বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান নেতৃত্বের বিদায়ের পর নতুন কমিটি নিয়ে বাড়ছে আলোচনা ও তৎপরতা। যেকোনো সময় কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদকে ঘিরে ভেতরে-বাইরে চলছে শেষ মুহূর্তের নানা সমীকরণ, লবিং ও আলোচনা। শেষ মুহুর্তে পদপ্রত্যাশী নেতারা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফরের পূর্বেই ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করতে পারেন। তাই যে কোনো সময় ঘোষণা করা হতে পারে ছাত্রদলের কমিটি। ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পদপ্রত্যাশীদের।
সূত্র বলছে, নতুন কমিটি গঠনে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্লিন ইমেজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, শিক্ষার্থী রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির সক্ষমতাকে মূল্যায়ন করা হবে। এদিকে নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে প্রত্যাশা যেমন বাড়ছে, তেমনি রয়েছে নানা সমীকরণও। নেতৃত্ব নির্বাচনে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে এবং কারা নতুন কমিটিতে জায়গা পাবেন, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।
গত ১৩ আগস্ট দিবাগত রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ছাত্রদলের বিদায়ী শীর্ষ পাঁচ নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এতে অংশ নেন ছাত্রদলের বিদায়ী কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, সিনিয়র সহসভাপতি আবু আফসান মো. ইয়াহিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম ও সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান।
সাক্ষাৎকালে তারেক রহমান ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে নেতাদের অবহিত করেন। ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বর্তমান কমিটি থেকে বিদায় নেন সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
তারেক রহমান বিদায়ী নেতৃত্ব ভবিষ্যতে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসবে বলেও আশ্বস্ত করেন। একই সঙ্গে নিয়মতান্ত্রিকভাবে নতুন নেতৃত্ব বের করে আনার ওপর গুরুত্ব দেন। নেতৃত্বের জট তৈরি করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ছাত্রদল সভাপতি ও সম্পাদক বিদায়ী বার্তা দেয়ার পর থেকেই নয়াপল্টন ও গুলশানকেন্দ্রিক রাজনৈতিক অঙ্গনে গত পদপ্রত্যাশীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। কেউ নিজের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরছেন, কেউ আবার জেলা-মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতাদের সমর্থন নিশ্চিত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সভাপতি পদে আলোচনা রয়েছেন
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি পদে বর্তমান কমিটির একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। ২০০৭-২০০৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের বর্তমান সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা শ্যামল মালুম। ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল, মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, এইচ এম আবু জাফর, এজাজুল কবির রুয়েল ও ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালের নাম আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষ থেকে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, মোস্তাফিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমানের নামও সভাপতি পদে সম্ভাব্য হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায়
সাধারণ সম্পাদক পদে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম তারিকের নাম আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ থেকে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন শাওন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলামের নামও আলোচনায় রয়েছে।