Image description

গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখের গায়েবানা জানাজার আয়োজন করেছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে জানাজা শুরুর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ করে দেন। এতে এনসিপি ও দলটির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের ২০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন দলটির নেতারা।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বেলা পৌনে ১টার সময় এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহত তৌফিক শেখ (২২) গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের তবিবর রহমান তবির ছেলে। তিনি গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। স্থানীয় লায়লা স্টাইলস লিমিটেড পোশাক কারখানার কাটিং বিভাগে জুনিয়র লে-ম্যান হিসেবে কাজ করতেন।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আলী নাসির খান বলেন, গায়েবানা জানাজার কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। এতে তাদের ২০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহার ফকির, গাজীপুর জেলা এনসিপির সদস্যসচিব আবুল কাশের মাস্টার, জাতীয় শ্রমিক শক্তির যুগ্ম সদস্যসচিব শেখ রায়হান, গাজীপুর মহানগর যুবশক্তির মুখ্য সংগঠক জিল্লুর রহমান, শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সদস্য শেখ সাহানা, যুবশক্তির কোনাবাড়ি থানার মুখ্য সংগঠক রকিবুল ইসলাম জয়, কালিয়াকৈর উপজেলা এনসিপির সদস্য আকরাম হোসেন এবং কোনাবাড়ি থানা যুবশক্তির সদস্যসচিব জামান ঢালি।

পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে হামলায় আহত হন তৌফিক শেখ। পরে রাজধানীর উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় পূর্বঘোষিত গায়েবানা জানাজার আয়োজন করে এনসিপি। জানাজার আগে এনসিপি ও শ্রমিক শক্তির কয়েকজন নেতা বক্তব্য দেন। পরে কেন্দ্রীয় নেতা আলী নাসির খানের বক্তব্য শেষে জানাজা শুরু করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। দলটির নেতাকর্মীরা বাধা উপেক্ষা করে জানাজা পড়তে চাইলে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেন বলে অভিযোগ করেন এনসিপির নেতারা।

আলী নাসির খান বলেন, তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখের মৃত্যুর বিচার দাবি এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় গায়েবানা জানাজার আয়োজন করেছিলেন। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছিলেন। কিন্তু তাদের জানাজা পড়তে না দিয়ে হামলা করা হয়েছে।