Image description

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিদেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের একটি অংশ কলকাতাকেন্দ্রিক যোগাযোগ ও তৎপরতা বাড়িয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে সেখানে বসেই দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং দেশে ফেরার সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা আগামী ৭ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে পরিকল্পনা করছেন। তবে তার দেশে ফেরার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ফজলে এলাহী আকবর বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার ফেরার মতো অনুকূল বাস্তবতা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে তিনটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে- নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার আপিলের সুযোগ তৈরি করা। এ ছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমর্থন আদায়ের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব পরিকল্পনার স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।


একই সময়ে নভেম্বরজুড়ে নাশকতা ও সহিংসতা সৃষ্টির সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। যদিও এ ধরনের পরিকল্পনার বিষয়ে প্রকাশ্য ও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্যের ঘাটতি রয়েছে।


কলকাতাকে ঘিরে প্রবাসী নেতাকর্মীদের তৎপরতা
গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি- ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশ সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতার সাথে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। তাদের কেউ কেউ সেখানে পৌঁছেছেন, আবার কেউ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভৌগোলিক নৈকট্য, ভাষাগত সুবিধা এবং বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগের সুযোগের কারণে কলকাতাকে সমন্বয়কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সূত্রগুলোর ভাষ্য।


দলটির সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের একটি অংশের ধারণা, ডিসেম্বরকে সামনে রেখে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানো প্রয়োজন। তবে কর্মসূচির ধরন, অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা এবং সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


সূত্রগুলোর দাবি, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময়কে কেন্দ্র করে বিদেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে নতুন করে সক্রিয় হওয়ার আলোচনা চলছে। তবে রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ এবং সহিংসতা বা নাশকতার পরিকল্পনা- দু’টি বিষয়কে এক করে দেখার সুযোগ নেই। নাশকতার অভিযোগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।


সীমান্তঘেঁষা এলাকায় অবস্থানের পরিকল্পনা
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী আপাতত বাংলাদেশে প্রবেশ না করে যশোরের বেনাপোল-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন। এর উদ্দেশ্য হিসেবে দেশের ভেতরে থাকা দলীয় সংগঠন ও সমর্থকদের সাথে যোগাযোগ রাখা এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা বলা হচ্ছে।
বেনাপোল বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর। এ কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা বা সন্দেহজনক চলাচলের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নজরদারি বাড়ানো স্বাভাবিক। তবে সীমান্তঘেঁষা এলাকায় অবস্থানের পরিকল্পনা সম্পর্কে যেসব দাবি করা হচ্ছে, সেগুলোর স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন নেতাকর্মী ভারতীয় দূতাবাসে আবেদন করার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। তবে আবেদনের ধরন, উদ্দেশ্য ও আবেদনকারীর সংখ্যা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
নভেম্বর ঘিরে নাশকতার আশঙ্কা


গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, নভেম্বর মাসে কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশের সুযোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, স্থাপনা ও যানবাহনকে লক্ষ্য করে সহিংসতা ঘটানোর পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু নেতাকর্মীর তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তবে সম্ভাব্য হামলা, লক্ষ্যবস্তু কিংবা পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে প্রকাশ্য যাচাইযোগ্য তথ্য না থাকায় এসব দাবিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
এরই মধ্যে গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি, বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল এবং গোপন বৈঠকের খবর নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নজরে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। এসব ঘটনার প্রকৃতি, উদ্দেশ্য ও সাংগঠনিক সংশ্লিষ্টতা নির্ধারণে পৃথকভাবে তথ্য যাচাই প্রয়োজন।


গত সোমবার সুনামগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির ২৮ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বাংলাবাজার, মঙ্গলহাটা ও হাসিমারা নদীসংলগ্ন সীমান্ত দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে। একই পথে পুশইনের চেষ্টাও বন্ধ করা হয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। এ বিষয়ে বিজিবির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার বিস্তারিত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে আরো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।


‘এখনো ফেরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি’
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ফজলে এলাহী আকবর বুধবার নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফিরে আসার বিষয়টি নিয়ে আমি এখনো নিশ্চিত নই। এ ধরনের কিছু করতে হলে যে পরিস্থিতি প্রয়োজন, বাংলাদেশে তা এখনো তৈরি হয়নি।’


বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় তার মনে হয় না যে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগের কিছু বিচ্ছিন্ন কর্মকাণ্ড হতে পারে; কিন্তু সরকারকে উৎখাত বা বিব্রত করার মতো কোনো আন্দোলন কিংবা প্রক্রিয়া গড়ে ওঠার পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি বলে তিনি মনে করেন।


ফজলে এলাহী আকবর বলেন, ‘এগুলো মূলত মিডিয়া সাইকোলজিক্যাল ওয়ার, অর্থাৎ মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চলছে। বাস্তবতা এর চেয়ে ভিন্ন।’
তবে এমন পরিস্থিতিতে সরকারকে সতর্কতামূলক ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তার মতে, কোনো হুমকির কারণে সরকারের স্বাভাবিক কার্যক্রম থেমে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির নজরদারি বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচার চালানো হলে তার উৎস ও উদ্দেশ্য যাচাই করা দরকার।
তবে তার মূল্যায়ন হলো, এ ধরনের তৎপরতার খবরের একটি উদ্দেশ্য বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করা এবং জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা হতে পারে। ফলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তথ্য যাচাই ও দায়িত্বশীল যোগাযোগও জরুরি।


শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে একাধিক হিসাব
গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাব্য পরিকল্পনায় কয়েকটি বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগ, নিরাপত্তার ব্যবস্থা এবং দেশে ফেরার পর তার অবস্থান ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলা।
একটি পরিকল্পনা হিসেবে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সমঝোতার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তার নিরাপত্তা, চিকিৎসা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় আপিলের সুযোগের বিষয়গুলো আলোচনায় থাকতে পারে বলে সূত্রগুলোর দাবি।
অন্য একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা হিসেবে সড়কপথে কলকাতা থেকে সীমান্তের দিকে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তবে এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে ভারত বা বাংলাদেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থানও এখানে প্রতিষ্ঠিত নয়।
সূত্রগুলোর দাবি, শেখ হাসিনার নিরাপত্তা ঘিরে বিদেশী পর্যবেক্ষক ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের উপস্থিতির বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তবে পর্যবেক্ষকদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ বা এ ধরনের কোনো উদ্যোগের বাস্তব প্রস্তুতি সম্পর্কে স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।


কলকাতাকেন্দ্রিক তৎপরতার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। ওই বৈঠকে সংবেদনশীল দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, সরকারি পর্যায়ের কয়েকজন ব্যক্তি এবং অন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন উপস্থিত ছিলেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে।


তবে বৈঠকের তারিখ, অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়, আলোচ্যসূচি কিংবা আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সাথে এর প্রত্যক্ষ সম্পর্ক সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এ বৈঠককে দলটির রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করার আগে আরো যাচাই প্রয়োজন।


২০২৮ সালের নির্বাচন নিয়েও ভাবনা
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৮ সালে সম্ভাব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের একটি অংশ দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে। তবে নির্বাচন আদৌ ওই সময়ে হবে কি না, হলে তার সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক কাঠামো কী হবে এবং দলটির অংশগ্রহণের সুযোগ কিভাবে তৈরি হবে- এসব প্রশ্ন এখনো অনিশ্চিত।
এ কারণে বিষয়টিকে আপাতত সম্ভাব্য রাজনৈতিক লক্ষ্য ও আলোচনার পর্যায়েই বিবেচনা করা হচ্ছে।


সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সূত্রগুলোর ভাষ্য, বিদেশে অবস্থানরত কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বৈধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সীমান্ত ব্যবহার করে দেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা এক বিষয় নয়। প্রথমটির ক্ষেত্রে আইনগত অধিকার ও কূটনৈতিক বাস্তবতা বিবেচ্য; দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন।
বিশেষ করে সীমান্তে অনুপ্রবেশ, অবৈধ যাতায়াত, অস্ত্র বা অর্থের সম্ভাব্য প্রবাহ এবং সহিংসতার প্রস্তুতি সম্পর্কে নজরদারি বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে এ ধরনের কোনো তৎপরতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।


কূটনৈতিক সংবেদনশীলতা
কলকাতায় অবস্থান করে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কোনো গোষ্ঠী তৎপর হলে তা ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা। তবে প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ডে রাজনৈতিক যোগাযোগ বা অবস্থান থাকলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সমর্থন প্রমাণ করে না।


এ বিষয়ে ভারত সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ভারতের অবস্থান সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।


সবমিলিয়ে ডিসেম্বরকে সামনে রেখে কলকাতা, সীমান্তবর্তী এলাকা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর তৎপরতা বাড়ার দাবি সামনে এসেছে। তবে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনা, সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কা, সীমান্তঘেঁষা এলাকায় অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যের বড় অংশই সূত্রনির্ভর। এসব পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা এগোবে, তা নির্ভর করবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, প্রতিবেশী দেশের অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।