গণভোটের স্পষ্ট রায় উপেক্ষা করে সরকারের গঠিত একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটিকে জনগণের সঙ্গে সরাসরি ‘প্রতারণা’ বলে আখ্যায়িত করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ ধরনের একতরফা কমিটির মাধ্যমে কোনোভাবেই চলমান সাংবিধানিক সংকটের সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে এই কমিটি অবিলম্বে বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছে দলটি।
রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন বলেন, সংসদীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় সব রাজনৈতিক দল একমত হয়ে একটি মধ্যমপন্থায় পৌঁছেছিল যে, একটি পূর্ণাঙ্গ ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করা হবে। সেই পরিষদের গঠনমূলক ক্ষমতা থাকবে এবং গণভোটের রায় অনুযায়ী সেই ক্ষমতার ভিত্তিতে সংবিধানের প্রয়োজনীয় পরিবর্তনগুলো টেকসইভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো আইনি বা সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে না হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সেই ঐতিহাসিক ঐকমত্য ও অবস্থান থেকে দূরে সরে গিয়ে একদলীয় প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করেছে।
আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলছি, এই একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি গণভোটের রায়ের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি সংস্কারের উল্টো পথে যাত্রা এবং সংস্কার কার্যক্রমকে নস্যাৎ করে দেওয়ার এক অপচেষ্টা। এ কমিটি কোনোভাবেই দেশের চলমান সাংবিধানিক সংকট নিরসন করতে পারবে না।’
তিনি জানান, গঠিত এই সংসদীয় সংশোধন কমিটিতে অংশ নেওয়ার জন্য এনসিপিকে বারবার আহ্বান জানানো হলেও দলটি তা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এতে কোনোভাবেই অংশ নেবে না।
এনসিপি সদস্যসচিব জোর দিয়ে বলেন, অবিলম্বে এই বিতর্কিত সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করতে হবে এবং গণভোটে জনগণের দেওয়া সুস্পষ্ট রায় অনুসারে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করে সংকটের টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সরকারের একতরফা প্রক্রিয়ায় সাংবিধানিক সংকট আরো গভীর হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।