বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন একটি ছাত্র সংগঠন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুপ্ত রাজনীতি করার সুফল ভোগ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, বহু বছর আমাদের ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাসেই ঢুকতে পারেনি। যারা এখন ছাত্র সংসদে নির্বাচিত হয়েছেন, তারা গোপনে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। এটা আমরা সমর্থন করি না।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, একটি ছাত্র সংগঠন আগের সরকারে থেকে গুপ্ত রাজনীতি করেছে। ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তারা সেই সুফল ভোগ করছে। কিন্তু এই কৌশলকে আমরা কখনোই ভালো কৌশল হিসেবে মনে করি না। সেই কৌশল আমরা গ্রহণ করিনি। কাজেই সেই কৌশলের ফল আমরা আশা করি না।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ঢাকায় অবস্থিত বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটির উদ্যোগে জিয়া উদ্যানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবন নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এসব বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যে (বেগম খালেদা জিয়া) মানুষটা সারাজীবন লড়াই করেছেন মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য, তার সেই লড়াই সংগ্রাম তরুণদের জানাতে হবে। খালেদা জিয়া যা রেখে গেছেন তা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। তার সন্তান তারেক রহমানকে রেখে গেছেন যিনি রাজনীতির অনেক বড় অংশীদার। তারেক রহমানের বাবা স্বাধীনতার ঘোষক। তিনি তার বাবা ও মায়ের আদর্শ ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাবেন। তার মা যেখানে শেষ করেছেন সেখান থেকে শুরু করবেন।
খুব শিগগিরই বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনা আরেকটা বিষয়, আর ইশতেহারটা একটা রাজনৈতিক ব্যাপার। এটার জন্য আলাদা টিম কাজ করছে। আমার ধারণা, খুব শিগগিরই হবে। কিন্তু এটা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কাজ না।
এসময় নজরুল ইসলাম খান বলেন, খুব শিগগিরই বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা করা হবে। বিদ্রোহীদের দলের সিদ্ধান্ত মেনে, নিজস্ব মনোনয়ন প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে, আমরা আশাবাদী আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় হবে।
জাতীয় নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা প্রার্থী হয়েছে, সে বিষয়টি দেখা বা সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব কিন্তু দলেরই, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির না। আমরা তাদের আহ্বান জানিয়েছি, দলের সিদ্ধান্তের প্রতি যেন তারা শ্রদ্ধাশীল হয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। আশা করছি, তারা প্রত্যাহার করবেন। অনেকেই ইতোমধ্যে আমাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের কথাও জানিয়েছেন। সেজন্য আমি মনে করি, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়ের মধ্যেই এই পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়া, উন্নত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে কোনো সন্দেহ নেই। এটা আমরা অনেক আগে থেকেই বলে আসছি এবং সরকারকে আমরা বলেছি তারা যেন এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়। এ ব্যাপারে আমাদের যে সহযোগিতা করা প্রয়োজন, আমরা তা করতে রাজি হয়েছি এবং আমরা সেটা করছি। কিন্তু দৈনন্দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব কিন্তু সরকারের। এ ব্যাপারে সরকারকে আগেও আমরা আহ্বান জানিয়েছি এবং আবার আহ্বান জানাব যে, তারা যেন অত্যন্ত সক্রিয় হয় এবং কৌশলী হয়। আশা করি, সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির উন্নতি হবে।