Image description

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তির কঠোর সমালোচনা করে এটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আদেশনামা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন অর্থনীতিবিদ ও লেখক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে জনগণ সরকারকে ক্ষমতায় আনেনি, বরং ট্রাম্পের ভোটে সরকার ক্ষমতায় এসেছে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বহু ত্যাগ ও লড়াই-সংগ্রামের বিনিময়ে অর্জিত একটি দেশে কীভাবে জনগণের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা সবাইকে খেয়াল করতে হবে। কেবল নীরব দর্শক হয়ে থাকলে চলবে না। সরকারকে এ ধরনের গণবিরোধী চুক্তি থেকে সরে আসতে বাধ্য করতে হবে।

পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি এ সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাপনী বক্তব্যে আনু মুহাম্মদ বলেন, মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি আসলে কোনো চুক্তি নয়, এটি ট্রাম্পের আদেশনামা। গণতন্ত্র মানে শুধু ভোট দেওয়া নয়; সরকার কী করছে, তার ওপর জনগণের কর্তৃত্ব কতটা রয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ এখনো সেই কর্তৃত্ব পায়নি।

তিনি বলেন, ব্রিটিশরা নিজেদের শাসন ও শোষণ টিকিয়ে রাখতে একসময় সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি করতো। বর্তমান সরকারও দেশের স্বার্থবিরোধী নানা কর্মকাণ্ড থেকে জনগণের নজর ঘোরাতে কৃত্রিম বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

এ ধরনের চুক্তি থেকে সরে আসতে সরকারকে বাধ্য করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে গবেষক মাহতাব উদ্দীন আহমেদ বলেন, মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বহাল থাকলে দেশের বাণিজ্যিক সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি বাড়তে পারে পণ্যমূল্য ও বেকারত্ব। নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারার পূর্ণাঙ্গ শর্ত ও চুক্তি প্রকাশ না করায় সরকারের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা, গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ আল ক্বাফী রতন, ডা. হারুন অর রশিদ, শ্রমিকনেতা মানস নন্দী ও আখতারুজ্জামান খান সমাবেশে বক্তব্য দেন।

বক্তারা নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা ও মার্কিন বাণিজ্যচুক্তির বিরোধিতা করে বলেন, এসব উদ্যোগ দেশের কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা চুক্তি বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট শর্তাবলি জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান।