জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (জকসু) নির্বাচনের ফল ঘোষিত হয় বুধবার (৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে। প্রধান তিনটি পদসহ সেখানকার বেশিরভাগ পদেই বিজয় লাভ করে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। অভ্যুত্থানের পর এই নিয়ে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়া ছাত্রসংসদ নির্বাচনে একক আধিপত্য দেখিয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। ছাত্রসংসদগুলোর এই ‘শিবির ইফেক্ট’ এবার জাতীয় নির্বাচনে কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানে এক বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ‘পুনর্গঠন’ এর ঘোষণা দেয় জামায়াত। এর আগে গত অক্টোবরে প্রথমবার গঠন করা হয়েছিল এই কমিটি। পুনর্গঠিত কমিটিতে জায়গা পায় শিবিরের সদ্য বিদায়ী একাধিক সভাপতি। ছাত্রসংগঠনটির বিদায়ী এসব নেতাদের কয়েকজন যুক্ত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গেও। এছাড়া ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান এবং বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা ছিল— এমন ছাত্রনেতাদের ‘গুরুত্বপূর্ণ জায়গা’ দেয়া হয়েছে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে।
২০২০ সালে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পান সিরাজুল ইসলাম। তাকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। ২০২৩ থেকে পরবর্তী তিন বছরে শিবিরের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন যথাক্রমে রাজিবুর রহমান পলাশ, মঞ্জুরুল ইসলাম এবং জাহিদুল ইসলাম। তাদেরকেও সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে পুনর্গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে।
এ ব্যাপারে জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব এবং দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম সময় সংবাদকে বলেন, সবশেষ অনুষ্ঠিত পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা আমাদের ছেলে-মেয়েদের পাশ করিয়েছে। এই নির্বাচনগুলোর পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করা শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতিদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে তাদেরকে ‘গুরুত্বপূর্ণ জায়গা’ দেয়া হয়েছে আমাদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে।
শিবিরের সদ্য বিদায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রশিবিরের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ইসলাম ও বাংলাদেশের বৃহত্তর স্বার্থে যে কোনো জাতীয় ইস্যুতে ‘সহযোগিতা’ করার কথা উল্লেখ্য করা হয়েছে। তাই সৎ, দক্ষ, দেশপ্রেমিক এবং নৈতিক মুল্যবোধে বিশ্বাসী জাতীয় নেতাদের সহযোগিতা করা হবে। সে অনুযায়ী জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী সমঝোতা জোটের যারাই এই চারটি গুণের অধিকারী হবেন তাদেরকে সহযোগিতার জন্য মাঠে থাকবে শিবিরের নেতাকর্মীরা।’
তিনি আরো বলেন, ‘সবশেষ তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে দেশের তরুণ সমাজসহ আপামর জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে তারা দেশের রাজনীতির একটি গুণগত পরিবর্তন প্রত্যাশা করেন এবং সবশেষ অনুষ্ঠিত পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন সেই বার্তাই দিয়েছেন। তরুণ সমাজের এই বার্তা যেন জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে এজন্য সকল দেশপ্রেমিক ও আধিপত্যবাদ বিরোধী শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে প্রত্যাশা করছি।’
যুব ও শ্রমিক উইং কাজে লাগাতে আলাদা ছক:
বৃহস্পতিবার ঘোষিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন দলটির আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। যিনি জামায়াতের যুব শাখারও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া জামায়াতের শ্রমিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমানকেও পুনর্গঠিত কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
আতিকুর রহমান সময় সংবাদকে জানান, জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের যুব ও শ্রমিক সমাজকে নিয়ে আলাদা কিছু ভাবনা রয়েছে। অর্থনীতিতে তাদের অবদানকে আমরা নতুন বাংলাদেশে আরো বেশি গুরুত্ব দিতে চাই। আমাদের চিন্তাভাবনা যেন এই যুব ও শ্রমিক শ্রেণীর মানুষেরা আরো ভালোভাবে গ্রহণ করে এজন্য দলের কর্মী বাহিনীকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।’
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুমকে আহ্বায়ক এবং আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমকে সদস্যসচিব করে এ কমিটি গঠন করা হয়। এটিএম মাছুম সবশেষ দলটির আমির এবং মজলিশে শূরা সদস্য নির্বাচন পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন এডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল, মোবারক হোসাইন,এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, এডভোকেট আতিকুর রহমান। এই চারজন জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন। ১১ দলীয় জোটের শরিকদের আসন ছাড় দেওয়ার কারণে তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।
এছাড়া সাবেক আমলাদের মধ্যে জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে দায়িত্ব পালন করবেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব খন্দকার রাশেদুল হক, সাবেক সিনিয়র সচিব মু. সফিউল্লাহ, সাবেক সচিব আব্দুল কাইয়ুম, এবং সাবেক সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন।
কয়েকজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তাকেও নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে রাখা হয়েছে। তারা হলেন— ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) গোলাম মোস্তফা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সফিকুল ইসলাম, মেজর (অব.) মুহাম্মদ ইউনুস আলী শাহজাহান।