Image description

সহকর্মীকে মারধর, অসদাচরণ ও দায়িত্বে অবহেলার একাধিক অভিযোগ রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টারের (বিএফসিসি) জুনিয়র শেফ মো. জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ মারধরের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে তিরস্কার ও দুইটি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বন্ধের দণ্ড দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বিএফসিসির প্রশাসন শাখা থেকে গত ১৫ অক্টোবর জারি করা অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আদেশে জহিরুলের পদবি উল্লেখ করা হয়েছে ‘কমিস-২ (কিচেন)’।

আদেশ অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে তাঁকে তিরস্কার এবং দুইটি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বন্ধের দণ্ড দেওয়া হয়েছে। বন্ধ হওয়া ইনক্রিমেন্ট ভবিষ্যতে আর পাওয়া যাবে না। একই সঙ্গে গত ২ মার্চ জারি করা তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে মারধরের শিকার এক কর্মী বলেন, বিমানের কর্মকর্তারা এমনই, ক্ষমতাসীনদের পক্ষে থাকেন। আমাদের একাধিকবার মারধর করার পর, তদন্তে দোষী প্রমাণ হওয়ার পরও নামমাত্র শাস্তি দিয়ে অপরাধীকে ছেড়ে দেওয়া হলো।

তবে বিভাগীয় তদন্তে কোন কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তা অফিস আদেশে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

এর আগে গত ১১ আগস্ট মারধরের দুটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি আলোচনায় আসে। ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট বিএফসিসির ভেতরে সহকর্মীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি বিমানের প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। সে সময় নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছিলেন জহিরুল।

সর্বশেষ সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের নতুন মহাব্যবস্থাপক শাহনুর আহমেদ বলেন, আমি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিষয়টির ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।

একাধিক অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে ব্যবস্থা

সংশ্লিষ্ট নথির তালিকা অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নয়টি পৃথক ঘটনা বা বিষয়কে কেন্দ্র করে জহিরুলের বিরুদ্ধে ১৯টি নোটিশ, পত্র ও আদেশের উল্লেখ রয়েছে।

২০১২ সালে যাত্রীর খাবারে সিনথেটিক ফাইবার পাওয়ার ঘটনায় তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও সতর্কপত্র দেওয়া হয়। ২০১৩ সালে কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে সতর্ক করা হয়। ২০১৪ সালে কর্তব্যরত এক নিরাপত্তাকর্মীকে মারধরের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত ও অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় ২০১৫ সালে তাঁকে তিরস্কার করা হয়।

২০১৭ সালে ঊর্ধ্বতন সহকর্মীর সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্তের পর তাঁকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। ২০১৯ সালে অনুমতি ও আউটপাস ছাড়া বিএফসিসির বাইরে যাওয়ায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

২০২৩ সালে ফ্লাইটের যাত্রীর খাবারে পোকা পাওয়ার ঘটনায় ব্যাখ্যা চাওয়া ও সতর্ক করা হয়। ২০২৪ সালে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগেও সতর্কপত্র দেওয়া হয়।

২০২৫ সালে এক কর্মীকে পরপর দুটি থাপ্পড় মারার অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও অভিযোগনামা দেওয়া হয়। ওই বছরের নভেম্বরে দুই বছরের জন্য তাঁর পদোন্নতি বন্ধ করা হয়। ২০২৬ সালে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত, কারণ দর্শানোর নোটিশ ও অভিযোগনামা দেওয়া হয়। পরে সেই বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তিরস্কার ও দুইটি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বন্ধের দণ্ড দেওয়া হলো।