেশে এমন একজন নেতা প্রয়োজন যিনি কেবল দেশেই নয় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও যার গ্রহণযোগ্যতা আকাশচুম্বী। যার কাছে ইসলামী মূল্যবোধ ও তাহজিব তামাদ্দুন নিরাপদ, দ্বীনি শিক্ষা, দরবার খানকাহসমূহ নিরাপদ। যিনি সকল বিতর্কের উর্ধ্বে থেকে সাধারণ নাগরিকদের হৃদয় জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। এসকল কিছুই তারেক রহমানের মাঝে বিদ্যমান। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে আপোষহীন থাকার অঙ্গিকার নিয়ে দেশকে নতুনভাবে সংস্কারের মাধ্যমে নাগরিকদের অধিকার পুনরুদ্ধার করার দৃঢ় প্রত্যয়ী তারেক রহমানই আগামীর রাষ্ট্র নায়ক এবং তার হাতেই গড়ে উঠবে নতুন বাংলাদেশ। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে আদর্শিক তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে ইনশাআল্লাহ।

 

বড়দোয়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের মহাসচিব অধ্যক্ষ শাব্বীর আহমদ মোমতাজী বলেন, বিভ্রান্ত ও স্বার্থন্বেষী নামধারী পীরদের কারণে সাধারণ মানুষ পথভ্রষ্ট হচ্ছে। হক্কানি পীর মশায়েখগণও বিতর্কিত হচ্ছেন। এমন কঠিন সময়ে নিজেদের ঈমান আক্বীদা ঠিক রাখার জন্য আমাদের আরো সতর্ক থাকতে হবে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের আক্বীদা নষ্টের চক্রান্ত চলছে। যেখানে বিশ্বের বড় বড় ক্ষমতাধর উন্নত রাষ্ট্রসমূহ ব্যাপক অর্থ বিনিয়োগ করছে। অর্থের মোহে মুসলমান নামধারী মুনাফিকরা নিজেদের ঈমান বিক্রি করে সাধারণ মুসলমানদের ভ্রান্ত আক্বীদার দিকে ধাবিত করছে। এসকল ঈমান বিধ্বংশকারীরা দাড়ি, টুপি, জুব্বা পড়ে নিজেদের প্রকৃত মুসলমান ও সহীহ আক্বিদা লালনকারী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয়। প্রকৃতার্থে এরা ইসলামের দুশমন। এদের লোক দেখানো ভালো কাজ ও ইসলামী খেদমতের আশ্বাসের নেপত্থে থাকে মুসলমানদের আল্লাহ ও রাসূল (স.) এর পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার মত ভয়ংকর উদ্দেশ্য। এমন সময়ে নিজ স্বার্থে এবং ইসলামের স্বার্থে পীর মুর্শিদ ও অনুসরণীয় ব্যাক্তি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। আপাতদৃষ্টিতে ইসলামের শ্লোগান দিয়ে নিজ আঙ্গিনায় জমায়েত করে কেউ যেন আমাদের ঈমান কিনে নিতে না পারে, সে ব্যাপারে সোচ্চার থাকা জরুরী।

  

পীরজাদা মাওলানা এশফাকুর রহমানের পরিচালনায় আয়োজিত বড়দোয়া অনুষ্ঠানে লক্ষাধীক মুহিব্বীন আশেকানদের উদ্দেশ্যে গদ্দীনশিন পীর আলহাজ্ব মাওলানা আসাদুজ্জামান সিদ্দীকী বলেন, প্রকৃত আশেকে রাসূল (স.) আল্লাহ জিকির এর পাশাপাশি দরুদপাঠকে তাঁর দৈনন্দিন রুটিনের অন্তর্ভুক্ত করে। আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য ও অনুগ্রহের জন্য নবী প্রেম বাঞ্ছনীয়। যার ভেতর রাসূলের ইশক্ নেই, রাসূলের প্রতি মোহাব্বত ও দরদ নেই, রাসূলের অপমানে যে মুসলমানের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় না, সে কখনই প্রকৃত মুসলমান নয়। আত্মশুদ্ধি ও কলবের মরিচা দূরীকরণের জন্য নিয়মিত জিকিরের বিকল্প নেই। পীর মাশায়েখ, সূফী দরবেশগণ কেবল জিকির ও আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতেন। আল্লাহর নিকট নিজেকে পূর্ণরূপে সপে দিতে পারলেই সকল ইবাদত সার্থক। আপনার সকল ইচ্ছা, চাওয়া, কাজ, সিদ্ধান্ত যেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়। তাহলেই আপনি সঠিক পথের সন্ধান লাভ করবেন।

 

এসময় আরও নসিহত করেন, পীরজাদা ইলিয়াসুর রহমান সিদ্দীকি, পীরজাদা এখলাসুর রহমান সিদ্দীকি, অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনীতিবীদ ও বিশিষ্ট ব্যাক্তি বর্গের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আনারুল ইসলাম বিদ্যুৎ, মাওলানা মোস্তফা কামাল কাসেমী, এ্যডভোকেট উসমান গনি মাখন, সালাউদ্দিন আহমেদ।

 

সবশেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন দরবারের গদিনশিন পীর মাওলানা আসাদুজ্জামান সিদ্দীকি।