Image description

বিএনপি'র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গণতন্ত্রের যে মশাল প্রজ্জ্বলন করেছিলেন, তা সারা জীবন বহন করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের সেই মশাল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন বেগম খালেদা জিয়া। সুতরাং তারেক রহমানই দেশের গণতন্ত্রের মশাল বাহক। তার নেতৃত্বেই দেশে আবারও গণতন্ত্রের উত্তরণ ঘটবে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ আপোষহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় জিয়া পরিষদের দোয়া মাহফিল ও শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় খসরু বলেন, আগামীর যে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে তার নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান। তারেক রহমানের দেশ গড়ার যে স্বপ্ন, পরিকল্পনা তা বাস্তবায়নে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একটা পরিবর্তিত বাংলাদেশ উপহার দিয়ে গেছেন।

খালেদা জিয়ার আপসসীন লড়াই সংগ্রাম আন্দোলনের কারণেই দেশ আজ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এই পরিবর্তন আমাদের ধরে রাখতে হবে। তার জন্য নিজেদেরকে পরিবর্তন করতে হবে। সবার আগে দেশকে ভালবাসতে হবে।

বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীনতার উদাহরণ দিতে গিয়ে আমীর খসরু বলেন, রাজনীতিতে পদার্পণ করে সেই স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়া শেষ পর্যন্ত আপসহীন ছিলেন। অথচ আওয়ামী লীগ, জামায়াত ইসলাম সবাই স্বৈরাচার এরশাদের সঙ্গে আপোষ করেছিল।

পাতানো নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। ওয়ান ইলেভেনের সময়ও বেগম খালেদা জিয়া এক চুল আপোষ করেননি। তিনি দেশেই ছিলেন, জেল খেটেছেন। এরপর দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ আমলে তিনি জনগণের অধিকার রক্ষায় লড়াই সংগ্রাম করে গেছেন। জেল খেটেছেন, চিকিৎসা সহায়তা পাননি। মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন কিন্তু অন্যায়ের কাছে আপস করেননি। রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার এই ত্যাগ এই জাতি সারাজীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। তাইতো বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে তার জানাজায়।

খালেদা জিয়া দেশের নারী শিক্ষার অগ্রদূত ছিলেন। তিনি খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি চালু করেছিলেন। দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। মেয়েদের জন্য বৃত্তি, উপবৃত্তি চালু করেছিলেন। সরকারি বেসরকারি সব ক্ষেত্রে মেয়েদের চাকরির সুব্যবস্থা করেছিলেন।

আমীর খসরু বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথ ধরে তারেক রহমানও নারীদের জন্য বিশেষ সম্মানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করেছেন। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে
বাড়ির গৃহকর্তী একটা নির্দিষ্ট অর্থ পাবেন। এর মাধ্যমে সেই নারী নিজের ও পরিবারের জন্য কিছুটা স্বচ্ছলতা আনতে পারবেন। ফার্মাস কাডের মাধ্যমে একজন কৃষক ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের খাল কাটা কর্মসূচিতে মানুষ যেমন স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েছিলেন, ঠিক তেমনি তারেক রহমানের আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের পরিকল্পনায়ও আপনাকে আমাকে সবাইকে স্বেচ্ছাশ্রম দিতে হবে। সবাই মিলেমিশে কাজ করলেই একটা স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।

শীর্ষনিউজ