Image description

আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেরপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনি মাঠ। দীর্ঘদিন পর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের সম্ভাবনায় ভোটারদের মধ্যে যেমন আগ্রহ বাড়ছে, তেমনি প্রার্থীরাও গণসংযোগ ও প্রচারে পার করছেন ব্যস্ত সময়। আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠে না থাকায় শেরপুরে মূল লড়াই হতে যাচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে। বিএনপির ভেতরে মনোনয়ন ঘিরে বিভক্তি থাকলেও জামায়াত রয়েছে তুলনামূলকভাবে ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় শেরপুরের তিনটি আসনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। দীর্ঘদিন পর অবাধ ও সরাসরি ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন—এমন প্রত্যাশা থেকেই ভোটারদের আগ্রহ বাড়ছে। তাদের মতে, সুষ্ঠু ভোট হলে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিরাই সংসদে যাবেন।

 

 

শেরপুর-১ (সদর)

১৯৭৯ সালে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন খোন্দকার আব্দুল হামিদ। পরে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এমপি হন বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। এরপর দীর্ঘদিন আসনটি বিএনপির দখলে নেই।

এবার এই আসনে সাত প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হলেন শেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা। তিনি তার নির্বাচনি এলাকায় ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এলাকার উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধানের শীষে ভোট চাইছেন। অপরদিকে বিএনপির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম মাসুদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জামায়াতের প্রার্থী হলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। নির্বাচনি প্রচারে তিনি এলাকায় ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। এছাড়া মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) লিখন মিয়া। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির মাহমুদুল হক মনি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা শফিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ইলিয়াস উদ্দিন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও ঋণখেলাপিসহ একাধিক কারণে তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।

 

শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী)

২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির টিকিটে এমপি নির্বাচিত হন সাবেক হুইপ জাহেদ আলী চৌধুরী। এরপরের নির্বাচন থেকে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া। এই আসনে এবার পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী। অপরদিকে বিএনপির আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী ইলিয়াস খান দলীয় মনোনয়ন ছাড়াই প্রার্থী হয়েছেন। তবে দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিলের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাদের উভয়ের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হয়েছেন দলের জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া ভিপি। নির্বাচনি প্রচারে তিনি তার আসনের সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড চষে বেড়াচ্ছেন। এছাড়া এই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বেলাল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী দলটির নালিতাবাড়ী উপজেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল-কায়েস। এর মধ্যে ঋণখেলাপিসহ একাধিক কারণে জাতীয় পার্টির রফিকুল ইসলাম বেলালের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

 

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী)

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল এ আসনে এমপি নির্বাচিত হন। এটাই ছিল বিএনপির টিকিটে সর্বশেষ কারো এমপি হওয়া। এই আসনে এবার চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও তিনবারের সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে সক্রিয়। বিএনপির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী আমিনুল ইসলাম বাদশা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ আসনে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী হয়েছেন শেরপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুজ্জামান বাদল। তিনিও নির্বাচনি প্রচারে এলাকায় ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। এছাড়া এই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি আবু তালেব মো. সাইফুদ্দীন।