Image description

পবিত্র কুরআন শরীফের ৩০ পাড়া মুখস্থ করে হয়েছিলেন হাফেজ। রাত পেরলেই পাবেন হাফেজ মর্যাদার পাগড়ি। কিন্তু সেই পাগড়ি আর মাথায় পরা হলো না ওসমানের (১৯)। বেপরোয়া গতির একটি যাত্রীবাহী বাস ওসমানের মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিয়ে কেড়ে নিল তার জীবন।

 

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বড়ব্রিজের ঢালে রোড ডিভাইডারের পূর্ব পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহত ওসমান পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী থানাধীন উত্তরীপাড়া গ্রামের বিল্লাল হাওলাদারের ছেলে। তিনি টেকেরহাট শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা কমপ্লেক্সের পিছনে মাছের আড়ৎ সংলগ্ন বায়তুল নূর ক্যাডেট মাদ্রাসার ছাত্র।

মাদ্রাসা শিক্ষক, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়- সদ্য কুরআনের ৩০ পাড়া সুরা মুখস্থ করে হাফেজ হয়েছেন ওসমান। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তার মাথায় পাগড়ি পরানোর কথা ছিল। এরইমধ্যে বুধবার রাতে মাদ্রাসা থেকে এক হুজুরের মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয় ওসমান ও তার বন্ধু হাসিবুল(১৬)। পরে টেকেরহাট থেকে রাজৈর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন তারা। পথিমধ্যে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রাজৈর বড়ব্রিজের ঢালে রোড ডিভাইডার স্থানে আসলে অপরদিক থেকে বেপরোয়া গতিতে আসা ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তাদের বহনকারী ইয়ামাহা ফেজার মোটরসাইকেলটি ভেঙে গুড়িয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ওসমানের মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে গুরুতর আহত হয় হাসিবুল। 

আহত হাসিবুল রাজৈর উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকার এমদাদুল মোল্লার ছেলে। তিনি একটি প্রাইভেট হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়েছে।

পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ। 

মাদারীপুরের মস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. মামুন আল রশিদ বলেন, লাশটি উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে আমাদের থানায় এনে পরিবারের লোকজনের কাছে লাশটি হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত নেওয়া হবে।