দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনের মাঠে থাকা বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করেও থামাতে পারছে না বিএনপি। আলোচনায় ডেকেও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে তাদের কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাচ্ছে না দলটি। প্রায় অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বিদ্রোহী অবস্থানে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দল মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থীরা।
ঢাকা-১২ আসনে মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরবকে প্রথমে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু পরে জোটের সমীকরণ বিবেচনায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হকের জন্য ছেড়ে দেয় আসনটি।
এতে ক্ষুব্ধ সাইফুল আলম নীরব স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন। দল সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধেই নেমেছেন ভোটযুদ্ধে।
ঢাকা-১২ আসনের এই স্বতন্ত্র প্রার্থী বললেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিন্তু দলের নেতাদের নির্বাচন নয়। নেতা হয়তো ১৫-২০ জন। এটা জনগণের নির্বাচন, জনগণের চাপের মুখে দাঁড়িয়েছি। যা করবো আমি জনগণের কথামতোই করবো। এখানে অন্য কোনও কথার কোনও সুযোগ নাই।
এছাড়া, কোনো কোনো এলাকায় আগে থেকেই জোটসঙ্গীদের সাথে দ্বন্ধ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের। চূড়ান্ত মনোনয়নের পর সেই দ্বন্ধ আরো বেড়েছে। বিএনপি জোটসঙ্গীদের প্রার্থী করলেও তা না মেনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মনোনয়নবঞ্চিতরা।
এদের মধ্যে নয়জনকে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিনে দল থেকে বহিস্কার করে কঠোর বার্তা দেয় বিএনপি। সমঝোতার জন্য আলোচনায়ও ডাকে। তবে ব্রাক্ষণবাড়িয়া-৬ আসনের প্রার্থী আবদুল খালেক ছাড়া এতে কেউ সাড়া দেয়নি।
পটুয়াখালী-৩ এর স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বলেছেন, পার্টি অফিস ভেঙে দেয়া হয়েছিল, নেতাকর্মীদেরকে মেরে রক্তাক্ত করা হয়েছিল। থানা বিএনপি বললেই সাধারণ ভোটাররা গণঅধিকারকে ভোট দেবে, এই চিন্তা অবান্তর। পটুয়াখালী-৩-এ কমপক্ষে পাঁচ লাখ জনগণ আছে, তাদের সঙ্গে মুনাফিকি করে আমার ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনীতি করা সম্ভব না। সুতরাং রাজনীতি করি আর না করি, জনগণের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নাই।
শুধু জোটপ্রার্থী নয়, ধানের শীষের প্রার্থীদের বিরুদ্ধেও নির্বাচন করছেন বিএনপির বিদ্রোহী নেতারা। এতে তৃণমূলের নেতারা বিভক্ত হয়ে পরেছে। ঘটছে সংঘর্ষও।
নাটোর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী দাউদার মাহমুদ বলেন, আমি মনে করি, আমি বিএনপির পক্ষেই ভোট করছি। কারণ, এখানে আমি ভোট না করলে যাকে ধানের শীষ দিয়েছে, সে হেরে যাবে। তাহলে আমার দল হেরে যাবে। আমার বিশ্বাস যে তারা চিন্তা করে আমাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। তারপরও দল যদি সিদ্ধান্ত না নেয়, সেক্ষেত্রে আমাদের তো কিছু করার নেই।
এমন প্রেক্ষাপটে দলীয় ও বিদ্রোহীদের লড়াইয়ে ভোট ভাগ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এই বাস্তবতায় ঢাকায় ডেকে এনে বিদ্রোহীদের সাথে কথা বলছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ নিয়ে অঞ্চলভিত্তিক কমিটিও করেছেন। কিন্তু হাতে গোনা ও কম গুরুত্বপূর্ণ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহারে সম্মত হলেও বাকিরা এখনও অনঢ়।
তবে বিএনপর শীর্ষ নেতাদের বিশ্বাস, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সংখ্যা সন্তোষজনক পর্যায়ে নেমে আসবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাজনীতিতে শেষ কোনো শব্দ নাই। এটা একটা জায়গা পর্যন্ত থাকবে। আর মনোনয়নের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দেখবেন সবাই দলের মনোনীত প্রার্থীর সাথেই থাকবে এবং কাজ করবে। স্বাভাবিকভাবে দলের যে গঠনতন্ত্র, সে হিসেবে তো ব্যবস্থা নিতেই হয়। কারণ, দলের শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে তো কোনো রাজনীতি হবে না।
বিএনপি বলছে, দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে বিদ্রোহীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করলে ভবিষ্যতে তাদের নানাভাবে মূল্যায়ন করা হবে।