গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, আগামী সংসদটা হচ্ছে মানুষের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের সংসদ।
আজ শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাঁর প্রার্থিতার বৈধতা ঘোষণার পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপির জোটের প্রার্থী তিনি।
জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমরা আশা করি, একটা ভালো নির্বাচন হবে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। এটা মনে রাখা দরকার, রক্তস্নাত অভ্যুত্থানের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা বাংলাদেশে একটা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথের সূচনা করেছি। এই লড়াইটা অনেক আত্মত্যাগের বিনিময়ে হয়েছে। হাজারো শহীদের রক্ত, তার আগে দীর্ঘ লড়াইয়ে গুম-খুন, মামলা-হামলার মধ্য দিয়ে এই দেশে কীভাবে বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর অত্যাচার হয়েছে, আমরা তা দেখেছি। দেখেছি, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তাঁর ওপর অত্যাচার হয়েছে। ছাত্ররা দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করে রক্ত দিয়ে যে অভ্যুত্থান তৈরি করেছে, তার মূল লক্ষ্য কিন্তু হচ্ছে এই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, নাগরিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা, সুযোগের সমতা তৈরি করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।’
নির্বাচন বিষয়ে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী বলেন, ‘একই সঙ্গে যেমন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, তেমনিভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদেরও নির্বাচন। যে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি হয়েছে, তার ভিত্তিতে আগামী সংসদে আমাদের সংবিধান সংস্কার হবে। তার ভিত্তিতে বাংলাদেশ পরিচালিত হবে। একটা শান্তিপূর্ণ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটে যাঁরাই নির্বাচিত হবেন, তাঁরা যেন সংসদে গিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন, কাজ করতে পারেন, সেই বাস্তবতা তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
বিএনপির বিষয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আগেই বলেছি, বিএনপি কীভাবে এই ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে অংশ নিয়েছে কিংবা গত ১৭ বছর ধরে কী ধরনের অত্যাচারের মুখোমুখি হয়েছে। এত বছর পর তাদের প্রার্থী থাকবে, স্বাভাবিক। আমরা যুগপৎ আন্দোলনের ধারাতে আলোচনা করব। আমরা আশা করি, আলোচনার মধ্য দিয়ে একটা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারব। আমরা আশাবাদী, বাঞ্ছারামপুরে যারা যুগপৎ আন্দোলন করেছি, তাদের মধ্যে ঐক্য থাকবে। সেই ঐক্যের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচন পরিচালিত হবে।’
গণভোট প্রসঙ্গে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘গণভোটের প্রচারে কোনো বাধানিষেধ নেই। আগামীকাল থেকেই প্রতিটি দল আমরা যারা সংস্কারে অংশ নিয়েছি, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই করেছি, প্রত্যেকেরই কর্তব্য হচ্ছে গণভোটের প্রচার করা। একই দিনে দুটি ভোট হওয়ার বিষয়টি সাংঘর্ষিক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’