Image description
 

ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি—সবক্ষেত্রেই সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার গুরুত্ব এখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। সমাজবিজ্ঞানী ও মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, অন্ধভাবে কাউকে অনুসরণ না করে বা আবেগের বশবর্তী না হয়ে সর্বদা নিজের পরিস্থিতি ও সক্ষমতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। সমসাময়িক রাজনৈতিক দলগুলোর জোট গঠন কিংবা সাধারণ মানুষের পেশাগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি নতুন করে সামনে আসছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি মানুষের বা প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা ও শক্তি ভিন্ন থাকে। অন্যের সাফল্যে প্রলুব্ধ হয়ে বা পরিস্থিতির চাপে পড়ে সিদ্ধান্ত নিলে দীর্ঘমেয়াদে তা বড় ধরণের ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে প্রতিকূল সময়ে নিজের ‘সারভাইভাল স্ট্র্যাটেজি’ বা টিকে থাকার কৌশল নির্ধারণের জন্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ অপরিহার্য। উদাহরণস্বরূপ, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক দলগুলোর আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, যারা নিজ নিজ ভোটব্যাংক ও তৃণমূলের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এগোচ্ছে, তারাই দরকষাকষিতে এগিয়ে থাকছে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্তগুলো আসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বা সামাজিক চাপের মুখে। কিন্তু যারা নিজের সম্পদ, সময় এবং পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, তাদের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা অন্যদের চেয়ে বেশি থাকে। মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী নেওয়া সিদ্ধান্ত মানুষের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যর্থতার দায়ভার কমানো সহজ করে। জীবন যুদ্ধে যারা নিজেদের মেধা ও বাস্তব পরিস্থিতিকে সমন্বয় করে পা বাড়ায়, তারাই টেকসই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে পারে।

 

সমাজে বড় ধরণের পরিবর্তন আনতে হলে হুজুগে গা ভাসানো বন্ধ করা জরুরি। রাষ্ট্র সংস্কার বা ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার—সব জায়গাতেই পরিস্থিতি পরিবর্তনের সাথে সাথে সিদ্ধান্তের খোলস পাল্টানোর মানসিকতা থাকতে হবে। মূলত ‘একই সূত্র সবার জন্য প্রযোজ্য নয়’—এই সত্যটি মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজালে যেকোনো বড় সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।