জাতীয় স্বার্থ ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে দলমত নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, তর্ক-বিতর্ক হবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে এক থাকতে হবে।
সোমবার বিকেলে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ জানান, বৈঠকে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত (পলিসি) বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে এবি পার্টির প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া এবং ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি।
ব্রিফিংয়ে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের রাষ্ট্রসত্তা ও জাতি গঠনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেটিই বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতি ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের ভিত্তি হওয়া উচিত। সেই কাঠামোর মধ্যেই আমরা সবাই রাজনীতি করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, দিল্লির আধিপত্যবাদের প্রশ্নে, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে সবাইকে দলমত নির্বিশেষে একমত থাকতে হবে। তবে নীতিগত বিভিন্ন ইস্যুতে ভিন্নমত থাকবে, এটাই গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বাভাবিক অধিকার।
বৈঠকে বাংলাদেশে একটি ওয়েস্টমিনস্টার মডেলের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় বলে জানান তিনি। পাশাপাশি নীতিগত আলোচনার মধ্যে ঢাকা শহরকে আরও বাসযোগ্য করে তোলা, বেকারত্ব হ্রাস, পরিবেশ সুরক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে আসে।
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, তারেক রহমান নীতিগত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে পলিসি ইস্যুতে আলোচনায় বসার আগ্রহও ব্যক্ত করেছেন।
ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না এবং এ বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
এ সময় ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই ঘটনাটি শুধুমাত্র খেলার বিষয় নয়, বরং এটিকে একটি রাজনৈতিক বিষয় হিসেবেও দেখা উচিত।