Image description

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে সরকার সব ব্যবস্থাই নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেছেন , নির্বাচনে কোনো একটি দলের প্রতি ঝুঁকে পড়ার অভিযোগ সঠিক নয়। কোনো দল বা ব্যক্তির প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। কেউ কেউ হয়তো বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণাকে ভিন্নভাবে দেখছেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ময়মনসিংহ নগরীর শিববাড়ি মন্দির পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুল আলম বলেন, প্রকৃত অর্থে তিনি (খালেদা জিয়া) একজন জাতীয় নেত্রী ছিলেন। তিনি শুধু বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন পুরো বাংলাদেশের নেত্রী। সে কারণেই রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শোক বইয়ে অনেকেই স্বাক্ষর করছেন, এটিকে কেন্দ্র করেই দু-একজন এমন মন্তব্য করছেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে যা যা করণীয়, সবই করা হচ্ছে। কোনো দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। বড় দল হোক কিংবা ছোট দল, সবার জন্য সুযোগ সমান। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে দুয়েকজন কিছু কথা বলছেন। তবে আমরা দৃশ্যমান এমন কিছু দেখছি না, যার ভিত্তিতে বলা যায় যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। এখন প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলছে। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে। এখনো নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট ভালো পরিবেশ রয়েছে। প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন। আমরা সব জায়গায় নির্বাচনের আমেজ দেখছি।

প্রেস সচিব বলেন,  সামনে নির্বাচন আসছে। আমরা সবাই যেন ভালোভাবে ভোট দিতে পারি। আমি মুসলমান বলে ভোট দিতে পারব, আর অন্য কেউ পারবে না এমনটি নয়। আমরা আমাদের নৃ-গোষ্ঠী, সনাতনী, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ভাই-বোন এবং এমনকি যারা ধর্ম পালন করেন না, সবাই মিলে একটি ভালো নির্বাচন চাই। আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ চাই। এর জন্য সামনে দুটি বিষয় রয়েছে— একটি সংসদ নির্বাচন এবং আরেকটি গণভোট। দল-মত নির্বিশেষে আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে চাই, যাতে বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিস্ট শাসনের প্রতিষ্ঠা না হয় এবং আমাদের অধিকার সবসময় অক্ষুন্ন থাকে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ পীর-আউলিয়ার দেশ। ইসলাম এ দেশে এসেছে তাদের হাত ধরেই। কিছু মানুষ বিভিন্ন অজুহাতে মাজারে আঘাত হানছে যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বাংলাদেশ একটি সম্প্রীতির দেশ। এ দেশ সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের দেশ। আমার বাংলাদেশ, আপনার বাংলাদেশ, সব মিলেই বাংলাদেশ। একে অপরের মত, পথ, ধর্ম ও বিশ্বাসকে সম্মান করতে হবে। কারও কোনো জায়গায় যেতে ভালো না লাগলে তিনি সেখানে যাবেন না এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ঘৃণা ছড়ানো বা আক্রমণ করা ভয়াবহ। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং এসব ঘটনা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তারপরও কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

মাজারের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগের চেয়ে পুলিশের মনোবল বেড়েছে। মাজারগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষও আগের চেয়ে বেশি সচেতন হচ্ছে।