ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছে ৮০ হাজার কোটি ডলার দাবি করেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। এমন ‘আকাশকুসুম’ অর্থ সহায়তার বিষয়টি ঠিক রোচেনি হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের। তিনি সাফ বলে দিয়েছেন, ‘টাকা গাছে ধরে না’।
ইউক্রেনকে অর্থায়নের পরিণতি নিয়ে হাঙ্গেরির ইইউ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে অরবান লিখেছেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, টাকা গাছে ধরে না। আগামী ১০ বছরে ইউরোপীয়দের কাছে ৮০ হাজার কোটি ডলার দাবি করছে ইউক্রেনীয়রা। এর অর্থ হাঙ্গেরিকেও ৯০০ কোটি ডলারের বেশি আর্থিক বোঝা বইতে হবে। এই অর্থ আসবে কোথা থেকে?’
অরবান বলেছেন, ইউক্রেনকে অর্থায়ন করবে না হাঙ্গেরি। রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইইউ নেতাদের লক্ষ্যকে সমর্থনও দেবে না দেশটি।
হাঙ্গেরি সরকারের প্রকাশিত নথিতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনকে আর্থিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা হিসেবে মোট ১৯ হাজার ৩৩০ কোটি ইউরো প্রদান করেছে। এর একটি অংশ এসেছে পশ্চিমা দেশগুলোতে জব্দ করা রুশ সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত আয় থেকে। প্রতিবেদনে তুলনা টেনে বলা হয়, ‘২০০৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইইউ থেকে হাঙ্গেরি নিট সহায়তা পেয়েছে ৭৩০ কোটি ইউরো।’
নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইউক্রেনকে ৯ হাজার কোটি ইউরো ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত দেয় ইউরোপীয় কাউন্সিল। কিয়েভ কখনোই এই অর্থ পরিশোধ করবে না। বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, পরবর্তী সাত বছরের ইইউ বাজেট থেকে ৩৬ হাজার কোটি ইউরোরও বেশি পেতে পারে ইউক্রেন।
এ ছাড়া সামরিক ব্যয় বাদ দিয়ে আগামী ১০ বছরে পুনর্গঠনের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকে ৮০ হাজার কোটি ডলার সহায়তা আশা করছে কিয়েভ। প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়, হাঙ্গেরি যদি এতে সম্মতি দেয়, তবে তাকে এই অর্থের ১ দশমিক ১৬ শতাংশ বা ৯২৯ কোটি ডলার বহন করতে হবে।
দেশটির ইইউ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, ‘হাঙ্গেরির অবস্থান স্পষ্ট: সরকার ইউক্রেনের জন্য সীমাহীন অর্থায়ন ও সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করছে। জনগণের ক্ষতি করে সামরিক কার্যক্রম দীর্ঘায়িত করার জন্য তহবিল বরাদ্দ দেবে না হাঙ্গেরি।’
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশটির পুনরুদ্ধারের জন্য ১০ বছরে ৮০ হাজার কোটি ডলারের একটি ‘বৈশ্বিক প্যাকেজ’ তাদের শান্তি পরিকল্পনার অংশ। এই প্রস্তাবটি ২৪ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় এবং পরে পশ্চিম ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক উত্থাপন করে দেশটি।
সূত্র: তাস