Image description

গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা গত বছরের ৫ আগস্ট পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন।

দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের মাথায় ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা হারিয়ে এবার ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ঈদ উদযাপন করেছেন আওয়ামী লীগসহ দলটির বিভিন্ন অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সংসদ-সদস্যদের ছোট একটি অংশ কারাগারে। তবে বেশিরভাগ সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং সংসদ-সদস্যরা ভারতসহ বিভিন্ন দেশে নির্বিঘ্নে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। তার মন্ত্রী-এমপিরা ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন।

দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের অনেকে দেশেই মামলা ও গ্রেফতার আতঙ্কে বাড়িছাড়া অবস্থায়।

মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের একটি হাসপাতালে সাবেক চার মন্ত্রীকে একই ফ্রেমে দেখা যায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন-সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রহমান, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং সাবেক মন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী।

জানা গেছে, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাকে দেখতে মঙ্গলবার ওই সাবেক চার মন্ত্রী হাসপাতালে যান। এছাড়া যুক্তরাজ্যের একটি নামকরা রেস্টুরেন্টে জমকালো আয়োজনে ঈদ উদযাপন করতে দেখা গেছে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকে।

তারা সাঙ্গোপাঙ্গদের নিয়ে সেসব অনুষ্ঠানে হাস্যোজ্জ্বল ছবি তুলেছেন, যা মুহূর্তেই নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, দেশকে সংকটে রেখে কীভাবে এসব ফ্যাসিস্ট নেতা বিদেশে এত আয়েশি জীবনযাপন করছেন। পাচারের টাকায় তারা বিলাসী জীবনযাপন করছেন বলেও মন্তব্য করছেন তারা।

এদিকে ভারতে বসে বাংলাদেশে আত্মগোপনে থাকা কর্মীদের এবার ঈদের বকশিশের নামে টাকা পাঠিয়েছেন আওয়ামী লীগের পলাতক নেতারা। মূলত হুন্ডির মাধ্যমে তারা যার যার নির্বাচনি এলাকায় এ টাকা পাঠিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, রাজনীতির মাঠে ফের সক্রিয় হওয়ার অংশ হিসাবে দলটির পলাতক নেতারা তাদের নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকার পরীক্ষিত কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। বিশেষ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়া নেতারাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সরব এবং সক্রিয় ভূমিকায় রয়েছেন। ঈদের লম্বা ছুটিতে দেশের অভ্যন্তরে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তারা প্রয়োজনমাফিক অস্ত্র ও অর্থের জোগান দিয়েছেন ভারতে বসেই। একইসঙ্গে কর্মীদের মনোবল চাঙা রাখতে ঈদ বকশিশের নামে টাকাও পাঠিয়েছেন।

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ৩১ মার্চ দেশের মানুষ ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন। এবার ঈদ উপলক্ষ্যে টানা ৯ দিনের ছুটি পান সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। লম্বা ছুটির ফলে রাজধানী কার্যত ফাঁকা হয়ে যায়। আর এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের পরিকল্পনায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ছক আঁকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ। তাদের সঙ্গে যুক্ত হন আওয়ামী লীগের আরও দুই সংগঠন যুবলীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীরাও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সতর্ক নজরদারির কারণে ঈদকে ঘিরে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিকল্পনা ঠেকানো গেলেও, হুন্ডির মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন ঠেকানো যায়নি।