গুলশানে চাঁদাবাজির ঘটনায় বহুল আলোচিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তথাকথিত সমন্বয়ক আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলায়মান রিয়াদ সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মুক্তির পর পরই ভোটের প্রচারণায় নেমেছেন তিনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তির পক্ষে প্রচারণায় রয়েছেন। তার সহযোগী আতিক শাহরিয়ার ও মঞ্জু এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টও দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদ-এর বাসায় চাঁদাবাজির ঘটনায় গত জুলাইয়ে আটক হন তথাকথিত সমন্বয়ক এই রিয়াদ। এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার সংবাদ জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হলে সেখানে স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে, উক্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং পরিকল্পনাকারী হিসেবে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আতিক শাহরিয়ার ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মঞ্জু সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল। তবে পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে ওই সব সংবাদ বিভিন্ন পোর্টাল থেকে ডিলিট করে দেওয়া হয়।
অথচ ঘটনার দিন শাম্মীর বাসায় যাওয়ার পূর্বে থানায় তাদের সকলের উপস্থিতির বিষয়টি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল। পরবর্তীতে কৌশলগতভাবে তারা ঘটনাস্থল ও আইনি প্রক্রিয়া থেকে সরে পড়ে এবং পুরো ঘটনার দায় এককভাবে রিয়াদের ওপর বর্তানোর চেষ্টা করা হয়। এর ফলে চাঁদাবাজির ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও পরিকল্পনাকারীরা আড়ালেই থেকে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আতিক শাহরিয়ার কোনো বাস্তব ভূমিকা রাখেননি। বরং ৩ আগস্টের একটি ছবি ব্যবহার করে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কিছু নেতার লেজুড়বৃত্তির মাধ্যমে তিনি নিজেকে জাহির করেন। এর ধারাবাহিকতায় তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব এবং বর্তমানে তথাকথিত সমন্বয়কের পদ দখল করেন।
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, আতিক শাহরিয়ার সরাসরি আওয়ামী লীগের নেতাদের সন্তানসহ একাধিক ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগী ও আন্দোলন বানচালকারীদেরকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। এসব পদায়ন রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি ও অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৭ জুলাই রাতে রিয়াদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তথাকথিত সিনিয়র সহসভাপতি জাকির হোসেন মঞ্জুর ফোনের মাধ্যমে গুলশান জোনের ডিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি ডিসিকে জানান যে, গুলশান থানাধীন ৮৩ নম্বর রোডের ১৩ নম্বর বাসায় আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদ নিজ বাসায় অবস্থান করছেন।
ডিসি তখন জানান যে, বিষয়টি তিনি গুলশান থানার ওসিকে অবগত করেছেন। এরপর রাত আনুমানিক দুইটার দিকে রিয়াদ, মঞ্জু, জানে আলম অপু, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাবাব হোসেন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আতিক শাহরিয়ার, সাদাকাউম সিয়াম, তানিম ওয়াহিদসহ আরও কয়েকজন গুলশান থানায় উপস্থিত হন।
সেখানে ওসি তাদের জানান, এত রাতে গুলশান সোসাইটির ভেতরে অভিযান চালানো সম্ভব নয় এবং ফজরের আজান পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। পরবর্তীতে গুলশান থানার একটি টিম তাদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ১৭ জুলাই থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত শাম্মী আহমেদের বাসায় আরও একাধিকার চাঁদাবাজি হয়। ২৬ জুলাই থানায় মামলা দায়ের হয়। চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতারকৃত রিয়াদ স্বাকরোত্তিমূলক জবানবন্ধিও দেন।
জানা যায়, আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলায়মান রিয়াদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সমন্বয়ক ছিলেন না। বরং ৫ আগস্টের সময় তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে অভ্যুত্থানের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক মূল নেতৃত্ব তাকে সেখান থেকে বের করে দেয়। তবে পরবর্তীতে আতিক শাহরিয়ার ও মঞ্জুদের নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে রিয়াদ পুনরায় স্থান পান।
তাদের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায়ই রিয়াদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে আসে, যার প্রমাণ হলো জাতীয় দৈনিক ও অনলাইনে প্রকাশিত খবর।
শীর্ষনিউজ