Image description

তেরঙ্গা হাতে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিলেন। সেই কর্মসূচির আগেই তাকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এক দিনও আটকে রাখা গেল না ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে। 

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিল্লির একটি আদালত শর্তসাপেক্ষে তার মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে। নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কর্মসূচি ঘিরে এই গ্রেফতারি এবং দ্রুত মুক্তি রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে তেরঙ্গা মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানানোই ছিল এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। কিন্তু কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগেই অভিজিৎকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।পুলিশের দাবি, সেন্ট্রাল পার্কে যাওয়ার বিষয়ে অভিজিৎকে আগেই দুটি নোটিস দেওয়া হয়েছিল। কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি না নেওয়া এবং শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থাকায় তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হয়। 

ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ ও ১৭০ নম্বর ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল পুলিশ। তাকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করারও পরিকল্পনা ছিল।পুলিশ আরও অভিযোগ করে, এর আগে শান্তি বজায় রাখার শর্তে ৫০ হাজার টাকার মুচলেকায় সই করেছিলেন অভিজিৎ। এক বছর শান্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও তিনি সেই শর্ত ভঙ্গ করেছেন বলে দাবি পুলিশের।তবে পুলিশের এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ককরোচ জনতা পার্টি। 

দলের অভিযোগ, অভিজিৎকে কোথায় রাখা হয়েছে, তা নিয়ে প্রথম দিকে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। এমনকি আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলেও সমাজমাধ্যমে অভিযোগ জানায় দলটি। তাদের বক্তব্য, হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে চাওয়া অপরাধ হতে পারে না।গ্রেফতারের আগে অভিজিতের বাড়িতে গিয়েছিল পুলিশের একটি দল। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে পুলিশের কাছে নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানতে চাইতে দেখা যায়। পরে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় তাকে পুলিশ ভ্যানে তোলা হয়। 

হাতে তেরঙ্গা নিয়ে অভিজিৎ দাবি করেন, তিনি একা রয়েছেন এবং কোনও আইন ভাঙেননি। তারপরও কেন তাকে আটক করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।শুক্রবার বিকেলে কনট প্লেসে দলের কর্মী সমর্থকেরা জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে প্রায় দুই হাজার মানুষের উপস্থিতির খবর পাওয়া যায়। সন্ধ্যার মধ্যে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা এলাকাটি ফাঁকা করে দেন। বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর না মিললেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদের অধিকার এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

এদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা বর্তমানে তিহাড় জেলে বন্দি রয়েছেন। যন্তর মন্তরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ এবং শান্তিভঙ্গের আশঙ্কার অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে তাদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। তাদের আলাদা উচ্চ নিরাপত্তাবিশিষ্ট ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে বলে জেল সূত্রে জানা গেছে।

অভিজিতের গ্রেফতারি এবং এক দিনের মধ্যে আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার ঘটনা ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই পদক্ষেপ করা হয়েছিল। অন্যদিকে, দলের দাবি, নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দমনের চেষ্টা চলছে।

তবে আদালতের নির্দেশে অভিজিতের মুক্তি মিললেও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে দলের অভিযোগ এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বিতর্ক আপাতত থামছে না।