আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দিনব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ। বৈঠকে নির্বাচনী প্রচারণা, ইশতেহার এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় রাজধানীর মগবাজারস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এই অধিবেশন শুরু হয়।
বৈঠকের বিরতির পর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সকাল থেকেই গুরুত্বপূর্ণ কমিটি অর্থাৎ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অধিবেশন শুরু হয়েছে। এটি দিনব্যাপী চলবে এবং এতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, যার মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসংক্রান্ত প্রস্তুতির বিষয়টি অন্যতম।
তিনি জানান, ‘এই বৈঠক থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে একাধিক মৌলিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে দলের নির্বাচনী কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে, পাশাপাশি ২১ জানুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ দেশব্যাপী সফর শুরু করবেন, যার পূর্ণাঙ্গ সফরসূচি আজকের বৈঠকেই চূড়ান্ত করা হবে।’
জুবায়ের বলেন, আজকের বৈঠকে দলের সবগুলো কমিটি যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, তা পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেওয়া হবে এবং আগামী ২২ জানুয়ারি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে দলের পলিসি পেপার উপস্থাপন করা হবে।
তিনি জানান, প্রায় ১৯টি মৌলিক বিষয়ের ওপর পলিসি পেপার তৈরি করা হয়েছে এবং আজকের বৈঠকে নির্বাহী কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন টিম ও প্রতিনিধি দলের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যারা তাদের প্রস্তুত করা পলিসি পেপার উপস্থাপন করছেন। এটি চূড়ান্ত করে আগামী ২০ জানুয়ারি গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করা হবে।
এছাড়া বৈঠকে সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হচ্ছে এবং ইতিমধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে, দুপুরে বিরতির পর পুনরায় বৈঠক শুরু হবে এবং দিনের শেষ পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি জানান, ২২ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী কেন্দ্রীয় নেতাদের সফর শুরু হবে, যেখানে ২২ জানুয়ারি ঢাকা মহানগরে কর্মসূচি পালন করা হবে এবং ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি উত্তরবঙ্গ সফর অনুষ্ঠিত হবে, যার প্রাথমিক ঘোষণা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাকি সফরসূচির খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আজকের বৈঠকে তা চূড়ান্ত হলে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
এছাড়া জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে, প্রাথমিকভাবে ১ ফেব্রুয়ারি ইশতেহার উপস্থাপনের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে, তবে কখন এবং কোথায় তা প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজকের বৈঠকের পর জানানো হবে।
বৈঠকের আলোচনার বাইরে সাম্প্রতিক সময়ে দায়ের হওয়া একটি মামলার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে জুবায়ের বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলামের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে মামলাটির নিন্দা জানানো হয়েছে এবং তা প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নির্বাচনী জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরাসরি আজকের বৈঠকে আলোচনা না হলেও দলের ১০ দলের লিয়াজোঁ কমিটি এ বিষয়ে আলোচনা করে শীর্ষ নেতৃত্বকে প্রস্তাবনা জানাবে। এর ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জুবায়ের বলেন, একটি সূত্র থেকে বলা হয়েছিল যে আগামী ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করা হবে এবং গতকাল এনসিপির আসিফ মাহমুদ বলেছেন যে তারা জাতীয় নির্বাচনে জোটের সঙ্গেই থাকবে, তাই এ বিষয়টি লিয়াজোঁ কমিটি পর্যালোচনা করছে।
ঢাকার ৪৭টি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলের স্টিয়ারিং কমিটি এ বিষয়ে প্রস্তাব তৈরি করে শীর্ষ নেতৃত্বকে অবহিত করবে এবং এরপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা দাবি করেছে যে জামায়াত ‘ওয়ান বক্স পলিসি’ অর্থাৎ জোটের সব ভোট এক বাক্সে পড়ার নীতি থেকে সরে এসেছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো জামায়াত এখনও সেই নীতিতেই অটল রয়েছে এবং সবাই একসঙ্গে এক প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার অবস্থানেই আছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে জোটে ১১টি দল থাকলেও একটি দল বেরিয়ে যাওয়ায় এখন ১০টি দল রয়েছে, তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য আসন ও চেয়ার বরাদ্দ রাখা হয়েছিল এবং এখনও সময় শেষ হয়ে যায়নি, তাই আলোচনা ও সমঝোতার সুযোগ এখনো রয়েছে।