গণ অভ্যুত্থানের পর থেকে ভারতে থাকা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিউটাউনের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বলে তার দলের নেতাকর্মীরা জানান।
ঠান্ডাজনিত জটিলতায় গলায় ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে কলকাতার একটি হাসপাতালে দুই দিন চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
গণ অভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে ভারতে থাকা ওবায়দুল কাদের কলকাতার নিউটাউনের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বলে তার দলের নেতাকর্মীরা জানান।
বাংলাদেশের আদালত ও পুলিশের কাছে পলাতক ওবায়দুল কাদেরের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা যুবলীগের এক নেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরে ঠান্ডাজনিত কারণে গলায় ব্যথা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন ওবায়দুল কাদের। পাশাপাশি দাঁতেও ব্যথা ছিল। এ কারণে দুইদিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সুস্থ হয়ে ওঠায় সোমবার বিকালে তিনি নিউটাউনের বাসায় আসেন।
সোমবার রাতে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তিনি (কাদের) কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ, আজকে শারীরিক অবস্থা অনেকটাই ভালো। তাছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন, চিকিৎসা নিচ্ছেন।”
সরকার পতনের পর থেকে ওবায়দুল কাদের কলকাতায় রয়েছেন বলে দলের নেতাকর্মীরা বলছেন।
আন্দোলন দমাতে সহিংসতা ও প্রাণহানির অভিযোগে বেশ কয়েকটি মামলার আসামি ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
হঠাৎ অসুস্থতার কারণে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ৪ জানুয়ারি (রোববার) সন্ধ্যায় বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানেও যুক্ত হতে পারেননি।
ওই অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান বলেন, “আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গলাব্যথা ও দাঁত ব্যথার কারণে কিছুটা অসুস্থ, তাই তিনি আমাদের আজকের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারছেন না।”
চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি ইনানকেও।
ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে বলপ্রয়োগের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। পরে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে। পরে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান এবং কলকাতায় অবস্থান করছেন বলে খবরে আসে।
তার আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর থেকে প্রথমবারের মত ২৬ মে ইন্টারনেটে ওবায়দুল কাদেরের কণ্ঠ শোনা যায়। ৫ অগাস্ট সরকার পতনের দিন কীভাবে স্ত্রীকে নিয়ে পাঁচ ঘণ্টা এক বাড়ির বাথরুমে লুকিয়ে ছিলেন, সেই গল্প ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দি ওয়াল নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেদিন শুনিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী এই মন্ত্রী।
তার ভাষ্য, সরকারপতনের পরও তিন মাস তিনি দেশে ছিলেন। পরে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সহিংসতা ও প্রাণহানির অভিযোগে দলটির নেতাকর্মীদের মত ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও মামলা হয়েছে। বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।
সাবেক সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়েও অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।
কলকাতায় থাকাকালে মাস কয়েক আগে থেকেও তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা দুর্বল বলে জানিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা।
৭৬ বছর বয়সী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দীর্ঘদিন থেকে হৃদরোগেও ভুগছেন। ২০১৯ সালের মার্চে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তার হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীতে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটি ব্লক স্টেন্টিংয়ের মাধ্যমে অপসারণ করার পর তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও পরে আবার অবনতির দিকে যায়।
ওই সময় ভারতের প্রখ্যাত কার্ডিয়াক সার্জন দেবী প্রসাদ শেঠী ঢাকায় এসে কাদেরকে দেখে যান। তার চিকিৎসার ব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে মাউন্ট এলিজোবেথ হাসপাতালে প্রায় চার মাস চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন তিনি।