দফায় দফায় বৈঠক করেও জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গতকাল বুধবার রাত পর্যন্ত আসন সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। যার কারণে জামায়াতসহ ১১ দলের মধ্যে আসন বণ্টনের চূড়ান্ত ঘোষণাও হয়নি। এ জন্য গতকাল বিকেলে ডাকা সংবাদ সম্মেলন পরে স্থগিত করেছে জামায়াতে ইসলামী।
পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন—দুই দলই এখন ভিন্ন চিন্তাভাবনা করছে বলে রাজনৈতিক সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতসহ ১১ দলের আসন সমঝোতার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে গতকাল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল। বিকেল সাড়ে চারটায় এই সংবাদ সম্মেলন হবে বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়। পরে বেলা সোয়া ২টার দিকে আরেকটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলন অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হয়েছে।
পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন—দুই দলই এখন ভিন্ন চিন্তাভাবনা করছে বলে রাজনৈতিক সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে।
কারণ জানতে তাৎক্ষণিকভাবে সমঝোতা আলোচনার সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের সঙ্গে এই প্রতিবেদক যোগাযোগ করেন। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এখনো কিছু প্রস্তুতি বাকি রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সংবাদ সম্মেলনের তারিখ জানানো হবে।
পরে বিকেলে সাংবাদিকেরা ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমানের কাছে সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের কারণ জানতে চান। তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলন করার বিষয়ে জোটগতভাবে সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা যারা খেয়ালখুশিমতো ডেকেছে, তারাই স্থগিত করেছে। এর সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই।
সন্ধ্যায় ইসলামী আন্দোলন সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, ইসলামী আন্দোলনের আমির সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করতে কাউকে অনুরোধ করেননি।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, ইসলামী আন্দোলন ৫০টির বেশি আসনে প্রার্থী দিতে চায়। তবে জামায়াত সর্বশেষ আলোচনায় ৪৫টি আসনে দলটিকে ছাড় দিতে রাজি হয়েছে। বাকি ৫টি আসন উন্মুক্ত রাখতে চায় জামায়াত, যেখানে সব দলই প্রার্থী দিতে পারবে। তবে ইসলামী আন্দোলন ১০ শতাংশ (অর্থাৎ ৩০টি) আসন উন্মুক্ত রাখার আলোচনাও তুলেছে। জামায়াত এতে রাজি হয়নি। ইসলামী আন্দোলন মনে করে, জামায়াত শেষ পর্যন্ত ১৯০টি আসনে নির্বাচন করার বিষয়ে অনড় থাকলে তারাও ৬০-৭০টি আসনে নির্বাচন করার চেষ্টা করবে।
দফায় দফায় বৈঠক করেও জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গতকাল বুধবার রাত পর্যন্ত আসন সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। যার কারণে জামায়াতসহ ১১ দলের মধ্যে আসন বণ্টনের চূড়ান্ত ঘোষণাও হয়নি। এ জন্য গতকাল বিকেলে ডাকা সংবাদ সম্মেলন পরে স্থগিত করেছে জামায়াতে ইসলামী।
পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন—দুই দলই এখন ভিন্ন চিন্তাভাবনা করছে বলে রাজনৈতিক সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতসহ ১১ দলের আসন সমঝোতার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে গতকাল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল। বিকেল সাড়ে চারটায় এই সংবাদ সম্মেলন হবে বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়। পরে বেলা সোয়া ২টার দিকে আরেকটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলন অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হয়েছে।
পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন—দুই দলই এখন ভিন্ন চিন্তাভাবনা করছে বলে রাজনৈতিক সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে।
পরে বিকেলে সাংবাদিকেরা ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমানের কাছে সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের কারণ জানতে চান। তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলন করার বিষয়ে জোটগতভাবে সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা যারা খেয়ালখুশিমতো ডেকেছে, তারাই স্থগিত করেছে। এর সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই।
সন্ধ্যায় ইসলামী আন্দোলন সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, ইসলামী আন্দোলনের আমির সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করতে কাউকে অনুরোধ করেননি।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, ইসলামী আন্দোলন ৫০টির বেশি আসনে প্রার্থী দিতে চায়। তবে জামায়াত সর্বশেষ আলোচনায় ৪৫টি আসনে দলটিকে ছাড় দিতে রাজি হয়েছে। বাকি ৫টি আসন উন্মুক্ত রাখতে চায় জামায়াত, যেখানে সব দলই প্রার্থী দিতে পারবে। তবে ইসলামী আন্দোলন ১০ শতাংশ (অর্থাৎ ৩০টি) আসন উন্মুক্ত রাখার আলোচনাও তুলেছে। জামায়াত এতে রাজি হয়নি। ইসলামী আন্দোলন মনে করে, জামায়াত শেষ পর্যন্ত ১৯০টি আসনে নির্বাচন করার বিষয়ে অনড় থাকলে তারাও ৬০-৭০টি আসনে নির্বাচন করার চেষ্টা করবে।
শেষ পর্যন্ত আসন সমঝোতা না হলে ইসলামী আন্দোলন অন্য কয়েকটি দলকে নিয়ে আলাদা জোট করা বা আসন সমঝোতার দিকে এগোতে পারে, দলটির তরফ থেকে এমন ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে। দলটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তারা নতুন করে নির্বাচনী সমঝোতার চেষ্টা হিসেবে ৮টি দলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। এর মধ্যে জামায়াতসহ ১১ দলভুক্ত ছয়টি দল রয়েছে। সেগুলো হলো বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, এবি পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)। এর বাইরে বাংলাদেশ লেবার পার্টির সঙ্গেও যোগাযোগ করছে ইসলামী আন্দোলন।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন সূত্র আরও বলছে, তারা জামায়াতকে ১৫০ আসনে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে রাজি করাতে চেষ্টা করবে। এতে জামায়াত রাজি হলে তাদেরও নতুন করে সমঝোতার আলোচনায় রাখবে। এমনটি হলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গেও যোগাযোগ করবে। তাদেরসহ ১১ দলের সবাইকে এই সমঝোতায় রাখতে চায় ইসলামী আন্দোলন।
ইসলামী আন্দোলন মনে করে, জামায়াত শেষ পর্যন্ত ১৯০টি আসনে নির্বাচন করার বিষয়ে অনড় থাকলে তারাও ৬০-৭০টি আসনে নির্বাচন করার চেষ্টা করবে।
গতকাল বিকেলে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নতুন নির্বাচনী সমঝোতা বা জোট করার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। নির্বাচন হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। এর আগপর্যন্ত যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। আলোচনা চলমান রয়েছে।
জামায়াত শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে
জামায়াত–সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলন আসনসংখ্যা নিয়ে যেমন একটা অনড় অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি এই জোট যদি সরকার গঠনের সুযোগ পায়, সে ক্ষেত্রে সরকারপ্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধান কে হবেন, সে বিষয়েও ইসলামী আন্দোলন আগে থেকে পরিষ্কারভাবে জানতে চায়। জামায়াত মনে করে, এটা এখনই স্পষ্ট করার সময় নয়। ইসলামী আন্দোলনের অনড় অবস্থান অব্যাহত থাকলে সে ক্ষেত্রে তাদের ছাড়াই বাকিদের নিয়ে সমঝোতা চূড়ান্ত করার চিন্তাও রয়েছে জামায়াতের। তেমনটা হলে অন্য দলগুলো আরও কিছু বেশি আসনে ছাড় পেতে পারে, এমন সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা আছে।
তবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন নেতা গত রাতে নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ইসলামী আন্দোলন তাদের ক্ষোভ-দুঃখ ভুলে আসতে চাইলে জামায়াত তাদের জন্য অপেক্ষা করবে।
এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রামপুরার একটি মাদ্রাসায় ইসলামী আন্দোলনের শুরা কাউন্সিলের রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় থেকে তৃণমূলের নেতারা জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার ক্ষেত্রে আসনসংখ্যা নিয়ে অসন্তুষ্টির কথা জানান।
ইসলামী আন্দোলন সূত্র বলছে, কিছু সিদ্ধান্ত জামায়াত এককভাবে নিয়েছে, যা অন্য দলগুলো ভালোভাবে নেয়নি। যেমন এনসিপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং এবি পার্টিকে আসন সমঝোতায় আনার ক্ষেত্রে জামায়াত আলাদা করে ওই দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকের আগে ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যদের জানানো হয়নি।
ইসলামী আন্দোলনের ভাষ্য, গণ-অভ্যুত্থানের পর তারাই প্রথম ‘ওয়ান বক্স’ পলিসি নিয়ে কাজ শুরু করে, যেখানে সমঝোতাকারী ইসলামপন্থী দলগুলো একটি আসনে একজন প্রার্থীই দেবে। শুরুতে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে এ আলোচনায় যুক্ত হয় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। এরপর যোগ দেয় জামায়াত, তারপর জাগপা ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)।
ইসলামী আন্দোলন সূত্র বলছে, কিছু সিদ্ধান্ত জামায়াত এককভাবে নিয়েছে, যা অন্য দলগুলো ভালোভাবে নেয়নি। যেমন এনসিপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং এবি পার্টিকে আসন সমঝোতায় আনার ক্ষেত্রে জামায়াত আলাদা করে ওই দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকের আগে ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যদের জানানো হয়নি। এরপর আসনসংখ্যা নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের অসন্তোষ প্রকাশ পায়। দলটির শুরা কাউন্সিলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত না আসায় গতকাল দুপুরে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মজলিসে আমেলার (সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম) বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে গতকাল বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটি বলেছে, আলোচনা চলমান আছে।