ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তরে হামলা চালিয়ে নিজেদের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতার জানান দিয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে ইয়েমেনের ভূখণ্ডেও নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে তারা।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গত এক দশকে সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরাইলের ধারাবাহিক বিমান হামলার মুখেও হুথিদের সামরিক শক্তি বেড়েছে। ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও উন্নত অস্ত্রের সহায়তা পাচ্ছে হুথিরা।
হুথিদের হাতে এখন ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং জাহাজবিধ্বংসী অস্ত্রের বিস্তৃত মজুত রয়েছে। এসব অস্ত্র দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশাপাশি ইসরাইলেও হামলা চালানো সম্ভব। তুলনামূলক কম খরচে তৈরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আঘাত হানতে পারছে তারা। বিপরীতে ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে রিয়াদকে।
জাতিসংঘের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হুথিদের যোদ্ধার সংখ্যা ২০১৫ সালের প্রায় ৩০ হাজার থেকে বেড়ে তিন লাখ ৫০ হাজার পর্যন্ত হয়েছে। হুথিরা নিজেদের নিয়ন্ত্রিত দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় যোদ্ধা ও সামরিক সরঞ্জাম ছড়িয়ে রেখে হামলা মোকাবিলার সক্ষমতাও বাড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক হামলায় সৌদি আরবে প্রাণহানি, বিমান চলাচলে বিঘ্ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। এতে ব্যবসা, পর্যটন ও ক্রীড়া খাতের আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার সৌদি পরিকল্পনাও ঝুঁকিতে পড়েছে।
২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। বছরের পর বছর বিমান হামলা চালিয়েও বিদ্রোহীদের উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করা যায়নি। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি হলেও ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাতে শুরু করে হুথিরা। পরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরাইলও হুথিদের ওপর হামলা চালায়।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু বিমান হামলা চালিয়ে হুথিদের পরাজিত করা কঠিন। এজন্য প্রয়োজন স্থল অভিযান ও সমন্বিত সামরিক কৌশল। কিন্তু হুথিবিরোধী ইয়েমেনি শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে বিভক্ত। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহী বলে মনে হচ্ছে।
কূটনৈতিক সমাধানের পথও সংকীর্ণ। সৌদি অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে হুথিরা। রিয়াদের আশঙ্কা, অবরোধ তুলে নিলে হথিরা আরো শক্তিশালী হবে এবং ইরানের প্রভাব বাড়বে। ফলে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে সৌদি আরবের সামনে সামরিক ও কূটনৈতিক—দুই ক্ষেত্রেই কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
সূত্র: এপি